নিউইয়র্ক ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ শুরু

  • আপডেটের সময় : ১২:১৩:১১ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের চূড়ান্ত লক্ষ্যের দিকে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরে প্রাথমিক জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে প্রথম ইউনিটের প্রথম রিফুয়েলিং বা জ্বালানি পুনঃস্থাপন কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় নতুন জ্বালানির চালানও রূপপুর প্রকল্পে পৌঁছেছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রসাটমের বাংলাদেশে নিযুক্ত জনসংযোগ বিভাগের পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

রসাটমের প্রকৌশল বিভাগ জানায়, ২০২৬ সালে প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টরে প্রাথমিক জ্বালানি লোডিং সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। সম্প্রতি রিঅ্যাক্টরটি সর্বনিম্ন নিয়ন্ত্রণযোগ্য শক্তিস্তরে (এমসিপিএল) পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে, যা বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। প্রথম ইউনিটের এই ধারাবাহিক সাফল্যের পর এবার দ্বিতীয় ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের জোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রসাটমের জ্বালানি বিভাগের আওতাধীন নভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেন্ট্রেট প্ল্যান্টে প্রস্তুত করা বিশেষ পারমাণবিক জ্বালানি অ্যাসেম্বলির প্রথম চালান বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে করে বাংলাদেশে আনা হয়েছে। পাশাপাশি সাইবেরিয়া থেকে এসেছে প্রথম ইউনিটের পরবর্তী রিফুয়েলিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নতুন পারমাণবিক জ্বালানি। প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানোর পর কঠোর আন্তর্জাতিক বিকিরণ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করে জ্বালানিভর্তি বিশেষ কনটেইনারগুলো নির্ধারিত সুরক্ষিত সংরক্ষণাগারে (স্টোরেজ ফ্যাসিলিটি) রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, রিঅ্যাক্টরে লোড করার আগে প্রতিটি ফুয়েল অ্যাসেম্বলিকে নিবিড় চাক্ষুষ ও উচ্চপ্রযুক্তির যন্ত্রনির্ভর পরীক্ষার ভেতর দিয়ে যেতে হবে। কঠোর পারমাণবিক ও বিকিরণ সুরক্ষাবিধি মেনে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি, মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং রুশ জ্বালানি প্রস্তুতকারকদের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত যৌথ কমিশন এসব ছাড়পত্র ও পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন করছে।

জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করতে হলে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সক্ষমতা বৃদ্ধির নানা পরীক্ষা উত্তীর্ণ হতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং দেশীয় নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পরই রিঅ্যাক্টরে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করা হবে।

উল্লেখ্য, রাশিয়ার সর্বাধুনিক ‘প্রজন্ম-৩+’ (জেনারেশন ৩ প্লাস) প্রযুক্তির দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরের সমন্বয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট করে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। রুশ রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রসাটমের প্রকৌশল বিভাগ পুরো প্রকল্পটির মূল নকশাকার ও প্রধান সাধারণ ঠিকাদার হিসেবে সার্বিক দায়িত্ব পালন করছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

সরকার গড়তে আরব দলগুলোর সমর্থন লাগবে নেতানিয়াহু ও গাদির

হরমুজে মাইনের আঘাতে ৪ তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণ

৩০ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ শুরু

আপডেটের সময় : ১২:১৩:১১ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের চূড়ান্ত লক্ষ্যের দিকে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরে প্রাথমিক জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে প্রথম ইউনিটের প্রথম রিফুয়েলিং বা জ্বালানি পুনঃস্থাপন কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় নতুন জ্বালানির চালানও রূপপুর প্রকল্পে পৌঁছেছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রসাটমের বাংলাদেশে নিযুক্ত জনসংযোগ বিভাগের পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

রসাটমের প্রকৌশল বিভাগ জানায়, ২০২৬ সালে প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টরে প্রাথমিক জ্বালানি লোডিং সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। সম্প্রতি রিঅ্যাক্টরটি সর্বনিম্ন নিয়ন্ত্রণযোগ্য শক্তিস্তরে (এমসিপিএল) পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে, যা বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। প্রথম ইউনিটের এই ধারাবাহিক সাফল্যের পর এবার দ্বিতীয় ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের জোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রসাটমের জ্বালানি বিভাগের আওতাধীন নভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেন্ট্রেট প্ল্যান্টে প্রস্তুত করা বিশেষ পারমাণবিক জ্বালানি অ্যাসেম্বলির প্রথম চালান বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে করে বাংলাদেশে আনা হয়েছে। পাশাপাশি সাইবেরিয়া থেকে এসেছে প্রথম ইউনিটের পরবর্তী রিফুয়েলিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নতুন পারমাণবিক জ্বালানি। প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানোর পর কঠোর আন্তর্জাতিক বিকিরণ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করে জ্বালানিভর্তি বিশেষ কনটেইনারগুলো নির্ধারিত সুরক্ষিত সংরক্ষণাগারে (স্টোরেজ ফ্যাসিলিটি) রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, রিঅ্যাক্টরে লোড করার আগে প্রতিটি ফুয়েল অ্যাসেম্বলিকে নিবিড় চাক্ষুষ ও উচ্চপ্রযুক্তির যন্ত্রনির্ভর পরীক্ষার ভেতর দিয়ে যেতে হবে। কঠোর পারমাণবিক ও বিকিরণ সুরক্ষাবিধি মেনে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি, মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং রুশ জ্বালানি প্রস্তুতকারকদের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত যৌথ কমিশন এসব ছাড়পত্র ও পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন করছে।

জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করতে হলে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সক্ষমতা বৃদ্ধির নানা পরীক্ষা উত্তীর্ণ হতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং দেশীয় নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পরই রিঅ্যাক্টরে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করা হবে।

উল্লেখ্য, রাশিয়ার সর্বাধুনিক ‘প্রজন্ম-৩+’ (জেনারেশন ৩ প্লাস) প্রযুক্তির দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরের সমন্বয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট করে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। রুশ রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রসাটমের প্রকৌশল বিভাগ পুরো প্রকল্পটির মূল নকশাকার ও প্রধান সাধারণ ঠিকাদার হিসেবে সার্বিক দায়িত্ব পালন করছে।

Share this news as a Photo Card