নিউইয়র্ক ০৫:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাছের উৎপাদন বাড়াতে হবে, মানের সঙ্গে আপস নয়: কৃষিমন্ত্রী

  • আপডেটের সময় : ০৭:০০:৪৬ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

দেশের মানুষের চাহিদা পূরণে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদিত মাছের গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে কোনোভাবেই খাদ্যের মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা যাবে না।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর বনানীর হোটেল সারিনায় ফিশটেক বিডি লিমিটেড আয়োজিত ‘অ্যাকুয়াকালচার নলেজ ডে-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, গবেষক, বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষি ও মৎস্যপণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে মানসম্মত উৎপাদনের বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি না থাকলেও গুণগত মানসম্পন্ন খাদ্য উৎপাদন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কৃষিপণ্য রপ্তানির মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে হলে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে উৎপাদন বাড়াতে হবে।

মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত। এই জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করা গেলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী হবে। কৃষিতে উৎপাদন বাড়ানোর অন্যতম লক্ষ্য দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্ত করা।

গবেষকদের প্রাকৃতিক ও পরিবেশবান্ধব সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক ও ভ্যাকসিনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিভিন্ন সমস্যার প্রাকৃতিক সমাধান খুঁজতে হবে। মানুষের জন্য নিরাপদ ও মানসম্পন্ন খাদ্য নিশ্চিত করতে এমন কোনো উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণ করা যাবে না, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

কৃষিতে ক্ষতিকর পেস্টিসাইডের ব্যবহার কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। মাটি, পানি, আলো-বাতাস ও মানুষের জন্য ক্ষতিকর পেস্টিসাইডের ব্যবহার থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, মাটি ও পানিদূষণ কমানোর কোনো বিকল্প নেই।

দেশের মাটি ও পানিতে হেভি মেটালের উপস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে বলে জানান মন্ত্রী। পানিতে লেড ও আর্সেনিকের মতো ক্ষতিকর উপাদান পাওয়ার পাশাপাশি চালেও হেভি মেটালের উপস্থিতির বিষয়টি সামনে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এসব ক্ষতিকর উপাদান মাটি, ভূগর্ভস্থ পানি, সার নাকি পেস্টিসাইড থেকে আসছে—তা চিহ্নিত করতে সরকার গবেষণা শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।

ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের অনেক এলাকায় পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে নদীর মিঠাপানি সেচকাজে ব্যবহার করে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন কমানো বা বন্ধ করা যায় কি না, তা নিয়ে চিন্তা করতে হবে।

কৃষি বিষয়ে পড়াশোনা করা তরুণদের চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু চাকরি সৃষ্টি করা নয়; কৃষি বিষয়ে শিক্ষিত তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করা। এ ক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক। বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের ডেপুটি হেড অব মিশন জন্না ভ্যান ডের লিন্ডেনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ফিশটেক বিডি লিমিটেডের চেয়ারম্যান খন্দকার ফরহাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, প্রান্তিক পর্যায়ের খামারি এবং ফিশটেকের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে আধুনিক মৎস্য প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব চাষ পদ্ধতি, বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের জন্য ভিসা বুলেটিন প্রকাশ

৫.৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো জাপান, বহু হতাহতের আশঙ্কা 

২৩ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

মাছের উৎপাদন বাড়াতে হবে, মানের সঙ্গে আপস নয়: কৃষিমন্ত্রী

আপডেটের সময় : ০৭:০০:৪৬ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬

দেশের মানুষের চাহিদা পূরণে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদিত মাছের গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে কোনোভাবেই খাদ্যের মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা যাবে না।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর বনানীর হোটেল সারিনায় ফিশটেক বিডি লিমিটেড আয়োজিত ‘অ্যাকুয়াকালচার নলেজ ডে-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, গবেষক, বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষি ও মৎস্যপণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে মানসম্মত উৎপাদনের বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি না থাকলেও গুণগত মানসম্পন্ন খাদ্য উৎপাদন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কৃষিপণ্য রপ্তানির মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে হলে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে উৎপাদন বাড়াতে হবে।

মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত। এই জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করা গেলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী হবে। কৃষিতে উৎপাদন বাড়ানোর অন্যতম লক্ষ্য দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্ত করা।

গবেষকদের প্রাকৃতিক ও পরিবেশবান্ধব সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক ও ভ্যাকসিনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিভিন্ন সমস্যার প্রাকৃতিক সমাধান খুঁজতে হবে। মানুষের জন্য নিরাপদ ও মানসম্পন্ন খাদ্য নিশ্চিত করতে এমন কোনো উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণ করা যাবে না, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

কৃষিতে ক্ষতিকর পেস্টিসাইডের ব্যবহার কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। মাটি, পানি, আলো-বাতাস ও মানুষের জন্য ক্ষতিকর পেস্টিসাইডের ব্যবহার থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, মাটি ও পানিদূষণ কমানোর কোনো বিকল্প নেই।

দেশের মাটি ও পানিতে হেভি মেটালের উপস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে বলে জানান মন্ত্রী। পানিতে লেড ও আর্সেনিকের মতো ক্ষতিকর উপাদান পাওয়ার পাশাপাশি চালেও হেভি মেটালের উপস্থিতির বিষয়টি সামনে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এসব ক্ষতিকর উপাদান মাটি, ভূগর্ভস্থ পানি, সার নাকি পেস্টিসাইড থেকে আসছে—তা চিহ্নিত করতে সরকার গবেষণা শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।

ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের অনেক এলাকায় পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে নদীর মিঠাপানি সেচকাজে ব্যবহার করে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন কমানো বা বন্ধ করা যায় কি না, তা নিয়ে চিন্তা করতে হবে।

কৃষি বিষয়ে পড়াশোনা করা তরুণদের চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু চাকরি সৃষ্টি করা নয়; কৃষি বিষয়ে শিক্ষিত তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করা। এ ক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক। বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের ডেপুটি হেড অব মিশন জন্না ভ্যান ডের লিন্ডেনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ফিশটেক বিডি লিমিটেডের চেয়ারম্যান খন্দকার ফরহাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, প্রান্তিক পর্যায়ের খামারি এবং ফিশটেকের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে আধুনিক মৎস্য প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব চাষ পদ্ধতি, বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়।

Share this news as a Photo Card