নিউইয়র্ক ০৬:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্যা ও ভূমিধসে ভারতে ৫৬, নেপালে ১৪ জনের মৃত্যু

  • আপডেটের সময় : ০২:৩৯:৩৭ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ভারত ও নেপালে টানা ভারী বৃষ্টি আর ঝড়ের কারণে বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে শুধু উত্তর প্রদেশেই মারা গেছেন ৫৬ জন। নেপালে মৃতের সংখ্যা ১৪, আর দেশটিতে এখনো ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) নেপালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবারও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ভারতের উত্তর প্রদেশে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত ৬৬.৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত এই সময়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ থাকে মাত্র ৭.৬ মিলিমিটার। রাজ্যের ত্রাণ কমিশনার হৃষিকেশ ভাস্কর যশোদ জানান, বন্যাদুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি যাচাই করে কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উত্তর প্রদেশে বন্যা ও ভূমিধসে ৫৬ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি ৪৬ জন আহত হয়েছেন। এক হাজারেরও বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নেপালে ৪৯ জেলায় আকস্মিক বন্যার শঙ্কা

নেপালের ৭৭টি জেলার মধ্যে ৪৯টিতে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি জেলা বড় ধরনের বন্যা বা ফ্ল্যাশ ফ্লাডের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রধান নদী ও শাখা নদীগুলোর পানি ক্রমেই বাড়ছে।

ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির মুখপাত্র শান্তি মাহাত বলেন, গত মাসের ভয়াবহ বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া ও নুয়াকোট এলাকাকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সেই বন্যায় ১ হাজার ৪৫০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিলেন এবং এখনো অনেক মানুষ নিখোঁজ। তবে বর্তমানে ওই দুই এলাকাকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

বন্যার কারণে মানাং, মুস্তাং, মিয়াগদি ও বাগলুং জেলায় পুরোপুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষ সংযোগ পুনরুদ্ধারের কাজ করছে। রাহুগঙ্গা নদীর পানি বেড়ে একটি ৪০ মেগাওয়াটের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কয়েকটি এলাকায় টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। অপটিক্যাল ফাইবার ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন যোগাযোগমন্ত্রী বিক্রম তিমিলসিনা।

এদিকে নেপালে পৃথক এক ঘটনায় তুষারধসে ১০ স্থানীয় কর্মী নিখোঁজ হয়েছেন। উত্তরাঞ্চলের মানাং জেলায় ৭ হাজার ১২৬ মিটার উঁচু হিমলুং হিমাল পর্বতের বেস ক্যাম্প তুষারধসে চাপা পড়ে। বিদেশি পর্বতারোহীদের জন্য তাঁবু স্থাপনের কাজ করছিলেন তারা। তবে ওই সময় সেখানে কোনো বিদেশি পর্বতারোহী ছিলেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

দক্ষিণের সীমানা পেরিয়ে এবার বাংলায় পা রাখল থালাপতি বিজয়ের দল

দক্ষিণ আফ্রিকায় ১১ নারীর মরদেহ উদ্ধার, বাড়ছে ‘সিরিয়াল কিলার’ আতঙ্ক

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

বন্যা ও ভূমিধসে ভারতে ৫৬, নেপালে ১৪ জনের মৃত্যু

আপডেটের সময় : ০২:৩৯:৩৭ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারত ও নেপালে টানা ভারী বৃষ্টি আর ঝড়ের কারণে বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে শুধু উত্তর প্রদেশেই মারা গেছেন ৫৬ জন। নেপালে মৃতের সংখ্যা ১৪, আর দেশটিতে এখনো ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) নেপালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবারও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ভারতের উত্তর প্রদেশে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত ৬৬.৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত এই সময়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ থাকে মাত্র ৭.৬ মিলিমিটার। রাজ্যের ত্রাণ কমিশনার হৃষিকেশ ভাস্কর যশোদ জানান, বন্যাদুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি যাচাই করে কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উত্তর প্রদেশে বন্যা ও ভূমিধসে ৫৬ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি ৪৬ জন আহত হয়েছেন। এক হাজারেরও বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নেপালে ৪৯ জেলায় আকস্মিক বন্যার শঙ্কা

নেপালের ৭৭টি জেলার মধ্যে ৪৯টিতে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি জেলা বড় ধরনের বন্যা বা ফ্ল্যাশ ফ্লাডের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রধান নদী ও শাখা নদীগুলোর পানি ক্রমেই বাড়ছে।

ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির মুখপাত্র শান্তি মাহাত বলেন, গত মাসের ভয়াবহ বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া ও নুয়াকোট এলাকাকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সেই বন্যায় ১ হাজার ৪৫০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিলেন এবং এখনো অনেক মানুষ নিখোঁজ। তবে বর্তমানে ওই দুই এলাকাকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

বন্যার কারণে মানাং, মুস্তাং, মিয়াগদি ও বাগলুং জেলায় পুরোপুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষ সংযোগ পুনরুদ্ধারের কাজ করছে। রাহুগঙ্গা নদীর পানি বেড়ে একটি ৪০ মেগাওয়াটের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কয়েকটি এলাকায় টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। অপটিক্যাল ফাইবার ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন যোগাযোগমন্ত্রী বিক্রম তিমিলসিনা।

এদিকে নেপালে পৃথক এক ঘটনায় তুষারধসে ১০ স্থানীয় কর্মী নিখোঁজ হয়েছেন। উত্তরাঞ্চলের মানাং জেলায় ৭ হাজার ১২৬ মিটার উঁচু হিমলুং হিমাল পর্বতের বেস ক্যাম্প তুষারধসে চাপা পড়ে। বিদেশি পর্বতারোহীদের জন্য তাঁবু স্থাপনের কাজ করছিলেন তারা। তবে ওই সময় সেখানে কোনো বিদেশি পর্বতারোহী ছিলেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

Share this news as a Photo Card