নিউইয়র্ক ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অবসরের পর বিচারপতিদের পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনে সম্মুখীন করা অযৌক্তিক: হাইকোর্ট

  • আপডেটের সময় : ০৮:০৭:৫৪ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

অবসরের পর বিচারপতিদের পাসপোর্টের জন্য ভেরিফিকেশনের সম্মুখীন করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে দায়ের করা এক রিট মামলার রায়ে এ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে এ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দিয়েছেন।

রায়ে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীসহ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারক ও তাদের স্ত্রীদের কোনো ধরনের অতিরিক্ত গোয়েন্দা ভেরিফিকেশন ছাড়াই সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু করে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায়ে আদালত বলেছেন, বিচারক পদে দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্র তাদের মর্যাদা ও পরিচয় যাচাই করেই কূটনৈতিক পাসপোর্ট দিয়ে থাকে। অবসরের পর সাধারণ পাসপোর্ট পেতে তাদের পুনরায় গোয়েন্দা ভেরিফিকেশনের সম্মুখীন করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন।

এর আগে দায়ের করা রিট আবেদনে বলা হয়, ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ও তাদের স্ত্রীগণ কূটনৈতিক পাসপোর্টের অধিকারী। বিচারকের পদ থেকে অবসর বা পদত্যাগের পর এই কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করে তাদের সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে হয়। পূর্বে এসব সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে কোনো গোয়েন্দা প্রতিবেদনের প্রয়োজন হতো না।

তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট এক স্মারকে কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণকারী ব্যক্তিদের সাধারণ পাসপোর্ট পাওয়ার পূর্বে দুটি গোয়েন্দা সংস্থার সন্তোষজনক প্রতিবেদনের শর্ত দেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্তের কারণে আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করে ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন করলেও গোয়েন্দা ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ার অজুহাতে তাকে পাসপোর্ট না দেওয়ায় তিনি বিদেশ ভ্রমণে বাধাগ্রস্ত হন। এ ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের অনুমতিক্রমে হাইকোর্ট বিভাগের প্রোটোকল অফিসার মো. রোমান ভূঁইয়া প্রশাসনিক এই বাধা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। পরে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। সেই রুল নিষ্পত্তি করে এই রায় দেওয়া হলো।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ফিলিপাইনে ফেরিতে ভয়াবহ আগুনে ৫ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ৮৬

ফেইনুর্ডকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ শুরু করল বার্সেলোনা

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

অবসরের পর বিচারপতিদের পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনে সম্মুখীন করা অযৌক্তিক: হাইকোর্ট

আপডেটের সময় : ০৮:০৭:৫৪ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অবসরের পর বিচারপতিদের পাসপোর্টের জন্য ভেরিফিকেশনের সম্মুখীন করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে দায়ের করা এক রিট মামলার রায়ে এ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে এ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দিয়েছেন।

রায়ে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীসহ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারক ও তাদের স্ত্রীদের কোনো ধরনের অতিরিক্ত গোয়েন্দা ভেরিফিকেশন ছাড়াই সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু করে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায়ে আদালত বলেছেন, বিচারক পদে দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্র তাদের মর্যাদা ও পরিচয় যাচাই করেই কূটনৈতিক পাসপোর্ট দিয়ে থাকে। অবসরের পর সাধারণ পাসপোর্ট পেতে তাদের পুনরায় গোয়েন্দা ভেরিফিকেশনের সম্মুখীন করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন।

এর আগে দায়ের করা রিট আবেদনে বলা হয়, ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ও তাদের স্ত্রীগণ কূটনৈতিক পাসপোর্টের অধিকারী। বিচারকের পদ থেকে অবসর বা পদত্যাগের পর এই কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করে তাদের সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে হয়। পূর্বে এসব সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে কোনো গোয়েন্দা প্রতিবেদনের প্রয়োজন হতো না।

তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট এক স্মারকে কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণকারী ব্যক্তিদের সাধারণ পাসপোর্ট পাওয়ার পূর্বে দুটি গোয়েন্দা সংস্থার সন্তোষজনক প্রতিবেদনের শর্ত দেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্তের কারণে আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করে ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন করলেও গোয়েন্দা ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ার অজুহাতে তাকে পাসপোর্ট না দেওয়ায় তিনি বিদেশ ভ্রমণে বাধাগ্রস্ত হন। এ ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের অনুমতিক্রমে হাইকোর্ট বিভাগের প্রোটোকল অফিসার মো. রোমান ভূঁইয়া প্রশাসনিক এই বাধা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। পরে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। সেই রুল নিষ্পত্তি করে এই রায় দেওয়া হলো।

Share this news as a Photo Card