নিউইয়র্ক ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘তারা আমাকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে জোর করে’

  • আপডেটের সময় : ০৯:২৬:৩২ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। 

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় বাঁধন নিজেই এ অভিযোগ করেন।

এদিকে মারধরের একটি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে অনেকটা স্পষ্ট। 

যারা এই হামলা করছিলেন, তাদের এক কর্মী বাঁধনকে দেখিয়ে ভিডিওতে বলছিলেন, ‘সে একজন ‘জুলাই জঙ্গী’। সে এখন ভেনিসে, আমরা ভেনিস ছাত্রলীগ এই দেশদ্রোহী ‘জঙ্গি’কে ধরেছি। ‘দেশকে ধ্বংস করেছে’, এমন অপবাদ-আখ্যা দিয়ে তাকে রীতিমতো হেনস্তা করা হয়। এরপর বাঁধনকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন সঙ্গে থাকা তার ভাই। 

এ ঘটনার পর বাঁধনে আর স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা যায়নি। চোখে মুখে ব্যাপক আতঙ্ক; আঘাতে মুখ ফুলে লাল। একটি ভিডিও বার্তায় এসে সকলের কাছে ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

সেখানে বাঁধন বলেন, আমি আমার ভাইয়ের সাথে পার্কে গিয়েছিলাম। কিন্তু এখানে অনেক বাঙালি ভাইয়েরা এসে আমাকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করেছে। আমার গায়ে পানি, কোক এগুলো ছুঁড়ে মারছে। আমি একদম ভিজে গেছি। আমার সাথে, আমার সাথে হচ্ছে আমার ভাইয়ের ছোট বাচ্চাটাও ছিল। তারা আমার গায়েও হাত তুলেছে, আমার ফোন ফেলে দিয়েছে, আমার কানের এখানে বাড়ি মেরেছে। সো এগুলো তারা করেছে।

বাঁধন বলেন, তারা বলেছে যে আমি জুলাই যোদ্ধা। হ্যাঁ আমি জুলাই যোদ্ধা।  আমি অবশ্যই জুলাইতে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি। তারা বলেছে যে তারা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। তারা আমাকে বলেছে যে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে জোর করে। তো এবং তারা সেগুলো ভিডিও করেছে এবং সেগুলো তারা লাইভ করছিল, আপলোড করছিল।

এই অভিনেত্রী বলেছেন, তো, আওয়ামী লীগের যে কর্মীরা জানেন না যে আমি বাংলাদেশ থেকে যে সিনেমাটা নিয়ে ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে আসছি, সেই সিনেমাটার ডিরেক্টর হচ্ছে রুবাইয়াত হোসেন, যার বাবা আপনাদের একজন সম্মানিত মন্ত্রী ছিলেন। আপনারা একটু খবর নিয়ে দেখবেন। সো আমি তার সাথে কাজ করেছি এবং জুলাইয়ের পরেই কাজ করেছি।বাঁধন আরও বলেন, আপনারা যে কাজটা আজকে করেছেন, আমি বলব যে আপনাদের এই ধরনের অসংলগ্ন আচরণ থেকে আপনাদের বের হয়ে আসা উচিত ছিল যেটা আপনারা করতে পারেন নি। আপনারা ভেবেছেন যে আমরা এইভাবে করেই হয়তো পরবর্তীতে আমাদের জায়গাটা আবার সুগঠিত করতে পারব। সেটা আমার মনে হচ্ছে না আপনাদের এই ধরনের আচরণের কারণে।

শোনা যাচ্ছে, এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভেনিসের একটি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বাঁধন। 

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সোচ্চার ছিলেন এই অভিনেত্রী। সেই প্রেক্ষাপটেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

এলএনজি টার্মিনাল-২ চুক্তি পুনর্বহালের দাবি সামিটের

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

‘তারা আমাকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে জোর করে’

আপডেটের সময় : ০৯:২৬:৩২ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। 

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় বাঁধন নিজেই এ অভিযোগ করেন।

এদিকে মারধরের একটি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে অনেকটা স্পষ্ট। 

যারা এই হামলা করছিলেন, তাদের এক কর্মী বাঁধনকে দেখিয়ে ভিডিওতে বলছিলেন, ‘সে একজন ‘জুলাই জঙ্গী’। সে এখন ভেনিসে, আমরা ভেনিস ছাত্রলীগ এই দেশদ্রোহী ‘জঙ্গি’কে ধরেছি। ‘দেশকে ধ্বংস করেছে’, এমন অপবাদ-আখ্যা দিয়ে তাকে রীতিমতো হেনস্তা করা হয়। এরপর বাঁধনকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন সঙ্গে থাকা তার ভাই। 

এ ঘটনার পর বাঁধনে আর স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা যায়নি। চোখে মুখে ব্যাপক আতঙ্ক; আঘাতে মুখ ফুলে লাল। একটি ভিডিও বার্তায় এসে সকলের কাছে ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

সেখানে বাঁধন বলেন, আমি আমার ভাইয়ের সাথে পার্কে গিয়েছিলাম। কিন্তু এখানে অনেক বাঙালি ভাইয়েরা এসে আমাকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করেছে। আমার গায়ে পানি, কোক এগুলো ছুঁড়ে মারছে। আমি একদম ভিজে গেছি। আমার সাথে, আমার সাথে হচ্ছে আমার ভাইয়ের ছোট বাচ্চাটাও ছিল। তারা আমার গায়েও হাত তুলেছে, আমার ফোন ফেলে দিয়েছে, আমার কানের এখানে বাড়ি মেরেছে। সো এগুলো তারা করেছে।

বাঁধন বলেন, তারা বলেছে যে আমি জুলাই যোদ্ধা। হ্যাঁ আমি জুলাই যোদ্ধা।  আমি অবশ্যই জুলাইতে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি। তারা বলেছে যে তারা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। তারা আমাকে বলেছে যে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে জোর করে। তো এবং তারা সেগুলো ভিডিও করেছে এবং সেগুলো তারা লাইভ করছিল, আপলোড করছিল।

এই অভিনেত্রী বলেছেন, তো, আওয়ামী লীগের যে কর্মীরা জানেন না যে আমি বাংলাদেশ থেকে যে সিনেমাটা নিয়ে ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে আসছি, সেই সিনেমাটার ডিরেক্টর হচ্ছে রুবাইয়াত হোসেন, যার বাবা আপনাদের একজন সম্মানিত মন্ত্রী ছিলেন। আপনারা একটু খবর নিয়ে দেখবেন। সো আমি তার সাথে কাজ করেছি এবং জুলাইয়ের পরেই কাজ করেছি।বাঁধন আরও বলেন, আপনারা যে কাজটা আজকে করেছেন, আমি বলব যে আপনাদের এই ধরনের অসংলগ্ন আচরণ থেকে আপনাদের বের হয়ে আসা উচিত ছিল যেটা আপনারা করতে পারেন নি। আপনারা ভেবেছেন যে আমরা এইভাবে করেই হয়তো পরবর্তীতে আমাদের জায়গাটা আবার সুগঠিত করতে পারব। সেটা আমার মনে হচ্ছে না আপনাদের এই ধরনের আচরণের কারণে।

শোনা যাচ্ছে, এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভেনিসের একটি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বাঁধন। 

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সোচ্চার ছিলেন এই অভিনেত্রী। সেই প্রেক্ষাপটেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card