নিউইয়র্ক ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারত-চীন সম্পর্ক এগিয়ে নিতে মোদি-শি একমত

  • আপডেটের সময় : ০৫:০৬:০০ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব অর্থনীতির ভারসাম্য ও ভূরাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সফলভাবে শেষ হলো দুই দিনব্যাপী ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। 

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিনভর বহুপক্ষীয় আলোচনা ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর সর্বসম্মতিক্রমে ঐতিহাসিক ‘দিল্লি ঘোষণা’ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।

ভারতের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ মহাসম্মেলনে আয়োজক দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোসহ জোটের সদস্য ও সহযোগী দেশের শীর্ষনেতারা উপস্থিত ছিলেন। এবারের ব্রিকস সম্মেলনে মূল ভিত্তি ছিল টেকসই ক্ষমতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্ব। চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সাপ্লাই চেইন সংকট ও আঞ্চলিক উত্তেজনার যুগে কীভাবে বিশ্ব অর্থনীতির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা যায় এবং বহুপক্ষীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যায়, সে বিষয়ে এ চার নীতির আলোকে বিশদ রূপরেখা তুলে ধরা হয়। সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় মোদি বলেন, বিশ্বমঞ্চে ব্রিকসকে একটি সমন্বিত, শক্তিশালী ও কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে এ চার স্তম্ভ কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজর ছিল সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত হাই-প্রোফাইল দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলোর দিকে, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল ভারত-চীন ও ভারত-রাশিয়া বৈঠক। দীর্ঘ সাত বছর পর ভারতীয় ভূখণ্ডে পা রেখে মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বসেন শি। হিমালয় সীমান্ত তথা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে মোদি বলেন, দুই দেশের মধ্যকার মতপার্থক্য যেন কোনোভাবেই বিরোধে পরিণত না হয়। বিদ্যমান সীমান্ত সংক্রান্ত সব চুক্তি ও সমঝোতা মেনে চলার পাশাপাশি পারস্পরিক সম্মান, সংবেদনশীলতা ও স্বার্থ—এ তিন নীতির ওপর ভিত্তি করে সামনে এগোনোর বিষয়ে একমত হন দুই শীর্ষ নেতা।

অন্যদিকে, পুতিনের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে মোদি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের যুদ্ধ ও সংঘাত নিরসনে সামরিক আগ্রাসন নয়, বরং শুধু আলোচনা ও কূটনীতিকেই একমাত্র সমাধান হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করেন।

সম্মেলনের শেষ দিনে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয় ৪৫ পৃষ্ঠা ও ১৪০ অনুচ্ছেদের ঐতিহাসিক ‘দিল্লি ঘোষণা’। এ ঘোষণাপত্রে বিশ্বজুড়ে সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ, সন্ত্রাসী অর্থায়ন এবং একতরফা সামরিক সংঘাতের কঠোর ভাষা ও তীব্র নিন্দা জানানো হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় গ্লোবাল সাউথ বা বিকাশমান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর ন্যায়সংগত নেতৃত্ব নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। মোদি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেন, বিশ্ব-দরবারে উন্নয়নশীল দেশগুলোর

হিস্যা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভারত সর্বাত্মক সহযোগিতা ও কারিগরি সহায়তা দেবে।

এ ছাড়া প্রযুক্তির একচ্ছত্র আধিপত্য এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদকে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে কড়া সতর্কবার্তা জারি করেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করেন, এ ধরনের বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সার্বিক যৌথ অগ্রগতিকে ব্যাহত করছে। সম্মেলন শেষে মোদি ব্রিকস নেতাদের সঙ্গে নিয়ে দিল্লির ‘ভারত ইনোভেটস’ প্রযুক্তি প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং উদীয়মান তরুণ উদ্ভাবকদের উৎসাহিত করেন।

২০২৭ সালে ব্রিকসের ১৯তম শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজক ও পরবর্তী সভাপতির দায়িত্ব নিতে যাওয়া চীন এবং শিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে নয়াদিল্লি সম্মেলনের যবনিকা টানেন নরেন্দ্র মোদি।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও এলপিজি ও জেট ফুয়েল রপ্তানি করছে ইরান

মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় বরখাস্ত ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি জাকারিয়া

১৭ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ভারত-চীন সম্পর্ক এগিয়ে নিতে মোদি-শি একমত

আপডেটের সময় : ০৫:০৬:০০ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ব অর্থনীতির ভারসাম্য ও ভূরাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সফলভাবে শেষ হলো দুই দিনব্যাপী ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। 

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিনভর বহুপক্ষীয় আলোচনা ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর সর্বসম্মতিক্রমে ঐতিহাসিক ‘দিল্লি ঘোষণা’ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।

ভারতের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ মহাসম্মেলনে আয়োজক দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোসহ জোটের সদস্য ও সহযোগী দেশের শীর্ষনেতারা উপস্থিত ছিলেন। এবারের ব্রিকস সম্মেলনে মূল ভিত্তি ছিল টেকসই ক্ষমতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্ব। চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সাপ্লাই চেইন সংকট ও আঞ্চলিক উত্তেজনার যুগে কীভাবে বিশ্ব অর্থনীতির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা যায় এবং বহুপক্ষীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যায়, সে বিষয়ে এ চার নীতির আলোকে বিশদ রূপরেখা তুলে ধরা হয়। সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় মোদি বলেন, বিশ্বমঞ্চে ব্রিকসকে একটি সমন্বিত, শক্তিশালী ও কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে এ চার স্তম্ভ কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজর ছিল সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত হাই-প্রোফাইল দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলোর দিকে, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল ভারত-চীন ও ভারত-রাশিয়া বৈঠক। দীর্ঘ সাত বছর পর ভারতীয় ভূখণ্ডে পা রেখে মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বসেন শি। হিমালয় সীমান্ত তথা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে মোদি বলেন, দুই দেশের মধ্যকার মতপার্থক্য যেন কোনোভাবেই বিরোধে পরিণত না হয়। বিদ্যমান সীমান্ত সংক্রান্ত সব চুক্তি ও সমঝোতা মেনে চলার পাশাপাশি পারস্পরিক সম্মান, সংবেদনশীলতা ও স্বার্থ—এ তিন নীতির ওপর ভিত্তি করে সামনে এগোনোর বিষয়ে একমত হন দুই শীর্ষ নেতা।

অন্যদিকে, পুতিনের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে মোদি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের যুদ্ধ ও সংঘাত নিরসনে সামরিক আগ্রাসন নয়, বরং শুধু আলোচনা ও কূটনীতিকেই একমাত্র সমাধান হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করেন।

সম্মেলনের শেষ দিনে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয় ৪৫ পৃষ্ঠা ও ১৪০ অনুচ্ছেদের ঐতিহাসিক ‘দিল্লি ঘোষণা’। এ ঘোষণাপত্রে বিশ্বজুড়ে সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ, সন্ত্রাসী অর্থায়ন এবং একতরফা সামরিক সংঘাতের কঠোর ভাষা ও তীব্র নিন্দা জানানো হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় গ্লোবাল সাউথ বা বিকাশমান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর ন্যায়সংগত নেতৃত্ব নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। মোদি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেন, বিশ্ব-দরবারে উন্নয়নশীল দেশগুলোর

হিস্যা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভারত সর্বাত্মক সহযোগিতা ও কারিগরি সহায়তা দেবে।

এ ছাড়া প্রযুক্তির একচ্ছত্র আধিপত্য এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদকে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে কড়া সতর্কবার্তা জারি করেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করেন, এ ধরনের বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সার্বিক যৌথ অগ্রগতিকে ব্যাহত করছে। সম্মেলন শেষে মোদি ব্রিকস নেতাদের সঙ্গে নিয়ে দিল্লির ‘ভারত ইনোভেটস’ প্রযুক্তি প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং উদীয়মান তরুণ উদ্ভাবকদের উৎসাহিত করেন।

২০২৭ সালে ব্রিকসের ১৯তম শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজক ও পরবর্তী সভাপতির দায়িত্ব নিতে যাওয়া চীন এবং শিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে নয়াদিল্লি সম্মেলনের যবনিকা টানেন নরেন্দ্র মোদি।

Share this news as a Photo Card