নিউইয়র্ক ১১:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান যুদ্ধ বন্ধে প্রতিনিধি পরিষদে ভোট, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৭ রিপাবলিকান

  • আপডেটের সময় : ০১:২৩:৩৮ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে আবারও ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছে। ২২০-২০৪ ভোটে পাস হওয়া এই প্রস্তাবটি তৃতীয়বারের মতো অনুমোদিত হলো। সব ডেমোক্র্যাটের সঙ্গে সাতজন রিপাবলিকান সদস্যও এর পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। এর মধ্যে তিনজন প্রথমবারের মতো এমন প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন।

প্রস্তাব পাস হওয়ার ফলে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। আইওয়ার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জ্যাক নান বলেছেন, আলোচনার সুযোগ এখন আর নেই। দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালাতে কংগ্রেসের অনুমোদন দরকার। আমি আরেকটি অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধকে সমর্থন করব না।

তবে এ ধরনের প্রস্তাব আগেও পাস হয়েছে, কিন্তু সেগুলো কখনোই প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছায়নি। এবারও ট্রাম্পের কাছে গেলে তিনি ভেটো দেবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ও পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ব্রায়ান মাস্ট প্রশ্ন তুলেছেন, ইরানকে এখনো হুমকি হিসেবে দেখা হলে ডেমোক্র্যাটরা অঞ্চল থেকে কোন সামরিক সম্পদ সরাতে চান? তিনি বলেন, ট্রাম্প চিরস্থায়ী যুদ্ধের বিরোধী এবং ইরানের সঙ্গে কয়েক দশকের সংঘাতের অবসান ঘটাচ্ছেন।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটিই হয়তো শেষ ভোট। নির্বাচনের প্রচারে এই যুদ্ধ ইস্যুটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় সাত মাস ধরে সংঘাত চলছে। পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

কংগ্রেসম্যানরা সপ্তাহের শেষে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে নির্বাচনি প্রচারে সময় দেবেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর ৫০ দিনেরও কম সময় বাকি।

নির্দলীয় কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধ মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে এবং অস্ত্র-গোলাবারুদের মজুতেও টান পড়ছে। ছয় মাসে প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। যুদ্ধ চলতে থাকলে প্রতি মাসে আরও প্রায় তিন বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়তে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে জুন ও জুলাইয়ে প্রতিনিধি পরিষদ দুটি যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল। সিনেটও একবার পাস করলেও পরদিন ট্রাম্পের সমালোচনার পর রিপাবলিকান সিনেটররা অবস্থান বদলে ফেলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তবে প্রেসিডেন্ট সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর প্রণীত যুদ্ধক্ষমতা আইনে প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতার ওপর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সাধারণত ৬০ দিনের পর দীর্ঘমেয়াদি অভিযান চালাতে কংগ্রেসের অনুমোদন লাগে।

সূত্র: আলজাজিরা

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও এলপিজি ও জেট ফুয়েল রপ্তানি করছে ইরান

মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় বরখাস্ত ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি জাকারিয়া

১৭ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ইরান যুদ্ধ বন্ধে প্রতিনিধি পরিষদে ভোট, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৭ রিপাবলিকান

আপডেটের সময় : ০১:২৩:৩৮ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে আবারও ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছে। ২২০-২০৪ ভোটে পাস হওয়া এই প্রস্তাবটি তৃতীয়বারের মতো অনুমোদিত হলো। সব ডেমোক্র্যাটের সঙ্গে সাতজন রিপাবলিকান সদস্যও এর পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। এর মধ্যে তিনজন প্রথমবারের মতো এমন প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন।

প্রস্তাব পাস হওয়ার ফলে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। আইওয়ার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জ্যাক নান বলেছেন, আলোচনার সুযোগ এখন আর নেই। দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালাতে কংগ্রেসের অনুমোদন দরকার। আমি আরেকটি অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধকে সমর্থন করব না।

তবে এ ধরনের প্রস্তাব আগেও পাস হয়েছে, কিন্তু সেগুলো কখনোই প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছায়নি। এবারও ট্রাম্পের কাছে গেলে তিনি ভেটো দেবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ও পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ব্রায়ান মাস্ট প্রশ্ন তুলেছেন, ইরানকে এখনো হুমকি হিসেবে দেখা হলে ডেমোক্র্যাটরা অঞ্চল থেকে কোন সামরিক সম্পদ সরাতে চান? তিনি বলেন, ট্রাম্প চিরস্থায়ী যুদ্ধের বিরোধী এবং ইরানের সঙ্গে কয়েক দশকের সংঘাতের অবসান ঘটাচ্ছেন।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটিই হয়তো শেষ ভোট। নির্বাচনের প্রচারে এই যুদ্ধ ইস্যুটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় সাত মাস ধরে সংঘাত চলছে। পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

কংগ্রেসম্যানরা সপ্তাহের শেষে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে নির্বাচনি প্রচারে সময় দেবেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর ৫০ দিনেরও কম সময় বাকি।

নির্দলীয় কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধ মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে এবং অস্ত্র-গোলাবারুদের মজুতেও টান পড়ছে। ছয় মাসে প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। যুদ্ধ চলতে থাকলে প্রতি মাসে আরও প্রায় তিন বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়তে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে জুন ও জুলাইয়ে প্রতিনিধি পরিষদ দুটি যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল। সিনেটও একবার পাস করলেও পরদিন ট্রাম্পের সমালোচনার পর রিপাবলিকান সিনেটররা অবস্থান বদলে ফেলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তবে প্রেসিডেন্ট সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর প্রণীত যুদ্ধক্ষমতা আইনে প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতার ওপর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সাধারণত ৬০ দিনের পর দীর্ঘমেয়াদি অভিযান চালাতে কংগ্রেসের অনুমোদন লাগে।

সূত্র: আলজাজিরা

Share this news as a Photo Card