নিউইয়র্ক ০৫:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিনাজপুরে হিমাগারেই আটকা পড়েছে দেড় লাখ বস্তা আলু

  • আপডেটের সময় : ০৭:০৯:১৬ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
  • ০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

প্রত্যাশিত দাম না পাওয়া এবং বাজারে চাহিদা কম থাকায় আলু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। বাজারে দরপতনের কারণে হিমাগারে সংরক্ষিত আলু খালাস করছেন না তারা। ফলে উৎপাদন, পরিবহন ও হিমাগার ভাড়াসহ প্রতি ৬২ কেজি ওজনের বস্তায় গড়ে প্রায় ৪৬০ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে।

ফুলবাড়ী কোল্ড স্টোরেজ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে হিমাগারে ১ লাখ ৭৮ হাজার বস্তা আলু সংরক্ষণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে গত ২২ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজার বস্তা আলু খালাস হলেও এখনও প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার বস্তা আলু হিমাগারেই পড়ে আছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব আলু খালাস না হওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত বছরও দরপতনের কারণে হিমাগার থেকে প্রায় ৩৫ হাজার বস্তা আলু তুলেননি কৃষক ও ব্যবসায়ীরা, যার বড় অংশই নষ্ট হওয়ায় লোকসান গুনতে হয়েছিল হিমাগার কর্তৃপক্ষকে। এবারও একই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন তারা।

বর্তমানে হিমাগার গেটে ৬২ কেজির প্রতি বস্তা আলু ৯২০ থেকে ৯৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ উৎপাদন, পরিবহন, বাছাই ও হিমাগার ভাড়াসহ প্রতি বস্তায় কৃষকের খরচ পড়েছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা। অর্থাৎ, ৯৪০ টাকা গড় দর ধরলে প্রতি বস্তায় লোকসান হচ্ছে ৪৬০ টাকা করে। বাজনাপাড়া গ্রামের কৃষক আলমগীর হোসেন ও আমড়া গ্রামের আব্দুর রশিদ জানান, বাজার নিম্নমুখী থাকায় আলু বিক্রি করলেই বড় অংকের লোকসান গুনতে হচ্ছে, যা তাদের দিশেহারা করে তুলেছে।

এদিকে বর্তমানে আমন ধানের মৌসুম শুরু হওয়ায় জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার ও শ্রমিকের মজুরি মেটানোর জন্য কৃষকদের নগদ অর্থের প্রয়োজন। সাধারণত এ সময়ে হিমাগার থেকে আলু বিক্রি করে সেই অর্থ দিয়েই আমনের খরচ মেটান তারা। কিন্তু আলুর দাম না থাকায় একদিকে যেমন হিমাগারেই মূলধন আটকে আছে, অন্যদিকে আমন চাষের খরচ জোগাড় করাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

আলুর বাজারের এই মন্দার প্রভাব পড়েছে ব্যবসায়ীদের ওপরও। পৌরবাজারের ব্যবসায়ী বিধান দত্ত ও জয়ন্ত সাহা জানান, বিভিন্ন বাজারে আলু পাঠিয়েও খরচ উঠছে না। ট্রাকে প্রতি ট্রিপে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা এবং বস্তাপ্রতি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা পর্যন্ত লোকসান হওয়ায় অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে বসে আছেন। মৌসুমী ব্যবসায়ী ফেরাজুল ইসলাম ও নূরুল হক বলেন, ঋণ নিয়ে আলু মজুদ করায় এখন বাজার পড়ে যাওয়ায় সেই ঋণ শোধ করাও তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর উপজেলায় ১ হাজার ৪৮০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়েছে এবং উৎপাদিত হয়েছে ৩৭ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন আলু।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণেই মূলত আলুর দাম কমেছে। বাজার সচল করা এবং কৃষকরা যাতে তাদের উৎপাদিত পণ্যের যৌক্তিক দাম পান, সে বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের জন্য ভিসা বুলেটিন প্রকাশ

