নিউইয়র্ক ০৬:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ আফ্রিকায় ১১ নারীর মরদেহ উদ্ধার, বাড়ছে ‘সিরিয়াল কিলার’ আতঙ্ক

  • আপডেটের সময় : ০২:৩৪:০৫ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ আফ্রিকায় একের পর এক নারীদের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ‘সিরিয়াল কিলার’ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী জোহানেসবার্গের পূর্বাঞ্চলে গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে এ পর্যন্ত ১১ নারীর মরদেহ পাওয়া গেছে।

নতুন করে আরও এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের পর এ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। তবে এসব হত্যাকাণ্ডের সবগুলো একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে ইকুরহুলেনি পৌর এলাকার একটি খোলা মাঠ থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একটি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের টহলরত গাড়ির কর্মীরা মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।

পুলিশের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার ব্রেন্ডা মুরিদিলি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে নিহত নারীর পরিচয়, বয়স ও মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এর এক দিন আগে, গত শনিবার একই পৌর এলাকার একটি কবরস্থানের কাছে অর্ধনগ্ন অবস্থায় আরেক নারীর মরদেহ পাওয়া যায়।

প্রাদেশিক পুলিশপ্রধান টমি মথোমবেনি জানিয়েছেন, ওই নারীকে পাথর দিয়ে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্ত করা হবে।

শনিবারের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূর থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর ফলে ধারাবাহিক এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের হেফাজতে থাকা মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারজনে।

এর আগে, ১৭ সেপ্টেম্বর উদ্ধার হওয়া নবম নারীর মরদেহের ঘটনায় দুই নারীকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই হত্যাকাণ্ডের পেছনে সম্পর্কসংক্রান্ত বিষয় থাকতে পারে।

তবে প্রাদেশিক পুলিশপ্রধান মথোমবেনি বলেছেন, নবম হত্যাকাণ্ডটি আলাদা ঘটনা বলেই তদন্তকারীদের ধারণা। অন্য কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে যোগসূত্র থাকতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

পুলিশ বলছে, কয়েকটি হত্যাকাণ্ডে কিছু মিল পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এসব হত্যার জন্য দায়ী—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ইকুরহুলেনিতে জুলাই ও আগস্টে ছয় কিলোমিটারের মধ্যে তিন নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। চলতি মাসের শুরুতে মাত্র ১০ দিনের মধ্যে একই এলাকায় আরও ছয়টি মরদেহ পাওয়া যায়।

শনিবারের মরদেহ উদ্ধারের আগে নিহত নারীদের সবাই ছিলেন ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। তাদের কয়েকজনকে পুরোপুরি বা আংশিক নগ্ন অবস্থায় পাওয়া যায়।

জুলাইয়ের মাঝামাঝি প্রথম মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই নারীকে নগ্ন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তার শরীর তার দিয়ে বাঁধা ছিল। পরে নারীর প্রেমিককে গ্রেফতার করা হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।

দক্ষিণ আফ্রিকায় নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা দীর্ঘদিনের উদ্বেগের বিষয়। দেশটিতে নারীদের হত্যার হারও বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ।

দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা শনিবার দশম নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, নারীদের হত্যার ঘটনা দেশটির জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

দক্ষিণের সীমানা পেরিয়ে এবার বাংলায় পা রাখল থালাপতি বিজয়ের দল

দক্ষিণ আফ্রিকায় ১১ নারীর মরদেহ উদ্ধার, বাড়ছে ‘সিরিয়াল কিলার’ আতঙ্ক

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

দক্ষিণ আফ্রিকায় ১১ নারীর মরদেহ উদ্ধার, বাড়ছে ‘সিরিয়াল কিলার’ আতঙ্ক

আপডেটের সময় : ০২:৩৪:০৫ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দক্ষিণ আফ্রিকায় একের পর এক নারীদের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ‘সিরিয়াল কিলার’ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী জোহানেসবার্গের পূর্বাঞ্চলে গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে এ পর্যন্ত ১১ নারীর মরদেহ পাওয়া গেছে।

নতুন করে আরও এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের পর এ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। তবে এসব হত্যাকাণ্ডের সবগুলো একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে ইকুরহুলেনি পৌর এলাকার একটি খোলা মাঠ থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একটি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের টহলরত গাড়ির কর্মীরা মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।

পুলিশের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার ব্রেন্ডা মুরিদিলি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে নিহত নারীর পরিচয়, বয়স ও মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এর এক দিন আগে, গত শনিবার একই পৌর এলাকার একটি কবরস্থানের কাছে অর্ধনগ্ন অবস্থায় আরেক নারীর মরদেহ পাওয়া যায়।

প্রাদেশিক পুলিশপ্রধান টমি মথোমবেনি জানিয়েছেন, ওই নারীকে পাথর দিয়ে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্ত করা হবে।

শনিবারের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূর থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর ফলে ধারাবাহিক এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের হেফাজতে থাকা মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারজনে।

এর আগে, ১৭ সেপ্টেম্বর উদ্ধার হওয়া নবম নারীর মরদেহের ঘটনায় দুই নারীকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই হত্যাকাণ্ডের পেছনে সম্পর্কসংক্রান্ত বিষয় থাকতে পারে।

তবে প্রাদেশিক পুলিশপ্রধান মথোমবেনি বলেছেন, নবম হত্যাকাণ্ডটি আলাদা ঘটনা বলেই তদন্তকারীদের ধারণা। অন্য কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে যোগসূত্র থাকতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

পুলিশ বলছে, কয়েকটি হত্যাকাণ্ডে কিছু মিল পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এসব হত্যার জন্য দায়ী—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ইকুরহুলেনিতে জুলাই ও আগস্টে ছয় কিলোমিটারের মধ্যে তিন নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। চলতি মাসের শুরুতে মাত্র ১০ দিনের মধ্যে একই এলাকায় আরও ছয়টি মরদেহ পাওয়া যায়।

শনিবারের মরদেহ উদ্ধারের আগে নিহত নারীদের সবাই ছিলেন ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। তাদের কয়েকজনকে পুরোপুরি বা আংশিক নগ্ন অবস্থায় পাওয়া যায়।

জুলাইয়ের মাঝামাঝি প্রথম মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই নারীকে নগ্ন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তার শরীর তার দিয়ে বাঁধা ছিল। পরে নারীর প্রেমিককে গ্রেফতার করা হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।

দক্ষিণ আফ্রিকায় নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা দীর্ঘদিনের উদ্বেগের বিষয়। দেশটিতে নারীদের হত্যার হারও বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ।

দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা শনিবার দশম নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, নারীদের হত্যার ঘটনা দেশটির জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।

Share this news as a Photo Card