নিউইয়র্ক ০৫:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পিরোজপুরে লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনার দুদিন পর নিন্দা জানালেন নাহিদ ইসলাম

  • আপডেটের সময় : ১২:২২:০৬ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

জানাজা ও লাশ দাফন মানুষের ন্যূনতম মানবিক ও ধর্মীয় অধিকার উল্লেখ করে পিরোজপুরে মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য কিংবা শত্রুতা যা-ই থাকুক না কেন, ‘শত্রুর সাথেও আমাদের ইনসাফ করা শিখতে হবে।’

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।

ফেসবুক পোস্টে নাহিদ ইসলাম লেখেন, ‘জানাজা পড়ার অধিকার, লাশ দাফনের অধিকার যে কোনো মানুষের ন্যূনতম মানবিক অধিকার, ধর্মীয় অধিকার। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে এই ন্যূনতম অধিকারটুকুও কেড়ে নিয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা এই দৃশ্য পুনরায় দেখতে চাই না।’

বিগত শাসনামলের দমনপীড়নের নজির টেনে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ‘মুজিববাদী ফ্যাসিস্টরা শহিদ মিনারে পিয়াস করিম ও আল মাহমুদের লাশ আনতে দেয়নি, সাধারণ জনগণকে শ্রদ্ধা জানাতে দেয়নি। বিরোধী দলের অনেক নেতার জানাজা ঢাকায় করতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের পরে ঢাকায় রক্ষীবাহিনীর নেতা ফ্যাসিস্ট তোফায়েলের জানাজা হয়েছে।’

নিজের নির্বাচনী এলাকার উদাহরণ তুলে ধরে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা লেখেন, ‘আমার নিজ এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা এ কে এম রহমতুল্লাহর জানাজা হয়েছে। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী শোক প্রকাশও হয়েছে। ফ্যাসিস্টদের মানবাধিকারের পক্ষেও আমরা কথা বলেছি এবং বলব। কারণ শত্রুর সাথে আমাদের ইনসাফ করা শিখতে হবে।’

মানবাধিকার নিয়ে বর্তমানে সোচ্চার হওয়া মহলের নীরবতার অতীত ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি লেখেন, ‘আজকে অনেকে মানবাধিকারের কথা বলছেন। এটা ভালো। তবে ১৬ বছর অনেকেই বলেন নাই। মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের পর সারাদেশে যে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ ঘটেছিল, তখন ঢাকা শহরের বহু মানবাধিকারকর্মী চুপ ছিল। মানবাধিকারের প্রশ্ন আসলে সেসব হত্যার বিচারও হতে হবে।’

পোস্টে অতীত ও বর্তমানের লাশ নিয়ে রাজনীতি ও প্রতিহিংসার চিত্র তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, ‘আমরা লাশের ওপরে মুজিববাদীদের নৃত্য-উল্লাস দেখেছি, কবর ভাঙচুরের ঘটনা দেখেছি এবং দেখেছি জানাজা পড়তে না দেওয়াটাকে কীভাবে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত করা হয়েছিল। এখনো দেখছি কীভাবে প্রতিনিয়ত শহিদ ওসমান হাদির কবর উৎখাত করার সম্মতি উৎপাদন করা হচ্ছে।’

তবে অতীতের সেই অন্যায়কে কোনোভাবেই বর্তমানের আদর্শ হতে দেওয়া যাবে না জানিয়ে তিনি উপসংহারে লেখেন, ‘কিন্তু এতকিছুর পরেও আমরা ফ্যাসিস্টদের পথ অনুসরণ করতে পারি না। ফ্যাসিবাদের বিপরীতে আমাদের ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাই পিরোজপুরে লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানাই। আমরা সব নাগরিকের মানবিক মর্যাদা ও মানবাধিকারের পক্ষে থাকব।’

