নিউইয়র্ক ০৫:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক বিক্ষোভ-স্কুলে অবরোধ, আটক ৪ শতাধিক

  • আপডেটের সময় : ০২:০০:২৫ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক সংকটসহ শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলনে দেশজুড়ে ৪০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। বিক্ষোভে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ব্যাপক এই বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে অন্তত ৪০০টি স্কুলে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ৪০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের বেশিরভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

প্যারিসে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্কুলের প্রবেশপথ অবরোধ করে আসছেন। শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ থেকে এই আন্দোলনের সূত্রপাত।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের বিক্ষোভে অন্তত ১০ জন শিক্ষক ও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৪৮ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যও। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে অন্তত ৪০০টি স্কুলে।

ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা কয়েকটি ময়লার পাত্রে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন এবং বাসস্টপেরও ক্ষতি করেছেন।

বার্তাসংস্থা এএফপিকে ১৬ বছর বয়সী এক ছাত্রী বলেন, ‘আমরা এখানে একটি বার্তা দিতে এসেছি। কোনো কারণ ছাড়াই সবকিছু ভাঙচুর করতে আসিনি। আমরা বলতে এসেছি যে শিক্ষাব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। আমাদের প্রতিটি শ্রেণিতে ৩৪ জন করে শিক্ষার্থী, যা কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়। শিক্ষকেরা অতিরিক্ত কাজের চাপে রয়েছেন।’

ফরাসি শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে বলেন, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ করার অধিকার রয়েছে। তবে সহিংসতার খবরকে তিনি ‘কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়’ বলে নিন্দা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বিএফএমটিভিকে বলেন, ৪৪০ জনকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে এখনো চূড়ান্ত হিসাব নেই। তবে আমাকে বলা হয়েছে, তাদের দুই-তৃতীয়াংশকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।’

ফরাসি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মেরেছেন। জবাবে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে। শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ইউনিয়ন সিন্দিকাল লিসেয়েনের সভাপতি রিয়াদ রানি এএফপিকে বলেন, ফরাসি সরকার বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘দমন-পীড়ন’ চালাচ্ছে। পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগেরও অভিযোগ করেন তিনি।

বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কয়েকজন ফরাসি রাজনীতিক সমালোচনা করলেও এ বিষয়ে জানতে চাইলে নুনেজ বলেন, পুলিশের পদক্ষেপ ‘অত্যন্ত সংযত ও আনুপাতিকভাবে’ পরিচালিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী জেফ্রে বলেন, ‘বিক্ষোভ করার অধিকার একটি মৌলিক স্বাধীনতা। তবে কোনোভাবেই এটিকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। এসব কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেয়া কিংবা এই পরিস্থিতিতে অবরোধ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানানো আমাদের শিক্ষার্থী ও সরকারি কর্মীদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। এটি দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ।’

যুক্তরাজ্যের ষষ্ঠ ফর্ম বা যুক্তরাষ্ট্রের হাইস্কুলের সমপর্যায়ের ফরাসি ‘লিসে’ স্কুলগুলোতে গত সপ্তাহে প্যারিসের আশপাশের ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলে এই আন্দোলন শুরু হয়। এরপর সোমবার ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ আরও সহিংস রূপ নিলে তা ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ হবে বলে সতর্ক করেন। এর আগে ১৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

এদিকে মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলার পাশাপাশি দেশজুড়ে শিক্ষক, হাসপাতালকর্মী ও সরকারি কর্মচারীদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়নগুলোর ডাকা কর্মবিরতিও পালিত হয়েছে। কম বেতন ও কর্মপরিবেশসহ বিভিন্ন সমস্যার প্রতিবাদে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন।

নুনেজ জানিয়েছেন, এই কর্মসূচিতে অন্তত ২ লাখ মানুষ অংশ নিলেও বেশিরভাগ জায়গায় তা কোনো বড় ধরনের ঘটনা ছাড়াই শেষ হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

