নিউইয়র্ক ০৭:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লায় গ্রেপ্তার ২৭ কিশোরের ঠাঁই হলো গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে

  • আপডেটের সময় : ১২:৫৮:০৫ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ২৭ কিশোরের ঠাঁই হয়েছে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে। সম্প্রতি জেলাজুড়ে থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

সর্বশেষ রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে দুই কিশোরকে টঙ্গীতে পাঠানো হয়। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান।

জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল সূত্র জানায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কুমিল্লা নগরীসহ জেলার ১৮টি থানা এলাকায় পুলিশ ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান শুরু হয়। এরই মধ্যে গত শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত পাঁচ দিনের পৃথক অভিযানে আটক করা হয়েছে।

২ হাজারের বেশি কিশোর গ্যাং সদস্যসহ মাদক ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিকে। এদের মধ্যে ৮৩৩ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয় এবং যাচাই-বাছাই করে মুচলেকা নিয়ে এক হাজার ২০৯ জনকে তাদের অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। মুচলেকা নিয়ে যাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তাদের অধিকাংশই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী বলে জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র বলছে, কিশোর গ্যাংবিরোধী চলমান অভিযানে কারাগারে বন্দীর সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। এখানে দেড় হাজার বন্দীর বিপরীতে রোববার সকালে তিন হাজার ৫০০ বন্দী ছিল। এতে প্রচণ্ড গরমে গাদাগাদি করে বন্দীদের থাকতে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে।

সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান বলেন, কষ্ট করে হলেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে। সহসাই কারাগারের চারটি নতুন বহুতল ভবন উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছে। আমরা চাচ্ছি শিগগির চারটি ভবন উদ্বোধন করতে। ভবন চারটি চালু হলে আর বন্দীদের কোনো সমস্যা থাকবে না। 

তিনি আরও বলেন, চলমান অভিযানে কারাগারে ৫০ জন কিশোর আসে। যাদের সহসাই জামিন লাভের সম্ভাবনা নেই। আদালতের নির্দেশে এমন কিশোরদের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত ২৭ জনকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। অপর কিশোররা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ৭ম শ্রেণির ছাত্র অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে দুই কিশোরকে গত ২১ সেপ্টেম্বর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয় বলেও জানান কুমিল্লা কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

যুক্তরাষ্ট্রে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার, নিখোঁজ ৬

নিউইয়র্ক থেকে ইরানের দুই কূটনীতিককে বহিষ্কার করল যুক্তরাষ্ট্র

০৪ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

কুমিল্লায় গ্রেপ্তার ২৭ কিশোরের ঠাঁই হলো গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে

আপডেটের সময় : ১২:৫৮:০৫ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ২৭ কিশোরের ঠাঁই হয়েছে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে। সম্প্রতি জেলাজুড়ে থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

সর্বশেষ রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে দুই কিশোরকে টঙ্গীতে পাঠানো হয়। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান।

জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল সূত্র জানায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কুমিল্লা নগরীসহ জেলার ১৮টি থানা এলাকায় পুলিশ ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান শুরু হয়। এরই মধ্যে গত শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত পাঁচ দিনের পৃথক অভিযানে আটক করা হয়েছে।

২ হাজারের বেশি কিশোর গ্যাং সদস্যসহ মাদক ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিকে। এদের মধ্যে ৮৩৩ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয় এবং যাচাই-বাছাই করে মুচলেকা নিয়ে এক হাজার ২০৯ জনকে তাদের অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। মুচলেকা নিয়ে যাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তাদের অধিকাংশই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী বলে জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র বলছে, কিশোর গ্যাংবিরোধী চলমান অভিযানে কারাগারে বন্দীর সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। এখানে দেড় হাজার বন্দীর বিপরীতে রোববার সকালে তিন হাজার ৫০০ বন্দী ছিল। এতে প্রচণ্ড গরমে গাদাগাদি করে বন্দীদের থাকতে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে।

সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান বলেন, কষ্ট করে হলেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে। সহসাই কারাগারের চারটি নতুন বহুতল ভবন উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছে। আমরা চাচ্ছি শিগগির চারটি ভবন উদ্বোধন করতে। ভবন চারটি চালু হলে আর বন্দীদের কোনো সমস্যা থাকবে না। 

তিনি আরও বলেন, চলমান অভিযানে কারাগারে ৫০ জন কিশোর আসে। যাদের সহসাই জামিন লাভের সম্ভাবনা নেই। আদালতের নির্দেশে এমন কিশোরদের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত ২৭ জনকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। অপর কিশোররা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ৭ম শ্রেণির ছাত্র অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে দুই কিশোরকে গত ২১ সেপ্টেম্বর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয় বলেও জানান কুমিল্লা কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান।

Share this news as a Photo Card