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

সৌদি আরবের দুই শহরে জরুরি সতর্কতা

ব্রাজিলে ফিলিস্তিনপন্থি লুলা জেতার পর ট্রাম্প বললেন, নির্বাচনে ‘কারচুপি’ হয়েছে

২৭ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

পিরোজপুরে লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনার দুদিন পর নিন্দা জানালেন নাহিদ ইসলাম

আপডেটের সময় : ১২:২২:০৬ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

জানাজা ও লাশ দাফন মানুষের ন্যূনতম মানবিক ও ধর্মীয় অধিকার উল্লেখ করে পিরোজপুরে মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য কিংবা শত্রুতা যা-ই থাকুক না কেন, ‘শত্রুর সাথেও আমাদের ইনসাফ করা শিখতে হবে।’

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।

ফেসবুক পোস্টে নাহিদ ইসলাম লেখেন, ‘জানাজা পড়ার অধিকার, লাশ দাফনের অধিকার যে কোনো মানুষের ন্যূনতম মানবিক অধিকার, ধর্মীয় অধিকার। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে এই ন্যূনতম অধিকারটুকুও কেড়ে নিয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা এই দৃশ্য পুনরায় দেখতে চাই না।’

বিগত শাসনামলের দমনপীড়নের নজির টেনে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ‘মুজিববাদী ফ্যাসিস্টরা শহিদ মিনারে পিয়াস করিম ও আল মাহমুদের লাশ আনতে দেয়নি, সাধারণ জনগণকে শ্রদ্ধা জানাতে দেয়নি। বিরোধী দলের অনেক নেতার জানাজা ঢাকায় করতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের পরে ঢাকায় রক্ষীবাহিনীর নেতা ফ্যাসিস্ট তোফায়েলের জানাজা হয়েছে।’

নিজের নির্বাচনী এলাকার উদাহরণ তুলে ধরে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা লেখেন, ‘আমার নিজ এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা এ কে এম রহমতুল্লাহর জানাজা হয়েছে। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী শোক প্রকাশও হয়েছে। ফ্যাসিস্টদের মানবাধিকারের পক্ষেও আমরা কথা বলেছি এবং বলব। কারণ শত্রুর সাথে আমাদের ইনসাফ করা শিখতে হবে।’

মানবাধিকার নিয়ে বর্তমানে সোচ্চার হওয়া মহলের নীরবতার অতীত ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি লেখেন, ‘আজকে অনেকে মানবাধিকারের কথা বলছেন। এটা ভালো। তবে ১৬ বছর অনেকেই বলেন নাই। মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের পর সারাদেশে যে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ ঘটেছিল, তখন ঢাকা শহরের বহু মানবাধিকারকর্মী চুপ ছিল। মানবাধিকারের প্রশ্ন আসলে সেসব হত্যার বিচারও হতে হবে।’

পোস্টে অতীত ও বর্তমানের লাশ নিয়ে রাজনীতি ও প্রতিহিংসার চিত্র তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, ‘আমরা লাশের ওপরে মুজিববাদীদের নৃত্য-উল্লাস দেখেছি, কবর ভাঙচুরের ঘটনা দেখেছি এবং দেখেছি জানাজা পড়তে না দেওয়াটাকে কীভাবে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত করা হয়েছিল। এখনো দেখছি কীভাবে প্রতিনিয়ত শহিদ ওসমান হাদির কবর উৎখাত করার সম্মতি উৎপাদন করা হচ্ছে।’

তবে অতীতের সেই অন্যায়কে কোনোভাবেই বর্তমানের আদর্শ হতে দেওয়া যাবে না জানিয়ে তিনি উপসংহারে লেখেন, ‘কিন্তু এতকিছুর পরেও আমরা ফ্যাসিস্টদের পথ অনুসরণ করতে পারি না। ফ্যাসিবাদের বিপরীতে আমাদের ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাই পিরোজপুরে লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানাই। আমরা সব নাগরিকের মানবিক মর্যাদা ও মানবাধিকারের পক্ষে থাকব।’

Share this news as a Photo Card