জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা ও কলের নিরাপত্তায় ডিফল্টভাবে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন চালু থাকে। ফলে সাধারণভাবে প্রেরক ও প্রাপক ছাড়া অন্য কেউ বার্তার মূল বিষয়বস্তু দেখতে পারেন না। তবে শুধু এনক্রিপশনই অ্যাকাউন্টের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না। ব্যক্তিগত তথ্য, ফোনে অননুমোদিত প্রবেশ এবং অ্যাকাউন্ট দখলের ঝুঁকি কমাতে হোয়াটসঅ্যাপের কিছু নিরাপত্তা ফিচারও চালু রাখা জরুরি।
প্রাইভেসি চেকআপ ব্যবহার করুন
হোয়াটসঅ্যাপের সেটিংসের প্রাইভেসি মেনুতে থাকা ‘প্রাইভেসি চেকআপ’ ফিচারের মাধ্যমে প্রথমে যাচাই করুন, কারা আপনার প্রোফাইল ছবি, অ্যাবাউট, স্ট্যাটাস ও লাস্ট সিন দেখতে পারবে। প্রয়োজনে ‘মাই কন্ট্যাক্টস’ নির্বাচন করে এসব তথ্য শুধু পরিচিত ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায়। চাইলে ‘নোবডি’ অপশন ব্যবহার করে সবার কাছ থেকেই তথ্য গোপন রাখা সম্ভব।
এ ছাড়া অপরিচিত নম্বরের কল সাইলেন্ট করা এবং কারা আপনাকে গ্রুপে যুক্ত করতে পারবে, সেটিও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। নিয়মিত এসব সেটিংস পর্যালোচনা করলে ব্যক্তিগত তথ্য অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তির কাছে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
গুরুত্বপূর্ণ চ্যাটে ডিসাপিয়ারিং মেসেজেস চালু করুন
সব কথোপকথন দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করার প্রয়োজন হয় না। এ ক্ষেত্রে ‘ডিসাপিয়ারিং মেসেজেস’ ফিচার ব্যবহার করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময় পর নতুন বার্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলার ব্যবস্থা করা যায়। বর্তমানে ২৪ ঘণ্টা, ৭ দিন ও ৯০ দিনের সময়সীমা বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
নতুন ব্যক্তিগত চ্যাটের জন্য সেটিংস > প্রাইভেসি > ডিফল্ট মেসেজ টাইমার থেকে সময় নির্ধারণ করা যায়। তবে বার্তা অদৃশ্য হলেও প্রাপক চাইলে স্ক্রিনশট বা অন্য কোনো উপায়ে তা সংরক্ষণ করতে পারেন।
টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু রাখুন
অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বাড়াতে ‘টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন’ চালু করা গুরুত্বপূর্ণ। সেটিংস > অ্যাকাউন্ট > টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন থেকে ছয় সংখ্যার একটি পিন নির্ধারণ করা যায়। পিন ভুলে গেলে পুনরুদ্ধারের সুবিধার জন্য একটি ই-মেইল ঠিকানাও যুক্ত করা যেতে পারে।
এ ছাড়া হোয়াটসঅ্যাপে অ্যাকাউন্ট সুরক্ষায় পাস-কী ব্যবহারের সুবিধাও রয়েছে। ফলে শুধু ফোন নম্বরের ওপর নির্ভর না করে অ্যাকাউন্টে অতিরিক্ত নিরাপত্তার স্তর যোগ করা সম্ভব।
অ্যাপ লক ও চ্যাট লক ব্যবহার করুন
ফোন অন্য কারও হাতে চলে গেলেও ব্যক্তিগত কথোপকথন সুরক্ষিত রাখতে ‘অ্যাপ লক’ বেশ কার্যকর। সেটিংস > প্রাইভেসি > অ্যাপ লক থেকে আইফোনে ফেস আইডি বা টাচ আইডি এবং অ্যান্ড্রয়েডে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ লক করা যায়।
আরও সংবেদনশীল কথোপকথনের ক্ষেত্রে ‘চ্যাট লক’ ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে নির্দিষ্ট চ্যাট মূল তালিকা থেকে আলাদা একটি সুরক্ষিত ফোল্ডারে চলে যায়। পাশাপাশি ফোনের লকস্ক্রিনে মেসেজের পূর্ণাঙ্গ প্রিভিউ বন্ধ রাখলে অন্যের সামনে ব্যক্তিগত বার্তা প্রকাশের ঝুঁকিও কমে।
অ্যাডভান্সড প্রাইভেসি সেটিংস চালু করুন
অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য সেটিংসের প্রাইভেসি অংশে থাকা ‘অ্যাডভান্সড’ সেটিংসও পর্যালোচনা করা উচিত। এখানে ‘ব্লক আননোন মেসেজেস’ অপশন চালু করলে অপরিচিত উৎস থেকে আসা বার্তা ব্লক করার ব্যবস্থা করা যায়।
এ ছাড়া ‘প্রটেক্ট ইউর আইপি অ্যাড্রেস ইন কলস’ অপশনটি চালু করলে হোয়াটসঅ্যাপ কলে ব্যবহারকারীর আইপি ঠিকানা প্রকাশের ঝুঁকি কমে। তবে এতে কলের মান কিছুটা প্রভাবিত হতে পারে।
সব মিলিয়ে, হোয়াটসঅ্যাপের নিরাপত্তা শুধু এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনের ওপর নির্ভর করে না। প্রাইভেসি সেটিংস নিয়ন্ত্রণ, টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন, অ্যাপ ও চ্যাট লক এবং উন্নত গোপনীয়তা ফিচারগুলো সক্রিয় রাখলে ব্যক্তিগত তথ্য ও অ্যাকাউন্টকে আরও নিরাপদ রাখা সম্ভব।


























