নিউইয়র্ক ০৬:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘কোচ সেজে’ আর বিদেশ ভ্রমণ করতে পারবেন না ফেডারেশন কর্মকর্তারা

  • আপডেটের সময় : ০৭:৩৬:৫৩ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

বিদেশে কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট এলে বিওএ এবং ফেডারেশন কর্মকর্তাদের ভ্রমণের হিড়িক পড়ে যায়। সবচেয়ে হাস্যকর বিষয় হলো ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এবং অন্য কর্মকর্তারা দলের কোচ সেজে বিদেশ ভ্রমণ করেন। এই রেওয়াজের ইতি টেনে দিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন, এমন ঘটনা যেন ভবিষ্যতে না ঘটে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘যিনি সারা বছর খেলোয়াড়দের কঠোরভাবে নিবিড় প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, তাকেই কেবল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোচের দায়িত্ব নিয়ে যেতে হবে।’

রোববার (২৩ আগস্ট) বিভিন্ন ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশন কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়কালে এ নির্দেশনা দিয়েছেন। শুটিং ফেডারেশনের এক কর্মকর্তাকে ক্যাম্প ডিরেক্টর হিসেবে পাঠানোর ঘোষণা দেওয়া হলেও তালিকায় তাকে পিস্তল কোচ হিসেবে দেখানোর বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকদের হঠাৎ করে কোচ হিসেবে যাওয়ার প্রবণতাকে তিনি সম্পূর্ণ অশোভনীয় বলে আখ্যা দেন। অফিশিয়াল কাউকে কোচ বানিয়ে পাঠানোর সংস্কৃতি থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এ আলোচনা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশন, অ্যাসোসিয়েশন ও সংস্থার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, যে কোনো প্রতিযোগিতায় কেবল অংশগ্রহণই মূল লক্ষ্য না হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পদক জয়ের মানসিকতা নিয়ে লড়াই করতে হবে।

​প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, যে যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতেই সেরা পারফর্মারদের এশিয়ান গেমসের দলে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যেন কোনো অবস্থাতেই তারা বাদ না পড়ে। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের জন্য স্থায়ী কোচ নিয়োগের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। সভায় এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণকারী দলের প্রস্তুতি, মোট খেলোয়াড় ও অফিশিয়ালদের সংখ্যা এবং তাদের ভ্রমণের সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করতে ফেডারেশনগুলোর প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়।

​এশিয়ান গেমসের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি দেশের স্টেডিয়ামপাড়ার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে অত্যন্ত জোর দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি সম্প্রতি ঢাকা ও কমলাপুর স্টেডিয়াম পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে আক্ষেপের সাথে জানান যে, ‘বেশ কিছু প্রশাসনিক পদক্ষেপ, মোবাইল কোর্ট ও ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া সত্ত্বেও পরিবেশের আশানুরূপ পরিবর্তন এখনও ঘটেনি। এমনকি ক্রীড়া পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট পরিমণ্ডলের কিছু ব্যক্তির এসব অপকর্মের সাথে যুক্ত থাকাও দুর্ভাগ্যজনক।’

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের জন্য ভিসা বুলেটিন প্রকাশ

৫.৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো জাপান, বহু হতাহতের আশঙ্কা 

২৩ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

‘কোচ সেজে’ আর বিদেশ ভ্রমণ করতে পারবেন না ফেডারেশন কর্মকর্তারা

আপডেটের সময় : ০৭:৩৬:৫৩ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬

বিদেশে কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট এলে বিওএ এবং ফেডারেশন কর্মকর্তাদের ভ্রমণের হিড়িক পড়ে যায়। সবচেয়ে হাস্যকর বিষয় হলো ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এবং অন্য কর্মকর্তারা দলের কোচ সেজে বিদেশ ভ্রমণ করেন। এই রেওয়াজের ইতি টেনে দিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন, এমন ঘটনা যেন ভবিষ্যতে না ঘটে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘যিনি সারা বছর খেলোয়াড়দের কঠোরভাবে নিবিড় প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, তাকেই কেবল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোচের দায়িত্ব নিয়ে যেতে হবে।’

রোববার (২৩ আগস্ট) বিভিন্ন ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশন কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়কালে এ নির্দেশনা দিয়েছেন। শুটিং ফেডারেশনের এক কর্মকর্তাকে ক্যাম্প ডিরেক্টর হিসেবে পাঠানোর ঘোষণা দেওয়া হলেও তালিকায় তাকে পিস্তল কোচ হিসেবে দেখানোর বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকদের হঠাৎ করে কোচ হিসেবে যাওয়ার প্রবণতাকে তিনি সম্পূর্ণ অশোভনীয় বলে আখ্যা দেন। অফিশিয়াল কাউকে কোচ বানিয়ে পাঠানোর সংস্কৃতি থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এ আলোচনা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশন, অ্যাসোসিয়েশন ও সংস্থার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, যে কোনো প্রতিযোগিতায় কেবল অংশগ্রহণই মূল লক্ষ্য না হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পদক জয়ের মানসিকতা নিয়ে লড়াই করতে হবে।

​প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, যে যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতেই সেরা পারফর্মারদের এশিয়ান গেমসের দলে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যেন কোনো অবস্থাতেই তারা বাদ না পড়ে। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের জন্য স্থায়ী কোচ নিয়োগের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। সভায় এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণকারী দলের প্রস্তুতি, মোট খেলোয়াড় ও অফিশিয়ালদের সংখ্যা এবং তাদের ভ্রমণের সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করতে ফেডারেশনগুলোর প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়।

​এশিয়ান গেমসের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি দেশের স্টেডিয়ামপাড়ার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে অত্যন্ত জোর দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি সম্প্রতি ঢাকা ও কমলাপুর স্টেডিয়াম পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে আক্ষেপের সাথে জানান যে, ‘বেশ কিছু প্রশাসনিক পদক্ষেপ, মোবাইল কোর্ট ও ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া সত্ত্বেও পরিবেশের আশানুরূপ পরিবর্তন এখনও ঘটেনি। এমনকি ক্রীড়া পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট পরিমণ্ডলের কিছু ব্যক্তির এসব অপকর্মের সাথে যুক্ত থাকাও দুর্ভাগ্যজনক।’

Share this news as a Photo Card