নিউইয়র্ক ০৬:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্টের ছেলের বিরুদ্ধে নিজের দ্বীপ দখলের অভিযোগ রিচার্লিসনের

  • আপডেটের সময় : ১২:৩৯:১০ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ব্রাজিলিয়ান তারকা রিচার্লিসনের ব্যক্তিগত বিনিয়োগ ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। একটি দ্বীপের মালিকানা নিয়ে বিরোধ এখন রূপ নিয়েছে রাজনৈতিক আলোচনায়। রিচার্লিসনের অভিযোগ, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ও দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো কোনো অর্থ পরিশোধ না করেই তার ব্যক্তিগত দ্বীপ দখল করেছেন। এ ঘটনায় পুলিশের তদন্তও দাবি করেছেন টটেনহ্যামের এই স্ট্রাইকার।

২০২০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে রিও ডি জেনেইরোর উপকূলের কাছে একটি দ্বীপ কেনেন রিচার্লিসন। দ্বীপটি কিনতে তিনি প্রায় ১ কোটি ব্রাজিলিয়ান রিয়াল বিনিয়োগ করেন। তবে তার দাবি, সেই বিনিয়োগের বিপরীতে এখন পর্যন্ত কোনো অর্থই ফেরত পাননি তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে রিচার্লিসন বলেন, তিনি ফ্লাভিও বলসোনারোর কাছে দ্বীপটি বিক্রি করতে চাননি। এ কারণে আদালতে পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে তার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এই ফুটবলার। রিচার্লিসনের ভাষ্য, দ্বীপটির মালিকানা-সংক্রান্ত কাগজপত্র চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছিল। সংশ্লিষ্টরা তাকে জানিয়েছিলেন, বিষয়টি নিষ্পত্তি হতে কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছরও লাগতে পারে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ফ্লাভিও বলসোনারো ও ওয়েলার টমাস নামের এক ব্যক্তি সেখানে গিয়ে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। রিচার্লিসন বলেন, ‘এখানে বিচারব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছে। আমার জানামতে, এক পয়সাও খরচ না করে তারা দ্বীপটি নিয়ে নিয়েছে। আমি সেখানে প্রায় ১ কোটি রিয়াল বিনিয়োগ করেছি, অথচ কিছুই পাইনি।’

দ্বীপটির মালিকানা কীভাবে অন্যের নিয়ন্ত্রণে গেল এবং নিজের বিনিয়োগ করা অর্থের কী পরিণতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রিচার্লিসন। একই সঙ্গে তার অনুসারীদেরও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে এবং ফ্লাভিও বলসোনারোর কাছে ব্যাখ্যা চাইতে বলেছেন তিনি।

তবে রিচার্লিসনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলসোনারো। ব্রাজিলের ইনফ্লুয়েন্সার ও গায়িকা জুলিয়েটের একটি ভিডিওতে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি অভিযোগগুলোকে ‘ভুয়া খবর’ বলে অভিহিত করেন। ওই ভিডিওতে ডানপন্থী এই রাজনীতিকের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছিলেন জুলিয়েট।

এর জবাবে রিচার্লিসন সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘তাহলে আমার দ্বীপের কী হলো?’

এরপর থেকেই দ্বীপটির মালিকানা নিয়ে বিতর্ক ব্রাজিলের জনপরিসরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশে একজন জনপ্রিয় ফুটবলার ও প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর মধ্যকার এই বিরোধ রাজনৈতিক বিতর্কেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সূত্র: গোল ডটকম

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

কাবার ভাইরাল ভিডিওটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশিদের নয়: মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ

ইসরায়েলে নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ভাগ্য নির্ধারণ করবে মুসলিম ভোটাররা

২০ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্টের ছেলের বিরুদ্ধে নিজের দ্বীপ দখলের অভিযোগ রিচার্লিসনের

আপডেটের সময় : ১২:৩৯:১০ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

ব্রাজিলিয়ান তারকা রিচার্লিসনের ব্যক্তিগত বিনিয়োগ ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। একটি দ্বীপের মালিকানা নিয়ে বিরোধ এখন রূপ নিয়েছে রাজনৈতিক আলোচনায়। রিচার্লিসনের অভিযোগ, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ও দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো কোনো অর্থ পরিশোধ না করেই তার ব্যক্তিগত দ্বীপ দখল করেছেন। এ ঘটনায় পুলিশের তদন্তও দাবি করেছেন টটেনহ্যামের এই স্ট্রাইকার।

২০২০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে রিও ডি জেনেইরোর উপকূলের কাছে একটি দ্বীপ কেনেন রিচার্লিসন। দ্বীপটি কিনতে তিনি প্রায় ১ কোটি ব্রাজিলিয়ান রিয়াল বিনিয়োগ করেন। তবে তার দাবি, সেই বিনিয়োগের বিপরীতে এখন পর্যন্ত কোনো অর্থই ফেরত পাননি তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে রিচার্লিসন বলেন, তিনি ফ্লাভিও বলসোনারোর কাছে দ্বীপটি বিক্রি করতে চাননি। এ কারণে আদালতে পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে তার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এই ফুটবলার। রিচার্লিসনের ভাষ্য, দ্বীপটির মালিকানা-সংক্রান্ত কাগজপত্র চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছিল। সংশ্লিষ্টরা তাকে জানিয়েছিলেন, বিষয়টি নিষ্পত্তি হতে কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছরও লাগতে পারে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ফ্লাভিও বলসোনারো ও ওয়েলার টমাস নামের এক ব্যক্তি সেখানে গিয়ে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। রিচার্লিসন বলেন, ‘এখানে বিচারব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছে। আমার জানামতে, এক পয়সাও খরচ না করে তারা দ্বীপটি নিয়ে নিয়েছে। আমি সেখানে প্রায় ১ কোটি রিয়াল বিনিয়োগ করেছি, অথচ কিছুই পাইনি।’

দ্বীপটির মালিকানা কীভাবে অন্যের নিয়ন্ত্রণে গেল এবং নিজের বিনিয়োগ করা অর্থের কী পরিণতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রিচার্লিসন। একই সঙ্গে তার অনুসারীদেরও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে এবং ফ্লাভিও বলসোনারোর কাছে ব্যাখ্যা চাইতে বলেছেন তিনি।

তবে রিচার্লিসনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলসোনারো। ব্রাজিলের ইনফ্লুয়েন্সার ও গায়িকা জুলিয়েটের একটি ভিডিওতে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি অভিযোগগুলোকে ‘ভুয়া খবর’ বলে অভিহিত করেন। ওই ভিডিওতে ডানপন্থী এই রাজনীতিকের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছিলেন জুলিয়েট।

এর জবাবে রিচার্লিসন সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘তাহলে আমার দ্বীপের কী হলো?’

এরপর থেকেই দ্বীপটির মালিকানা নিয়ে বিতর্ক ব্রাজিলের জনপরিসরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশে একজন জনপ্রিয় ফুটবলার ও প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর মধ্যকার এই বিরোধ রাজনৈতিক বিতর্কেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সূত্র: গোল ডটকম

Share this news as a Photo Card