নিউইয়র্ক ০৭:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কম্বোডিয়ায় অনলাইন প্রতারণা, ৯ মাসে ৩ হাজার বাংলাদেশি বহিষ্কার

  • আপডেটের সময় : ১২:২৪:২৫ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ৬ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন প্রতারণা ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কম্বোডিয়ায় পরিচালিত অভিযানে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশিকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৮৭টি দেশের ৫২ হাজার ৩৯ জন বিদেশি নাগরিককে দেশটি থেকে বহিষ্কার করেছে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। তবে বহিষ্কৃত বাংলাদেশিদের মধ্যে কতজন মানবপাচারের শিকার হয়ে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে বাধ্য হয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) কম্বোডিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিটিভি নিউজ গ্লোবালের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধার ও সুরক্ষায় কাজ করা সংগঠন অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশন।

কম্বোডিয়ার অভিবাসন বিভাগের সরকারি প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে মঙ্গলবার বিটিভি নিউজ গ্লোবাল জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে তিন হাজার ১০৪টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে বিভিন্ন দেশের ৫২ হাজার ৩৯ জন নাগরিককে আটক ও বহিষ্কার করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার বহিষ্কৃত বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৪১ হাজার ৬৮৫ জন বেড়েছে। বৃদ্ধির হার ৪০০ শতাংশের বেশি।

বহিষ্কৃতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রায় ২৩ হাজার চীনা নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া আট হাজারের বেশি ইন্দোনেশীয়, চার হাজারের বেশি ভিয়েতনামি এবং তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে।

একই সময়ে আড়াই হাজারের বেশি পাকিস্তানি, মিয়ানমারের প্রায় দুই হাজার এবং দেড় হাজারের বেশি থাই নাগরিকও বহিষ্কৃত হয়েছেন।

কম্বোডিয়ার অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বহিষ্কৃতদের মধ্যে ৩৮টি দেশের ১৮ হাজারের বেশি নাগরিককে সরাসরি অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে বহিষ্কৃত বাংলাদেশিদের মধ্যে কতজন মানবপাচারের শিকার কিংবা জোরপূর্বক এসব কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে বাধ্য হয়েছেন, তার কোনো পৃথক পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।

এ পরিস্থিতিতে বহিষ্কৃত বাংলাদেশিদের প্রকৃত অবস্থা নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছে অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশন।

সংগঠনটি বলেছে, মানবপাচারের শিকার হয়ে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে বাধ্য হওয়া ব্যক্তিদের যথাযথ যাচাই ছাড়া অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়। বরং তাঁদের ভুক্তভোগী হিসেবে শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

একই সঙ্গে কম্বোডিয়া থেকে বহিষ্কৃত কতজন বাংলাদেশি ইতোমধ্যে দেশে ফিরেছেন এবং কতজন এখনো সেখানে আটকে আছেন, তার সঠিক তালিকা তৈরির আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশন আরও জানিয়েছে, কম্বোডিয়ায় আটকে থাকা বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ফেরত আসা ব্যক্তিদের প্রয়োজন অনুযায়ী আইনি সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

পাশাপাশি বহিষ্কৃত বাংলাদেশিরা যাতে দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে অন্য কোনো দেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করে আবারও মানবপাচারের শিকার না হন, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোকে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

ব্রাজিলের পাসপোর্ট বাতিলের পর যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছালেন ফ্লাভিও বলসোনারো

২৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

কম্বোডিয়ায় অনলাইন প্রতারণা, ৯ মাসে ৩ হাজার বাংলাদেশি বহিষ্কার

আপডেটের সময় : ১২:২৪:২৫ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

অনলাইন প্রতারণা ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কম্বোডিয়ায় পরিচালিত অভিযানে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশিকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৮৭টি দেশের ৫২ হাজার ৩৯ জন বিদেশি নাগরিককে দেশটি থেকে বহিষ্কার করেছে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। তবে বহিষ্কৃত বাংলাদেশিদের মধ্যে কতজন মানবপাচারের শিকার হয়ে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে বাধ্য হয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) কম্বোডিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিটিভি নিউজ গ্লোবালের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধার ও সুরক্ষায় কাজ করা সংগঠন অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশন।

কম্বোডিয়ার অভিবাসন বিভাগের সরকারি প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে মঙ্গলবার বিটিভি নিউজ গ্লোবাল জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে তিন হাজার ১০৪টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে বিভিন্ন দেশের ৫২ হাজার ৩৯ জন নাগরিককে আটক ও বহিষ্কার করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার বহিষ্কৃত বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৪১ হাজার ৬৮৫ জন বেড়েছে। বৃদ্ধির হার ৪০০ শতাংশের বেশি।

বহিষ্কৃতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রায় ২৩ হাজার চীনা নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া আট হাজারের বেশি ইন্দোনেশীয়, চার হাজারের বেশি ভিয়েতনামি এবং তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে।

একই সময়ে আড়াই হাজারের বেশি পাকিস্তানি, মিয়ানমারের প্রায় দুই হাজার এবং দেড় হাজারের বেশি থাই নাগরিকও বহিষ্কৃত হয়েছেন।

কম্বোডিয়ার অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বহিষ্কৃতদের মধ্যে ৩৮টি দেশের ১৮ হাজারের বেশি নাগরিককে সরাসরি অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে বহিষ্কৃত বাংলাদেশিদের মধ্যে কতজন মানবপাচারের শিকার কিংবা জোরপূর্বক এসব কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে বাধ্য হয়েছেন, তার কোনো পৃথক পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।

এ পরিস্থিতিতে বহিষ্কৃত বাংলাদেশিদের প্রকৃত অবস্থা নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছে অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশন।

সংগঠনটি বলেছে, মানবপাচারের শিকার হয়ে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে বাধ্য হওয়া ব্যক্তিদের যথাযথ যাচাই ছাড়া অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়। বরং তাঁদের ভুক্তভোগী হিসেবে শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

একই সঙ্গে কম্বোডিয়া থেকে বহিষ্কৃত কতজন বাংলাদেশি ইতোমধ্যে দেশে ফিরেছেন এবং কতজন এখনো সেখানে আটকে আছেন, তার সঠিক তালিকা তৈরির আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশন আরও জানিয়েছে, কম্বোডিয়ায় আটকে থাকা বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ফেরত আসা ব্যক্তিদের প্রয়োজন অনুযায়ী আইনি সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

পাশাপাশি বহিষ্কৃত বাংলাদেশিরা যাতে দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে অন্য কোনো দেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করে আবারও মানবপাচারের শিকার না হন, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোকে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

Share this news as a Photo Card