নিউইয়র্ক ০৪:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্রমিক অসন্তোষে বন্ধ ৬৭০ পোশাক কারখানা: বিজিএমইএ

  • আপডেটের সময় : ০১:০৪:৫৫ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি এবং কালো তালিকাভুক্তি বন্ধসহ নানা দাবিতে আন্দোলনের মুখে দেশের প্রধান তিনটি শিল্পাঞ্চলে চরম শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় এবং শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে বের হয়ে যাওয়ায় রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর-ময়মনসিংহ এবং সাভার-আশুলিয়া-জিরানী অঞ্চলের ৬৭০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কাজ না করেই কারখানা থেকে বাসায় ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন ১৬ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ জন শ্রমিক।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিজিএমইএ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। 

সংস্থাটির দেওয়া বেলা সাড়ে ১১টার হিসাব অনুযায়ী, দেশের পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে মোট ২ হাজার ১৩৪টি কারখানার মধ্যে ১ হাজার ৪৬৪টি খোলা ছিল।

বিজিএমইএ সূত্র জানায়, শিল্পাঞ্চলগুলোর মধ্যে গাজীপুর ও ময়মনসিংহ এলাকায় সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে। সেখানকার ৮৩৬টি কারখানার মধ্যে ৩৮২টির শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে বের হয়ে যান। ফলে এ দুই এলাকায় কাজ না করে ফিরে গেছেন ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৪৭২ জন শ্রমিক।

একই চিত্র সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী এলাকাতেও। সেখানে ৪৪১টি কারখানার মধ্যে ২২৩টি কারখানায় কাজ বন্ধ রয়েছে এবং কাজ না করে ফিরে গেছেন ৭ লাখ ৪৩ হাজার ৬৫০ জন শ্রমিক। 

এ ছাড়া রাজধানী মিরপুরে ৩২০টি কারখানার মধ্যে ৬৫টির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে কাজ না পেয়ে বাড়ি ফেরেন ৫৩ হাজার ৪৫০ জন শ্রমিক।

তবে নারায়ণগঞ্জের ১৯৭টি এবং চট্টগ্রামের ৩১৪টি পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের কোনো প্রভাব পড়েনি। এসব এলাকার সব কারখানা স্বাভাবিকভাবে চালু রয়েছে বলে জানা গেছে।

গতকাল রোববারও ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের পুনর্নিয়োগ ও আন্দোলনরত শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধের দাবিতে শিল্পাঞ্চলগুলোতে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। 

একপর্যায়ে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাভার ও গাজীপুর এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

শিল্পাঞ্চলের এই চরম উত্তেজনা ও সহিংসতার কারণে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গতকালও সাভার-আশুলিয়ার ১৭৭টিসহ সারা দেশে মোট ৫২৯টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছিল কর্তৃপক্ষ। 

পুলিশ জানায়, সহিংসতায় অংশ নেওয়া ও নাশকতার অভিযোগে রাজধানীর মিরপুর ও গাজীপুর থেকে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ ৪৯ জনকে আটক করা হয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং শিল্পকারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিতে গতকাল সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্র ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত কারখানা চালু রাখতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

ভারতে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য ক্ষমা চাইলেন ইমরান খান

যুক্তরাষ্ট্রে হ্যালোইন উৎসবে বন্দুক হামলা, নিহত ৬

০২ নভেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

শ্রমিক অসন্তোষে বন্ধ ৬৭০ পোশাক কারখানা: বিজিএমইএ

আপডেটের সময় : ০১:০৪:৫৫ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি এবং কালো তালিকাভুক্তি বন্ধসহ নানা দাবিতে আন্দোলনের মুখে দেশের প্রধান তিনটি শিল্পাঞ্চলে চরম শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় এবং শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে বের হয়ে যাওয়ায় রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর-ময়মনসিংহ এবং সাভার-আশুলিয়া-জিরানী অঞ্চলের ৬৭০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কাজ না করেই কারখানা থেকে বাসায় ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন ১৬ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ জন শ্রমিক।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিজিএমইএ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। 

সংস্থাটির দেওয়া বেলা সাড়ে ১১টার হিসাব অনুযায়ী, দেশের পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে মোট ২ হাজার ১৩৪টি কারখানার মধ্যে ১ হাজার ৪৬৪টি খোলা ছিল।

বিজিএমইএ সূত্র জানায়, শিল্পাঞ্চলগুলোর মধ্যে গাজীপুর ও ময়মনসিংহ এলাকায় সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে। সেখানকার ৮৩৬টি কারখানার মধ্যে ৩৮২টির শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে বের হয়ে যান। ফলে এ দুই এলাকায় কাজ না করে ফিরে গেছেন ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৪৭২ জন শ্রমিক।

একই চিত্র সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী এলাকাতেও। সেখানে ৪৪১টি কারখানার মধ্যে ২২৩টি কারখানায় কাজ বন্ধ রয়েছে এবং কাজ না করে ফিরে গেছেন ৭ লাখ ৪৩ হাজার ৬৫০ জন শ্রমিক। 

এ ছাড়া রাজধানী মিরপুরে ৩২০টি কারখানার মধ্যে ৬৫টির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে কাজ না পেয়ে বাড়ি ফেরেন ৫৩ হাজার ৪৫০ জন শ্রমিক।

তবে নারায়ণগঞ্জের ১৯৭টি এবং চট্টগ্রামের ৩১৪টি পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের কোনো প্রভাব পড়েনি। এসব এলাকার সব কারখানা স্বাভাবিকভাবে চালু রয়েছে বলে জানা গেছে।

গতকাল রোববারও ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের পুনর্নিয়োগ ও আন্দোলনরত শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধের দাবিতে শিল্পাঞ্চলগুলোতে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। 

একপর্যায়ে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাভার ও গাজীপুর এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

শিল্পাঞ্চলের এই চরম উত্তেজনা ও সহিংসতার কারণে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গতকালও সাভার-আশুলিয়ার ১৭৭টিসহ সারা দেশে মোট ৫২৯টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছিল কর্তৃপক্ষ। 

পুলিশ জানায়, সহিংসতায় অংশ নেওয়া ও নাশকতার অভিযোগে রাজধানীর মিরপুর ও গাজীপুর থেকে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ ৪৯ জনকে আটক করা হয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং শিল্পকারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিতে গতকাল সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্র ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত কারখানা চালু রাখতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

Share this news as a Photo Card