নিউইয়র্ক ০৬:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্যানসার আক্রান্ত শিশুদের পাশে মেসি

  • আপডেটের সময় : ০১:১৬:৪৭ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালে ভালোবাসার নগরী বার্সেলোনা ছেড়েছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। মাঠের সবুজ গালিচায় কাতালান ক্লাবটির জার্সিতে এখন আর তিনি দৌড়ান না, কিন্তু সেই শহরের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোর টান এখনো এতটুকু কমেনি। ফুটবলের রাজপুত্র এবার অনন্য মানবিকতার পরিচয় দিয়ে বার্সেলোনায় শিশুদের ক্যানসার নিরাময় হাসপাতাল তৈরিতে বিশাল অঙ্কের অর্থ অনুদান দিয়েছেন। 

ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘ফুট মার্কাটো’-র প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিজের দাতব্য সংস্থা ‘মেসি ফাউন্ডেশন’ এর মাধ্যমে এই বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পে ২৬ লাখ ইউরো অনুদান দিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই সহায়তার পরিমাণ প্রায় ৩৬ কোটি টাকারও বেশি। ভালোবাসার ক্লাবের শহর ছাড়ার এতদিন পরও বার্সেলোনার অসুস্থ শিশুদের হাসিমুখ ফেরাতে ফুটবল জাদুকরের এই ত্যাগ বিশ্ব জুড়ে ভক্তদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।

ফুটবল বিষয়ক প্রভাবশালী মাধ্যম ‘গোল’-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বার্সেলোনায় বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এই প্রকল্পটির নাম ‘এসজেডি পেডিয়াট্রিক ক্যানসার সেন্টার’। শিশুদের ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য নির্মিত এই বিশ্বমানের চিকিৎসাকেন্দ্রটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ইউরো। বিশাল এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি মোট ৫ হাজার ১৩৭ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত থাকবে। হাসপাতালটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলে প্রতি বছর অন্তত ৪০০ জন ক্যানসার আক্রান্ত শিশুকে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা প্রদান করা সম্ভব হবে। 

ক্যানসারে আক্রান্ত শিশুরা যাতে একই ছাদের নিচে সব ধরনের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও আনুষঙ্গিক সেবা পেতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পটি কেবল মেসি একা বাস্তবায়ন করছেন না; বরং মেসি ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যৌথভাবে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, করপোরেট সংস্থা এবং ব্যক্তিগত অনুদানকারীরা এই তহবিলে অবদান রাখছেন।

শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, শিক্ষা ও ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বব্যাপী কাজ করে আসছে লিওনেল মেসির দাতব্য প্রতিষ্ঠান। মেসি ফাউন্ডেশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে উল্লিখিত তথ্যানুযায়ী, এই সংস্থাটি শিশুদের লিউকেমিয়া রোগের গবেষণায় নিয়মিত আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। এছাড়া আর্জেন্টিনায় মেসির জন্মস্থান রোসারিওর স্থানীয় হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রদান করে থাকে এই প্রতিষ্ঠান। আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিকে শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূর করতে ও মারাত্মক অপুষ্টিজনিত সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করছে তার সংস্থা।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

অস্ট্রেলিয়ার দক্ষ কর্মী ভিসায় নতুন নীতি, পেশা ও অবস্থান বিবেচনায় অগ্রাধিকার

কখন যে পুরো দেশটাকেই উড়িয়ে দেব: ট্রাম্প

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ক্যানসার আক্রান্ত শিশুদের পাশে মেসি

আপডেটের সময় : ০১:১৬:৪৭ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালে ভালোবাসার নগরী বার্সেলোনা ছেড়েছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। মাঠের সবুজ গালিচায় কাতালান ক্লাবটির জার্সিতে এখন আর তিনি দৌড়ান না, কিন্তু সেই শহরের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোর টান এখনো এতটুকু কমেনি। ফুটবলের রাজপুত্র এবার অনন্য মানবিকতার পরিচয় দিয়ে বার্সেলোনায় শিশুদের ক্যানসার নিরাময় হাসপাতাল তৈরিতে বিশাল অঙ্কের অর্থ অনুদান দিয়েছেন। 

ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘ফুট মার্কাটো’-র প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিজের দাতব্য সংস্থা ‘মেসি ফাউন্ডেশন’ এর মাধ্যমে এই বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পে ২৬ লাখ ইউরো অনুদান দিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই সহায়তার পরিমাণ প্রায় ৩৬ কোটি টাকারও বেশি। ভালোবাসার ক্লাবের শহর ছাড়ার এতদিন পরও বার্সেলোনার অসুস্থ শিশুদের হাসিমুখ ফেরাতে ফুটবল জাদুকরের এই ত্যাগ বিশ্ব জুড়ে ভক্তদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।

ফুটবল বিষয়ক প্রভাবশালী মাধ্যম ‘গোল’-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বার্সেলোনায় বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এই প্রকল্পটির নাম ‘এসজেডি পেডিয়াট্রিক ক্যানসার সেন্টার’। শিশুদের ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য নির্মিত এই বিশ্বমানের চিকিৎসাকেন্দ্রটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ইউরো। বিশাল এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি মোট ৫ হাজার ১৩৭ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত থাকবে। হাসপাতালটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলে প্রতি বছর অন্তত ৪০০ জন ক্যানসার আক্রান্ত শিশুকে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা প্রদান করা সম্ভব হবে। 

ক্যানসারে আক্রান্ত শিশুরা যাতে একই ছাদের নিচে সব ধরনের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও আনুষঙ্গিক সেবা পেতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পটি কেবল মেসি একা বাস্তবায়ন করছেন না; বরং মেসি ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যৌথভাবে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, করপোরেট সংস্থা এবং ব্যক্তিগত অনুদানকারীরা এই তহবিলে অবদান রাখছেন।

শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, শিক্ষা ও ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বব্যাপী কাজ করে আসছে লিওনেল মেসির দাতব্য প্রতিষ্ঠান। মেসি ফাউন্ডেশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে উল্লিখিত তথ্যানুযায়ী, এই সংস্থাটি শিশুদের লিউকেমিয়া রোগের গবেষণায় নিয়মিত আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। এছাড়া আর্জেন্টিনায় মেসির জন্মস্থান রোসারিওর স্থানীয় হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রদান করে থাকে এই প্রতিষ্ঠান। আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিকে শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূর করতে ও মারাত্মক অপুষ্টিজনিত সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করছে তার সংস্থা।

Share this news as a Photo Card