নিউইয়র্ক ০৩:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দ্রুত চুক্তি, নয়তো ইরানকে উড়িয়ে দেব: ট্রাম্প

  • আপডেটের সময় : ০১:২৮:০০ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে দ্রুত চুক্তি না হলে দেশটিকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তেহরানের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবকে অগ্রহণযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত ‘খুব শিগিগরই’ শেষ হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র দ্রুতই এতে জয়ী হবে।

বুধবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ইরানের নেতাদের সঙ্গে কীভাবে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘হয় আমরা একটি চুক্তি করব, অথবা তাদের উড়িয়ে দেব।’ তিনি বলেন, ‘সময় এসে গেছে’ এবং সংঘাত খুব শিগিগরই শেষ হবে।

যুক্তরাষ্ট্র গত ছয় মাস ধরে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে রয়েছে। এ সময়ে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ‘সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস’ এবং দেশটির সরকার ‘প্রায় ধ্বংসের মুখে’ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার দাবি, এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ জন নিহত হয়েছেন, বিপরীতে ইরানের নিহতের সংখ্যা ৪ হাজার ৫০০। ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্প আরো দাবি করেন, দেশটির নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। ইরানের অর্থনীতিও ভালো অবস্থায় নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে এসব দাবি সম্পর্কে এখানে স্বাধীন কোনো যাচাইয়ের তথ্য দেওয়া হয়নি।

এদিকে ইরানের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত টাইমকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, তেহরানের প্রস্তাবের শর্ত ওয়াশিংটনের চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা যথেষ্ট ভালো নয়।’

ট্রাম্প বলেন, এক বছর আগে যে ধরনের শর্ত তিনি মেনে নিতে পারতেন, কয়েক মাসের যুদ্ধের পর এখন তা আর যথেষ্ট নয়। তার ভাষ্য, ইরান একটি চুক্তি করতে চায়, কিন্তু তিনি ‘প্রকৃত চুক্তি’ চান। হরমুজ প্রণালি নিয়েও ট্রাম্প দাবি করেন, জলপথটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কার্যত পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তার দাবি, গত তিন দিনে এই প্রণালি দিয়ে যে পরিমাণ তেল পরিবহন হয়েছে, তা আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি। তিনি আরো বলেন, আগের রাতে প্রণালিটি দিয়ে তেল পরিবহনের পরিমাণ রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

এদিকে, আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে বড় ধরনের নতুন করে বোমা হামলা চালানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি ট্রাম্প। টাইমকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে এ বিষয়ে সরাসরি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সম্ভব।’ ট্রাম্প জানান, গত ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করেছে। তার ভাষায়, আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি মাত্রায় অস্ত্র মজুত করা হচ্ছে। তবে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে তিনি কোনো তথ্য দেননি। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য অর্জনের পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তিনি অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তার দাবি, ইরান যেন অন্য কোনো উপায়ে নিজেদের সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে না পারে, সে কারণেই তিনি যুদ্ধ অব্যাহত রেখেছেন।

ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করার পাশাপাশি দেশটির নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও রাডার ব্যবস্থাও ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি আরো বলেন, ইরানের ১৫৯টি জাহাজ সমুদ্রের তলদেশে চলে গেছে। এসব দাবির স্বাধীন যাচাইও সূত্রগুলোতে উল্লেখ করা হয়নি।

ইরানকে ‘উড়িয়ে দেওয়া’ বা ‘ধ্বংস’ করার হুমকি প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজন হলে তিনি তা করবেন। তার দাবি, ইরানকে ধ্বংস করার মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি আবারও বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না—এটিই তার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ট্রাম্প আরো দাবি করেন, চলতি বছরের শুরুতে ইরানে বিক্ষোভের সময় দেশটির কর্তৃপক্ষ ৭২ হাজার থেকে ৭৫ হাজার বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে। তবে এই সংখ্যারও কোনো স্বাধীন যাচাই তিনি উপস্থাপন করেননি।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও এলপিজি ও জেট ফুয়েল রপ্তানি করছে ইরান

মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় বরখাস্ত ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি জাকারিয়া

১৭ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

দ্রুত চুক্তি, নয়তো ইরানকে উড়িয়ে দেব: ট্রাম্প

আপডেটের সময় : ০১:২৮:০০ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

ইরানের সঙ্গে দ্রুত চুক্তি না হলে দেশটিকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তেহরানের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবকে অগ্রহণযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত ‘খুব শিগিগরই’ শেষ হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র দ্রুতই এতে জয়ী হবে।

বুধবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ইরানের নেতাদের সঙ্গে কীভাবে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘হয় আমরা একটি চুক্তি করব, অথবা তাদের উড়িয়ে দেব।’ তিনি বলেন, ‘সময় এসে গেছে’ এবং সংঘাত খুব শিগিগরই শেষ হবে।

যুক্তরাষ্ট্র গত ছয় মাস ধরে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে রয়েছে। এ সময়ে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ‘সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস’ এবং দেশটির সরকার ‘প্রায় ধ্বংসের মুখে’ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার দাবি, এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ জন নিহত হয়েছেন, বিপরীতে ইরানের নিহতের সংখ্যা ৪ হাজার ৫০০। ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্প আরো দাবি করেন, দেশটির নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। ইরানের অর্থনীতিও ভালো অবস্থায় নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে এসব দাবি সম্পর্কে এখানে স্বাধীন কোনো যাচাইয়ের তথ্য দেওয়া হয়নি।

এদিকে ইরানের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত টাইমকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, তেহরানের প্রস্তাবের শর্ত ওয়াশিংটনের চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা যথেষ্ট ভালো নয়।’

ট্রাম্প বলেন, এক বছর আগে যে ধরনের শর্ত তিনি মেনে নিতে পারতেন, কয়েক মাসের যুদ্ধের পর এখন তা আর যথেষ্ট নয়। তার ভাষ্য, ইরান একটি চুক্তি করতে চায়, কিন্তু তিনি ‘প্রকৃত চুক্তি’ চান। হরমুজ প্রণালি নিয়েও ট্রাম্প দাবি করেন, জলপথটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কার্যত পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তার দাবি, গত তিন দিনে এই প্রণালি দিয়ে যে পরিমাণ তেল পরিবহন হয়েছে, তা আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি। তিনি আরো বলেন, আগের রাতে প্রণালিটি দিয়ে তেল পরিবহনের পরিমাণ রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

এদিকে, আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে বড় ধরনের নতুন করে বোমা হামলা চালানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি ট্রাম্প। টাইমকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে এ বিষয়ে সরাসরি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সম্ভব।’ ট্রাম্প জানান, গত ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করেছে। তার ভাষায়, আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি মাত্রায় অস্ত্র মজুত করা হচ্ছে। তবে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে তিনি কোনো তথ্য দেননি। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য অর্জনের পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তিনি অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তার দাবি, ইরান যেন অন্য কোনো উপায়ে নিজেদের সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে না পারে, সে কারণেই তিনি যুদ্ধ অব্যাহত রেখেছেন।

ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করার পাশাপাশি দেশটির নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও রাডার ব্যবস্থাও ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি আরো বলেন, ইরানের ১৫৯টি জাহাজ সমুদ্রের তলদেশে চলে গেছে। এসব দাবির স্বাধীন যাচাইও সূত্রগুলোতে উল্লেখ করা হয়নি।

ইরানকে ‘উড়িয়ে দেওয়া’ বা ‘ধ্বংস’ করার হুমকি প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজন হলে তিনি তা করবেন। তার দাবি, ইরানকে ধ্বংস করার মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি আবারও বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না—এটিই তার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ট্রাম্প আরো দাবি করেন, চলতি বছরের শুরুতে ইরানে বিক্ষোভের সময় দেশটির কর্তৃপক্ষ ৭২ হাজার থেকে ৭৫ হাজার বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে। তবে এই সংখ্যারও কোনো স্বাধীন যাচাই তিনি উপস্থাপন করেননি।

Share this news as a Photo Card