নিউইয়র্ক ০৫:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেক্সিমকো ফার্মার পর্ষদ ছাড়ছেন সালমান এফ রহমান

  • আপডেটের সময় : ০৩:২২:৫৫ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বেক্সিমকো ফার্মার পর্ষদ থেকে সরে যাচ্ছেন কোম্পানিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। 

কোম্পানিটির পক্ষ থেকে সম্প্রতি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বেক্সিমকো ফার্মার পক্ষ থেকে বিএসইসিকে দেওয়া এ–সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়, কোম্পানিটির পর্ষদ থেকে সরে যাওয়ার বিষয়ে রাজি হয়েছেন সালমান এফ রহমান। তাই তাকে বাদ দিয়ে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে বেক্সিমকো ফার্মার উদ্যোক্তাদের মধ্য থেকে তিনজন, চারজন স্বতন্ত্র পরিচালক, আইএফআইসি ব্যাংকের পক্ষ থেকে মনোনীত একজন পরিচালক ও পদাধিকারবলে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সমন্বয়ে নতুন করে পরিচালনা পর্ষদ গঠনের প্রক্রিয়া চলছে বলেও চিঠিতে জানানো হয়। এ বিষয়ে বিএসইসির পক্ষ থেকে কোম্পানিটিকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বেক্সিমকো যে প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, তা বিবেচনায় সালমান এফ রহমান পর্ষদ থেকে পদত্যাগে সম্মত হয়েছেন। যাতে তার কারণে কোম্পানিটির ব্যবসা ও শেয়ারধারীদের কোনো ক্ষতি না হয়, সেই বিবেচনায় তিনি পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়াতে রাজি হয়েছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সালমান এফ রহমান গ্রেপ্তার হন এবং বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

বেক্সিমকো ফার্মা দেশের শেয়ারবাজারের পাশাপাশি লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট মার্কেটেও (এআইএম) তালিকাভুক্ত। 

জানা যায়, কোম্পানিটির বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও কোম্পানির স্বার্থে সালমান এফ রহমানকে পর্ষদ থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে একমত হয়েছেন। 

বিএসইসি সূত্রে জানা যায়, কোম্পানিটির পর্ষদ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বিদেশি শেয়ারধারীদের প্রতিনিধিও পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিল বিএসইসি। তবে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তা সম্মত হননি। এ কারণে এখন স্বতন্ত্র পরিচালকের সংখ্যা বাড়িয়ে কোম্পানিটির পর্ষদ পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।

শেয়ারবাজার–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বেক্সিমকো ফার্মা দেশের ওষুধ খাতের ভালো কোম্পানি। কিন্তু সালমান এফ রহমানের মালিকানা ও প্রভাবের কারণে কোম্পানিটির সুনাম ও ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এখন তিনি যদি পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়ান, তাহলে তা কোম্পানিটির সুনাম ও ব্যবসার জন্য ভালো সিদ্ধান্ত হবে। তাতে শেয়ারবাজারে কোম্পানিটির শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীরা আরও বেশি আস্থাশীল হবেন।

বিএসইসিকে দেওয়া বেক্সিমকোর চিঠিতে বলা হয়েছে, লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির কারণে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বেক্সিমকো ফার্মাকে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের নিয়মও অনুসরণ করতে হবে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আগে ওই ব্যক্তি সম্পর্কে যথাযথ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ হতে চার থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

বেক্সিমকো ফার্মার সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি–মার্চ প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটি ২২২ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। এর আগে গত বছরের জুনে সমাপ্ত ২০২৪–২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটি ৬৯৪ কোটি টাকা মুনাফা করেছিল। ১৯৮৬ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির শেয়ারের ৩০ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তাদের হাতে। এ উদ্যোক্তাদের মধ্যে সালমান এফ রহমান একজন। কোম্পানিটির বাকি ৭০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক, বিদেশি ও ব্যক্তিশ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

