নিউইয়র্ক ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তৃণমূল বাংলাকে বৃহত্তর বাংলাদেশ বানাতে চেয়েছিল: শুভেন্দু

  • আপডেটের সময় : ০১:৫০:২৬ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা ও বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আগের বাম ও তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। তার অভিযোগ, দুই সরকারই রাজ্যের ‘সনাতনী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি’ দমন করার চেষ্টা করেছে। বামেরা ধর্মকে ‘আফিম’ বলত এবং তৃণমূল বাংলাকে ‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’ বানাতে চেয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) কলকাতার কেষ্টপুরে একটি গণেশ পূজা মণ্ডপ উদ্বোধন করে এসব মন্তব্য করেন শুভেন্দু। তার দাবি, গত ৪৯ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক পরিচয় নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪ বছর বাম শাসন এবং পরবর্তী ১৫ বছর তৃণমূলের শাসন ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শুভেন্দু বলেন, ‘গত ৪৯ বছরে ৩৪ বছর যারা ধর্মকে আফিম বলত, তারা ক্ষমতায় ছিল কমিউনিস্টদের অধীনে। আর তার পরের ১৫ বছর তারা বাংলাকে বৃহত্তর বাংলাদেশ বানানোর চেষ্টা করেছে। এখন এমন সরকার এসেছে, যারা ভুলে যাওয়া সংস্কৃতি ও পরম্পরা ফিরিয়ে আনতে চায়।’

বাম আমলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সে সময় পূজা মণ্ডপের বাইরে বিভিন্ন স্টলে কার্ল মার্কস ও ভ্লাদিমির লেনিনের বই পাওয়া যেত। কিন্তু স্বামী বিবেকানন্দ বা লোকনাথ বাবার বই থাকত না। তার দাবি, ‘হনুমান চালিশা বা ভগবদ্গীতা খুঁজে পাওয়া যেত না। সেখানে স্পষ্ট বলা হতো, তারা ধর্মে বিশ্বাস করে না, ধর্মকে আফিম মনে করে।’

তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধেও সরব হন শুভেন্দু। তার অভিযোগ, দলটির শাসনামলে বাংলাকে ‘জামাতি’ করার চেষ্টা হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না নিয়ে মহরম ও দুর্গাপূজার বিসর্জনের দিন নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গ টানেন তিনি।

শুভেন্দু বলেন, ‘ওদের ১৫ বছরের শাসনে, প্রথম দিকে না হলেও শেষ দিকে, বাংলাকে জামাতি বানানোর চেষ্টা হয়েছিল। একবার বিসর্জনের দিন বদলানো হয়েছিল। তিনি বৈঠকে বলেছিলেন, মহরম আছে, তাই বিজয়া দশমীতে বিসর্জন হবে না। এটা করা যায় না। পঞ্জিকা মেনে চলতে হয়। আমাদের পরম্পরা ধীরে ধীরে বদলে দেওয়া হচ্ছিল।’

এ সময় জেলে থাকা এক সাবেক রাজ্য মন্ত্রীরও সমালোচনা করেন শুভেন্দু। তিনি দাবি করেন, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিতৃপক্ষের সময়ে ওই মন্ত্রীর দুর্গাপূজার উদ্বোধনে গিয়েছিলেন। সনাতনী রীতি অনুযায়ী, এই সময়কে পূজার জন্য অশুভ মনে করা হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শুভেন্দু বলেন, দুর্গাপূজার উদ্বোধন মাতৃপক্ষেই হওয়া উচিত। মহাষ্টমীর সময় ‘পূর্ণ শুদ্ধতা’ বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও এলপিজি ও জেট ফুয়েল রপ্তানি করছে ইরান

মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় বরখাস্ত ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি জাকারিয়া

১৭ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

তৃণমূল বাংলাকে বৃহত্তর বাংলাদেশ বানাতে চেয়েছিল: শুভেন্দু

আপডেটের সময় : ০১:৫০:২৬ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা ও বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আগের বাম ও তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। তার অভিযোগ, দুই সরকারই রাজ্যের ‘সনাতনী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি’ দমন করার চেষ্টা করেছে। বামেরা ধর্মকে ‘আফিম’ বলত এবং তৃণমূল বাংলাকে ‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’ বানাতে চেয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) কলকাতার কেষ্টপুরে একটি গণেশ পূজা মণ্ডপ উদ্বোধন করে এসব মন্তব্য করেন শুভেন্দু। তার দাবি, গত ৪৯ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক পরিচয় নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪ বছর বাম শাসন এবং পরবর্তী ১৫ বছর তৃণমূলের শাসন ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শুভেন্দু বলেন, ‘গত ৪৯ বছরে ৩৪ বছর যারা ধর্মকে আফিম বলত, তারা ক্ষমতায় ছিল কমিউনিস্টদের অধীনে। আর তার পরের ১৫ বছর তারা বাংলাকে বৃহত্তর বাংলাদেশ বানানোর চেষ্টা করেছে। এখন এমন সরকার এসেছে, যারা ভুলে যাওয়া সংস্কৃতি ও পরম্পরা ফিরিয়ে আনতে চায়।’

বাম আমলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সে সময় পূজা মণ্ডপের বাইরে বিভিন্ন স্টলে কার্ল মার্কস ও ভ্লাদিমির লেনিনের বই পাওয়া যেত। কিন্তু স্বামী বিবেকানন্দ বা লোকনাথ বাবার বই থাকত না। তার দাবি, ‘হনুমান চালিশা বা ভগবদ্গীতা খুঁজে পাওয়া যেত না। সেখানে স্পষ্ট বলা হতো, তারা ধর্মে বিশ্বাস করে না, ধর্মকে আফিম মনে করে।’

তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধেও সরব হন শুভেন্দু। তার অভিযোগ, দলটির শাসনামলে বাংলাকে ‘জামাতি’ করার চেষ্টা হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না নিয়ে মহরম ও দুর্গাপূজার বিসর্জনের দিন নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গ টানেন তিনি।

শুভেন্দু বলেন, ‘ওদের ১৫ বছরের শাসনে, প্রথম দিকে না হলেও শেষ দিকে, বাংলাকে জামাতি বানানোর চেষ্টা হয়েছিল। একবার বিসর্জনের দিন বদলানো হয়েছিল। তিনি বৈঠকে বলেছিলেন, মহরম আছে, তাই বিজয়া দশমীতে বিসর্জন হবে না। এটা করা যায় না। পঞ্জিকা মেনে চলতে হয়। আমাদের পরম্পরা ধীরে ধীরে বদলে দেওয়া হচ্ছিল।’

এ সময় জেলে থাকা এক সাবেক রাজ্য মন্ত্রীরও সমালোচনা করেন শুভেন্দু। তিনি দাবি করেন, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিতৃপক্ষের সময়ে ওই মন্ত্রীর দুর্গাপূজার উদ্বোধনে গিয়েছিলেন। সনাতনী রীতি অনুযায়ী, এই সময়কে পূজার জন্য অশুভ মনে করা হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শুভেন্দু বলেন, দুর্গাপূজার উদ্বোধন মাতৃপক্ষেই হওয়া উচিত। মহাষ্টমীর সময় ‘পূর্ণ শুদ্ধতা’ বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

Share this news as a Photo Card