নিউইয়র্ক ০৫:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খ্যাতির আলোয় ভোজিনহার অস্বস্তির জীবন

  • আপডেটের সময় : ০১:৪৬:১৩ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ শেষ হলেও কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার জন্য সেই রেশ এখনো কাটেনি। বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর রাতারাতি বিশ্ব জুড়ে পরিচিত হয়ে ওঠেন ৪০ বছর বয়সি এই গোলকিপার। সেই খ্যাতিই এখন তার জীবনের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।

বিশ্বকাপের আগে পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব শ্যাভেসে খেলতেন ভোজিনহা। ফুটবলের বাইরে খুব বেশি মানুষ তাকে চিনতেন না। কিন্তু কেপ ভার্দের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ে তিনি করেন সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ। পরে স্পেনই বিশ্বকাপ জেতায় ম্যাচটির গুরুত্ব আরো বেড়ে যায়।

ম্যাচের আগে ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারী ছিল প্রায় ৫৬ হাজার। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যায়। তবে রাতারাতি পাওয়া খ্যাতি ভোজিনহার ব্যক্তিগত জীবনও বদলে দিয়েছে। বাইরে বের হলে মানুষ ছবি ও অটোগ্রাফ চান, কেউ কেউ দূর থেকে ভিডিও করেন। রেস্টুরেন্টেও একই পরিস্থিতি। তার ভাষায়, আগের মতো শান্তি ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এখন আর নেই। হঠাৎ বেড়ে যাওয়া পরিচিতি ও বাণিজ্যিক আগ্রহ সামলাতে কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশন তার সাবেক ম্যানেজারকে আবার দায়িত্ব দেয়। ভোজিনহা নিজেও ইনস্টাগ্রামের নোটিফিকেশন বন্ধ করে দেন, যাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সংখ্যা তার ফুটবল থেকে মনোযোগ সরিয়ে না নেয়।

বিশ্বকাপের সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তার সঙ্গে কাজ করতে চাইলেও তিনি সব প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। শুধু ইউএফএল মোবাইলের একটি প্রচারণায় অংশ নেন। তামাক, অ্যালকোহল ও বেটিং-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ না করার সিদ্ধান্তও জানিয়েছেন তিনি। খ্যাতির প্রভাব পড়েছে তার পরিবারের ওপরও। কেপ ভার্দেতে তার মায়ের বাড়িতে প্রায় প্রতিদিনই সমর্থকেরা ছবি বা কথা বলার জন্য আসেন।

ভোজিনহা বলেন, তিনি খ্যাতির পেছনে ছুটে এই জীবন পাননি। বরং সুযোগ পেলে আগের জীবনেই ফিরে যেতে চান। কারণ সেখানে ছিল শান্তি, ব্যক্তিগত পরিসর এবং নিজের মতো করে বেঁচে থাকার সুযোগ। বিশ্বকাপের পর শ্যাভেস ছাড়িয়ে চিলির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কোলো- কোলোতে যোগ দিয়েছেন ভোজিনহা। সৌদি আরব থেকেও যোগাযোগ ছিল, তবে তা চূড়ান্ত প্রস্তাবে রূপ নেয়নি। জাতীয় দল থেকেও অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত বদলে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এরই মধ্যে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরে সেরা গোলকিপারের ১০ জনের তালিকায়ও জায়গা পেয়েছেন ভোজিনহা |

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মেয়েকে শেখাচ্ছিলেন ড্রাইভিং, সেই গাড়ির ধাক্কাতেই প্রাণ গেল বাবার

বাংলাদেশকে নভেম্বর পর্যন্ত এলএনজি দিতে পারবে না কাতার এনার্জি

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

খ্যাতির আলোয় ভোজিনহার অস্বস্তির জীবন

আপডেটের সময় : ০১:৪৬:১৩ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্বকাপ শেষ হলেও কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার জন্য সেই রেশ এখনো কাটেনি। বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর রাতারাতি বিশ্ব জুড়ে পরিচিত হয়ে ওঠেন ৪০ বছর বয়সি এই গোলকিপার। সেই খ্যাতিই এখন তার জীবনের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।

বিশ্বকাপের আগে পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব শ্যাভেসে খেলতেন ভোজিনহা। ফুটবলের বাইরে খুব বেশি মানুষ তাকে চিনতেন না। কিন্তু কেপ ভার্দের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ে তিনি করেন সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ। পরে স্পেনই বিশ্বকাপ জেতায় ম্যাচটির গুরুত্ব আরো বেড়ে যায়।

ম্যাচের আগে ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারী ছিল প্রায় ৫৬ হাজার। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যায়। তবে রাতারাতি পাওয়া খ্যাতি ভোজিনহার ব্যক্তিগত জীবনও বদলে দিয়েছে। বাইরে বের হলে মানুষ ছবি ও অটোগ্রাফ চান, কেউ কেউ দূর থেকে ভিডিও করেন। রেস্টুরেন্টেও একই পরিস্থিতি। তার ভাষায়, আগের মতো শান্তি ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এখন আর নেই। হঠাৎ বেড়ে যাওয়া পরিচিতি ও বাণিজ্যিক আগ্রহ সামলাতে কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশন তার সাবেক ম্যানেজারকে আবার দায়িত্ব দেয়। ভোজিনহা নিজেও ইনস্টাগ্রামের নোটিফিকেশন বন্ধ করে দেন, যাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সংখ্যা তার ফুটবল থেকে মনোযোগ সরিয়ে না নেয়।

বিশ্বকাপের সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তার সঙ্গে কাজ করতে চাইলেও তিনি সব প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। শুধু ইউএফএল মোবাইলের একটি প্রচারণায় অংশ নেন। তামাক, অ্যালকোহল ও বেটিং-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ না করার সিদ্ধান্তও জানিয়েছেন তিনি। খ্যাতির প্রভাব পড়েছে তার পরিবারের ওপরও। কেপ ভার্দেতে তার মায়ের বাড়িতে প্রায় প্রতিদিনই সমর্থকেরা ছবি বা কথা বলার জন্য আসেন।

ভোজিনহা বলেন, তিনি খ্যাতির পেছনে ছুটে এই জীবন পাননি। বরং সুযোগ পেলে আগের জীবনেই ফিরে যেতে চান। কারণ সেখানে ছিল শান্তি, ব্যক্তিগত পরিসর এবং নিজের মতো করে বেঁচে থাকার সুযোগ। বিশ্বকাপের পর শ্যাভেস ছাড়িয়ে চিলির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কোলো- কোলোতে যোগ দিয়েছেন ভোজিনহা। সৌদি আরব থেকেও যোগাযোগ ছিল, তবে তা চূড়ান্ত প্রস্তাবে রূপ নেয়নি। জাতীয় দল থেকেও অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত বদলে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এরই মধ্যে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরে সেরা গোলকিপারের ১০ জনের তালিকায়ও জায়গা পেয়েছেন ভোজিনহা |

Share this news as a Photo Card