দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় আবদুল মজিদ নামে রূপালী ব্যাংকের সাবেক এক কর্মকর্তার ২৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে তাকে। এছাড়া রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে তার নামে থাকা ১ কোটি ২৪ লাখ টাকার স্থাবর–অস্থাবর সম্পদ।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শওকত আলী এ রায় দেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মজিদ (৪৮) লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কাফিলাতলি এলাকার মৃত আমিনুল হকের ছেলে এবং রামগতি বাজার শাখার রুপালী ব্যাংক লিমেটেডের সাবেক ব্যবস্থাপক।
আদালতে নিয়োজিত দুদকের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মামলাটি তদন্ত শেষে তৎকালীন দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. হোসাইন শরীফ ও সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আজগর হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত দণ্ডবিধির ৪৬৭ ধারায় ১০ বছর, ৪০৯ ধারায় ১০ বছর এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। পৃথক তিন ধারায় দেওয়া সাজা মিলিয়ে তাকে মোট ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ১৪ নভেম্বর থেকে ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত রূপালী ব্যাংক লক্ষ্মীপুরের রামগতি বাজার শাখায় ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন আবদুল মজিদ। এ সময় গ্রাহকদের সঞ্চয় ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশনের ১৬ লাখ ৩০ হাজার ২৩১ টাকাসহ মোট ১ কোটি ২৪ লাখ ১৫ হাজার ৫৪৩ টাকা আত্মসাৎ করেন। বিষয়টি তদন্তে উঠে আসার পর ২০১৩ সালে ৮ জুন এ ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের রামগতি থানায় মামলা করে দুদক।
আদালত সূত্রে জানা যায়, রায়ে দণ্ডবিধির দুটি পৃথক ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে ২৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও ১৮ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।


