কাশ্মীরে ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ ইন্টারনেট

ভাঙনের পথে যুক্তরাজ্য

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

বেক্সিমকো ফার্মার পর্ষদ ছাড়ছেন সালমান এফ রহমান

আপডেটের সময় : ০৩:২২:৫৫ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বেক্সিমকো ফার্মার পর্ষদ থেকে সরে যাচ্ছেন কোম্পানিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। 

কোম্পানিটির পক্ষ থেকে সম্প্রতি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বেক্সিমকো ফার্মার পক্ষ থেকে বিএসইসিকে দেওয়া এ–সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়, কোম্পানিটির পর্ষদ থেকে সরে যাওয়ার বিষয়ে রাজি হয়েছেন সালমান এফ রহমান। তাই তাকে বাদ দিয়ে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে বেক্সিমকো ফার্মার উদ্যোক্তাদের মধ্য থেকে তিনজন, চারজন স্বতন্ত্র পরিচালক, আইএফআইসি ব্যাংকের পক্ষ থেকে মনোনীত একজন পরিচালক ও পদাধিকারবলে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সমন্বয়ে নতুন করে পরিচালনা পর্ষদ গঠনের প্রক্রিয়া চলছে বলেও চিঠিতে জানানো হয়। এ বিষয়ে বিএসইসির পক্ষ থেকে কোম্পানিটিকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বেক্সিমকো যে প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, তা বিবেচনায় সালমান এফ রহমান পর্ষদ থেকে পদত্যাগে সম্মত হয়েছেন। যাতে তার কারণে কোম্পানিটির ব্যবসা ও শেয়ারধারীদের কোনো ক্ষতি না হয়, সেই বিবেচনায় তিনি পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়াতে রাজি হয়েছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সালমান এফ রহমান গ্রেপ্তার হন এবং বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

বেক্সিমকো ফার্মা দেশের শেয়ারবাজারের পাশাপাশি লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট মার্কেটেও (এআইএম) তালিকাভুক্ত। 

জানা যায়, কোম্পানিটির বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও কোম্পানির স্বার্থে সালমান এফ রহমানকে পর্ষদ থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে একমত হয়েছেন। 

বিএসইসি সূত্রে জানা যায়, কোম্পানিটির পর্ষদ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বিদেশি শেয়ারধারীদের প্রতিনিধিও পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিল বিএসইসি। তবে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তা সম্মত হননি। এ কারণে এখন স্বতন্ত্র পরিচালকের সংখ্যা বাড়িয়ে কোম্পানিটির পর্ষদ পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।

শেয়ারবাজার–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বেক্সিমকো ফার্মা দেশের ওষুধ খাতের ভালো কোম্পানি। কিন্তু সালমান এফ রহমানের মালিকানা ও প্রভাবের কারণে কোম্পানিটির সুনাম ও ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এখন তিনি যদি পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়ান, তাহলে তা কোম্পানিটির সুনাম ও ব্যবসার জন্য ভালো সিদ্ধান্ত হবে। তাতে শেয়ারবাজারে কোম্পানিটির শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীরা আরও বেশি আস্থাশীল হবেন।

বিএসইসিকে দেওয়া বেক্সিমকোর চিঠিতে বলা হয়েছে, লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির কারণে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বেক্সিমকো ফার্মাকে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের নিয়মও অনুসরণ করতে হবে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আগে ওই ব্যক্তি সম্পর্কে যথাযথ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ হতে চার থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

বেক্সিমকো ফার্মার সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি–মার্চ প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটি ২২২ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। এর আগে গত বছরের জুনে সমাপ্ত ২০২৪–২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটি ৬৯৪ কোটি টাকা মুনাফা করেছিল। ১৯৮৬ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির শেয়ারের ৩০ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তাদের হাতে। এ উদ্যোক্তাদের মধ্যে সালমান এফ রহমান একজন। কোম্পানিটির বাকি ৭০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক, বিদেশি ও ব্যক্তিশ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

Share this news as a Photo Card