সোমালিয়ায় জিম্মি ট্যাংকারে ৫ নাবিককে হত্যা, ১৬ জন আটক

নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যেই রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক বিক্ষোভ-স্কুলে অবরোধ, আটক ৪ শতাধিক

আপডেটের সময় : ০২:০০:২৫ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক সংকটসহ শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলনে দেশজুড়ে ৪০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। বিক্ষোভে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ব্যাপক এই বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে অন্তত ৪০০টি স্কুলে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ৪০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের বেশিরভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

প্যারিসে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্কুলের প্রবেশপথ অবরোধ করে আসছেন। শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ থেকে এই আন্দোলনের সূত্রপাত।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের বিক্ষোভে অন্তত ১০ জন শিক্ষক ও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৪৮ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যও। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে অন্তত ৪০০টি স্কুলে।

ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা কয়েকটি ময়লার পাত্রে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন এবং বাসস্টপেরও ক্ষতি করেছেন।

বার্তাসংস্থা এএফপিকে ১৬ বছর বয়সী এক ছাত্রী বলেন, ‘আমরা এখানে একটি বার্তা দিতে এসেছি। কোনো কারণ ছাড়াই সবকিছু ভাঙচুর করতে আসিনি। আমরা বলতে এসেছি যে শিক্ষাব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। আমাদের প্রতিটি শ্রেণিতে ৩৪ জন করে শিক্ষার্থী, যা কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়। শিক্ষকেরা অতিরিক্ত কাজের চাপে রয়েছেন।’

ফরাসি শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে বলেন, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ করার অধিকার রয়েছে। তবে সহিংসতার খবরকে তিনি ‘কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়’ বলে নিন্দা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বিএফএমটিভিকে বলেন, ৪৪০ জনকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে এখনো চূড়ান্ত হিসাব নেই। তবে আমাকে বলা হয়েছে, তাদের দুই-তৃতীয়াংশকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।’

ফরাসি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মেরেছেন। জবাবে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে। শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ইউনিয়ন সিন্দিকাল লিসেয়েনের সভাপতি রিয়াদ রানি এএফপিকে বলেন, ফরাসি সরকার বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘দমন-পীড়ন’ চালাচ্ছে। পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগেরও অভিযোগ করেন তিনি।

বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কয়েকজন ফরাসি রাজনীতিক সমালোচনা করলেও এ বিষয়ে জানতে চাইলে নুনেজ বলেন, পুলিশের পদক্ষেপ ‘অত্যন্ত সংযত ও আনুপাতিকভাবে’ পরিচালিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী জেফ্রে বলেন, ‘বিক্ষোভ করার অধিকার একটি মৌলিক স্বাধীনতা। তবে কোনোভাবেই এটিকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। এসব কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেয়া কিংবা এই পরিস্থিতিতে অবরোধ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানানো আমাদের শিক্ষার্থী ও সরকারি কর্মীদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। এটি দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ।’

যুক্তরাজ্যের ষষ্ঠ ফর্ম বা যুক্তরাষ্ট্রের হাইস্কুলের সমপর্যায়ের ফরাসি ‘লিসে’ স্কুলগুলোতে গত সপ্তাহে প্যারিসের আশপাশের ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলে এই আন্দোলন শুরু হয়। এরপর সোমবার ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ আরও সহিংস রূপ নিলে তা ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ হবে বলে সতর্ক করেন। এর আগে ১৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

এদিকে মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলার পাশাপাশি দেশজুড়ে শিক্ষক, হাসপাতালকর্মী ও সরকারি কর্মচারীদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়নগুলোর ডাকা কর্মবিরতিও পালিত হয়েছে। কম বেতন ও কর্মপরিবেশসহ বিভিন্ন সমস্যার প্রতিবাদে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন।

নুনেজ জানিয়েছেন, এই কর্মসূচিতে অন্তত ২ লাখ মানুষ অংশ নিলেও বেশিরভাগ জায়গায় তা কোনো বড় ধরনের ঘটনা ছাড়াই শেষ হয়েছে।

Share this news as a Photo Card