নিউইয়র্ক ০২:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে গ্রেনেড বিস্ফোরণে হাত হারাল ১৫ বছরের কিশোর

  • আপডেটের সময় : ০২:১৩:১৫ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৯ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

শ্রেণিকক্ষের বেহাল দশা ও অবকাঠামোগত সংস্কারের দাবিতে ফ্রান্সে চলমান উচ্চবিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের ছোড়া বিস্ফোরকে হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

উত্তরাঞ্চলীয় পা-দ্য-কালে অঞ্চলের লঁস শহরে বিক্ষোভ চলাকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ব্যবহৃত একটি স্টান গ্রেনেড হাতে তুলে নিলে তা বিস্ফোরিত হয়ে কিশোরটির হাত উড়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে লিল শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের বরাতে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সে বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছে। তবে এ নিয়ে বিতর্কও শুরু হয়েছে; এক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেছেন, গ্রেনেডটি ওই শিক্ষার্থীর ওপর সরাসরি আঘাত হানে।

এর আগে গত সপ্তাহে মধ্যাঞ্চলের তুর শহরে বিক্ষোভকালে পুলিশের আঘাতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ১৬ বছর বয়সী আরেক শিক্ষার্থী তার এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারায়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে দেশজুড়ে ২১৫ জন শিক্ষার্থী ও ৭১৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে নজরদারি সংস্থা ইতোমধ্যে ১০টি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্যারিসের একটি স্কুলে শিক্ষকদের ধর্মঘটের সমর্থনে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল। বর্তমানে তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষক সংকট, অতিরিক্ত পাঠ্যসূচি, ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে অনুপযোগী শ্রেণিকক্ষের প্রতিবাদে সোমবার ফ্রান্সের ৩ হাজার ৭০০ উচ্চবিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ৫০০টিতে ক্লাস বন্ধ ছিল। কোথাও কোথাও বাসস্টপ ভাঙচুর, স্কুলের ফটকে অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সরকার জানিয়েছে, আন্দোলন চলাকালে ২৪টি স্কুল ভাঙচুর বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৫ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের ৮৭ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

এদিকে ফরাসি মানবাধিকার সংগঠনগুলো অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের ওপর টিয়ার গ্যাস ও মারাত্মক প্রাণঘাতী সরঞ্জাম ব্যবহারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে সরকারের দাবি, অতি-বামপন্থী গোষ্ঠীগুলো শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে।

আল-জাজিরা

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও এলপিজি ও জেট ফুয়েল রপ্তানি করছে ইরান

মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় বরখাস্ত ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি জাকারিয়া

১৭ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে গ্রেনেড বিস্ফোরণে হাত হারাল ১৫ বছরের কিশোর

আপডেটের সময় : ০২:১৩:১৫ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

শ্রেণিকক্ষের বেহাল দশা ও অবকাঠামোগত সংস্কারের দাবিতে ফ্রান্সে চলমান উচ্চবিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের ছোড়া বিস্ফোরকে হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

উত্তরাঞ্চলীয় পা-দ্য-কালে অঞ্চলের লঁস শহরে বিক্ষোভ চলাকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ব্যবহৃত একটি স্টান গ্রেনেড হাতে তুলে নিলে তা বিস্ফোরিত হয়ে কিশোরটির হাত উড়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে লিল শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের বরাতে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সে বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছে। তবে এ নিয়ে বিতর্কও শুরু হয়েছে; এক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেছেন, গ্রেনেডটি ওই শিক্ষার্থীর ওপর সরাসরি আঘাত হানে।

এর আগে গত সপ্তাহে মধ্যাঞ্চলের তুর শহরে বিক্ষোভকালে পুলিশের আঘাতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ১৬ বছর বয়সী আরেক শিক্ষার্থী তার এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারায়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে দেশজুড়ে ২১৫ জন শিক্ষার্থী ও ৭১৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে নজরদারি সংস্থা ইতোমধ্যে ১০টি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্যারিসের একটি স্কুলে শিক্ষকদের ধর্মঘটের সমর্থনে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল। বর্তমানে তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষক সংকট, অতিরিক্ত পাঠ্যসূচি, ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে অনুপযোগী শ্রেণিকক্ষের প্রতিবাদে সোমবার ফ্রান্সের ৩ হাজার ৭০০ উচ্চবিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ৫০০টিতে ক্লাস বন্ধ ছিল। কোথাও কোথাও বাসস্টপ ভাঙচুর, স্কুলের ফটকে অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সরকার জানিয়েছে, আন্দোলন চলাকালে ২৪টি স্কুল ভাঙচুর বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৫ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের ৮৭ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

এদিকে ফরাসি মানবাধিকার সংগঠনগুলো অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের ওপর টিয়ার গ্যাস ও মারাত্মক প্রাণঘাতী সরঞ্জাম ব্যবহারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে সরকারের দাবি, অতি-বামপন্থী গোষ্ঠীগুলো শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে।

আল-জাজিরা

Share this news as a Photo Card