গণমাধ্যমের কাছে সরকারের গোপন তথ্য ফাঁসকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে ‘গুলি করে হত্যা’ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
আসন্ন ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন উপলক্ষে অ্যারিজোনার বুলহেড সিটিতে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, তার মতে তথ্য ফাঁসকারীদের ’গুলি করে মারা’ উচিত। তিনি অতীতে কোনো দেশে আক্রমণের সময়সূচি ফাঁসকারীদের যেভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো সেই প্রসঙ্গ টেনে এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিশেষ করে ২০২৫ সালের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধের সময় মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ সম্পর্কিত তথ্যাদি নিউ ইয়র্ক টাইমস ও সিএনএনের মতো সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর ট্রাম্প গণমাধ্যমের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ওই প্রতিবেদনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের বরাতে দাবি করা হয়েছিল, মার্কিন হামলায় ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রের ক্ষয়ক্ষতি ট্রাম্পের দাবির চেয়ে অনেক কম ছিল এবং ইরান তাদের সংবর্ধিত ইউরেনিয়াম অন্যত্র সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছিল।
ট্রাম্প অভিযোগ করেন, তথ্য ফাঁসকারীরা সেনাবাহিনীর জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছে এবং অভিযানের সময়সূচি ফাঁস হয়ে যাওয়ার কারণে তাকে মূল বোমাবর্ষণ অভিযান দুই দিন পিছিয়ে দিতে হয়েছিল। ফাঁসকারীদের জঘন্য অপরাধী হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি তাদের সারা জীবন কারাগারে রাখা বা গুলি করে হত্যা করার দাবি জানান।
তথ্য ফাঁসের উৎস খুঁজে বের করতে ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে শ্বেতভবন ও পেন্টাগনের কর্মকর্তা-কর্মীদের পলিগ্রাফ টেস্ট করা এবং নিউ ইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট ও দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিকদের ওপর সমন জারি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এমনকি সাবেক শ্বেতভবন কর্মকর্তা অ্যালিসা ফারাহ গ্রিফিনও ২০২৪ সালের এক পডকাস্টে জানিয়েছিলেন যে ট্রাম্প ২০২০ সালেই তথ্য ফাঁসকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার দাবি তুলেছিলেন।
এছাড়াও ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ ‘খুব শীঘ্রই’ শেষ হতে যাচ্ছে বলে পুনরায় ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। সেই সাথে হরমুজ প্রণালির ওপর ওয়াশিংটন বর্তমানে ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ বজায় রাখছে বলেও তিনি দাবি করেছেন।
সূত্র: আল জাজিরা




