৫.৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো জাপান, বহু হতাহতের আশঙ্কা 

২৩ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

দিনাজপুরে হিমাগারেই আটকা পড়েছে দেড় লাখ বস্তা আলু

আপডেটের সময় : ০৭:০৯:১৬ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬

প্রত্যাশিত দাম না পাওয়া এবং বাজারে চাহিদা কম থাকায় আলু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। বাজারে দরপতনের কারণে হিমাগারে সংরক্ষিত আলু খালাস করছেন না তারা। ফলে উৎপাদন, পরিবহন ও হিমাগার ভাড়াসহ প্রতি ৬২ কেজি ওজনের বস্তায় গড়ে প্রায় ৪৬০ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে।

ফুলবাড়ী কোল্ড স্টোরেজ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে হিমাগারে ১ লাখ ৭৮ হাজার বস্তা আলু সংরক্ষণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে গত ২২ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজার বস্তা আলু খালাস হলেও এখনও প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার বস্তা আলু হিমাগারেই পড়ে আছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব আলু খালাস না হওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত বছরও দরপতনের কারণে হিমাগার থেকে প্রায় ৩৫ হাজার বস্তা আলু তুলেননি কৃষক ও ব্যবসায়ীরা, যার বড় অংশই নষ্ট হওয়ায় লোকসান গুনতে হয়েছিল হিমাগার কর্তৃপক্ষকে। এবারও একই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন তারা।

বর্তমানে হিমাগার গেটে ৬২ কেজির প্রতি বস্তা আলু ৯২০ থেকে ৯৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ উৎপাদন, পরিবহন, বাছাই ও হিমাগার ভাড়াসহ প্রতি বস্তায় কৃষকের খরচ পড়েছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা। অর্থাৎ, ৯৪০ টাকা গড় দর ধরলে প্রতি বস্তায় লোকসান হচ্ছে ৪৬০ টাকা করে। বাজনাপাড়া গ্রামের কৃষক আলমগীর হোসেন ও আমড়া গ্রামের আব্দুর রশিদ জানান, বাজার নিম্নমুখী থাকায় আলু বিক্রি করলেই বড় অংকের লোকসান গুনতে হচ্ছে, যা তাদের দিশেহারা করে তুলেছে।

এদিকে বর্তমানে আমন ধানের মৌসুম শুরু হওয়ায় জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার ও শ্রমিকের মজুরি মেটানোর জন্য কৃষকদের নগদ অর্থের প্রয়োজন। সাধারণত এ সময়ে হিমাগার থেকে আলু বিক্রি করে সেই অর্থ দিয়েই আমনের খরচ মেটান তারা। কিন্তু আলুর দাম না থাকায় একদিকে যেমন হিমাগারেই মূলধন আটকে আছে, অন্যদিকে আমন চাষের খরচ জোগাড় করাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

আলুর বাজারের এই মন্দার প্রভাব পড়েছে ব্যবসায়ীদের ওপরও। পৌরবাজারের ব্যবসায়ী বিধান দত্ত ও জয়ন্ত সাহা জানান, বিভিন্ন বাজারে আলু পাঠিয়েও খরচ উঠছে না। ট্রাকে প্রতি ট্রিপে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা এবং বস্তাপ্রতি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা পর্যন্ত লোকসান হওয়ায় অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে বসে আছেন। মৌসুমী ব্যবসায়ী ফেরাজুল ইসলাম ও নূরুল হক বলেন, ঋণ নিয়ে আলু মজুদ করায় এখন বাজার পড়ে যাওয়ায় সেই ঋণ শোধ করাও তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর উপজেলায় ১ হাজার ৪৮০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়েছে এবং উৎপাদিত হয়েছে ৩৭ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন আলু।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণেই মূলত আলুর দাম কমেছে। বাজার সচল করা এবং কৃষকরা যাতে তাদের উৎপাদিত পণ্যের যৌক্তিক দাম পান, সে বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।

Share this news as a Photo Card