নিউইয়র্ক ০৭:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজা যুদ্ধ নিয়ে জাতিসংঘে তীব্র চাপের মুখে ইসরায়েল

  • আপডেটের সময় : ০৩:২৮:১০ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে গাজা যুদ্ধ ইস্যুতে বিশ্বনেতারা তীব্র সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছেন। গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানেরা। দিন দিন বাড়তে থাকা এই সহিংসতার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মারাত্মক কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে ইসরায়েল।

অধিবেশনে অনেক নেতা গাজার পরিস্থিতিকে যুদ্ধাপরাধ, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, গণহত্যা এমনকি কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের সঙ্গে তুলনা করেছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ৭ অক্টোবরের হামাস হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো ধ্বংসযজ্ঞেরও সমালোচনা করেন তিনি। পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ও সহিংসতা জাতিগত নির্মূলের ঝুঁকি তৈরি করছে বলে সতর্ক করেছেন গুতেরেস।  

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান গাজাকে ‘শিশুদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় কবরস্থান’ এবং ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্প’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। কাতার ও জর্ডানের নেতারা একে গণহত্যা এবং ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেন। কাতারের আমির অবিলম্বে ইসরাইলি সামরিক অভিযান বন্ধ ও গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।  

শুধু আরব বা মুসলিম দেশগুলোই নয়, পশ্চিমা মিত্ররাও ইসরায়েলের নীতির সমালোচনায় সোচ্চার হয়েছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গাজায় মানবিক করিডোর না খোলার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি নীতি নিরাপত্তা বাড়ানোর বদলে উল্টো হুমকি বাড়াচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীও ৭ অক্টোবরের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ হামলা গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের চলমান কর্মকাণ্ডকে কোনোভাবেই বৈধতা দেয় না। ব্রাজিল, সিরিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের নেতারাও কঠোর ভাষায় ইসরায়েলি সরকারের সমালোচনা করেছেন।  

বক্তৃতার মঞ্চের বাইরেও এই ক্ষোভ বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। কাতার, মিশর ও জর্ডানসহ আরব ও মুসলিম বিশ্বের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গাজার মানবিক সংকট নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছেন। এর পাশাপাশি ব্রিটেন, ফ্রান্স ও কানাডাসহ ১২টি পশ্চিমা দেশ ইসরায়েলি বসতি এলাকা থেকে আসা পণ্যের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের পদক্ষেপ নিয়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

‘দাঁড়াও, এখানে কী করো তুমি?’—সিএনএন সাংবাদিককে ট্রাম্প

ধরা পড়া মার্কিন ডুবো ড্রোনের প্রযুক্তি নকল করবে ইরান

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

গাজা যুদ্ধ নিয়ে জাতিসংঘে তীব্র চাপের মুখে ইসরায়েল

আপডেটের সময় : ০৩:২৮:১০ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে গাজা যুদ্ধ ইস্যুতে বিশ্বনেতারা তীব্র সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছেন। গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানেরা। দিন দিন বাড়তে থাকা এই সহিংসতার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মারাত্মক কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে ইসরায়েল।

অধিবেশনে অনেক নেতা গাজার পরিস্থিতিকে যুদ্ধাপরাধ, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, গণহত্যা এমনকি কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের সঙ্গে তুলনা করেছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ৭ অক্টোবরের হামাস হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো ধ্বংসযজ্ঞেরও সমালোচনা করেন তিনি। পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ও সহিংসতা জাতিগত নির্মূলের ঝুঁকি তৈরি করছে বলে সতর্ক করেছেন গুতেরেস।  

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান গাজাকে ‘শিশুদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় কবরস্থান’ এবং ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্প’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। কাতার ও জর্ডানের নেতারা একে গণহত্যা এবং ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেন। কাতারের আমির অবিলম্বে ইসরাইলি সামরিক অভিযান বন্ধ ও গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।  

শুধু আরব বা মুসলিম দেশগুলোই নয়, পশ্চিমা মিত্ররাও ইসরায়েলের নীতির সমালোচনায় সোচ্চার হয়েছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গাজায় মানবিক করিডোর না খোলার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি নীতি নিরাপত্তা বাড়ানোর বদলে উল্টো হুমকি বাড়াচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীও ৭ অক্টোবরের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ হামলা গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের চলমান কর্মকাণ্ডকে কোনোভাবেই বৈধতা দেয় না। ব্রাজিল, সিরিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের নেতারাও কঠোর ভাষায় ইসরায়েলি সরকারের সমালোচনা করেছেন।  

বক্তৃতার মঞ্চের বাইরেও এই ক্ষোভ বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। কাতার, মিশর ও জর্ডানসহ আরব ও মুসলিম বিশ্বের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গাজার মানবিক সংকট নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছেন। এর পাশাপাশি ব্রিটেন, ফ্রান্স ও কানাডাসহ ১২টি পশ্চিমা দেশ ইসরায়েলি বসতি এলাকা থেকে আসা পণ্যের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের পদক্ষেপ নিয়েছে।

Share this news as a Photo Card