নিউইয়র্ক ০৭:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মায়ের রক্তাক্ত-নিথর দেহ আঁকড়ে ধরে কাঁদছিল দেড় বছরের শিশু

  • আপডেটের সময় : ০২:৩৬:০২ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

জনশূন্য এক ফসলের মাঠ। সেখানে রক্তাক্ত-নিথর পড়ে আছেন এক নারী। আর তার রক্তাক্ত দেহের ওপর আঁকড়ে ধরে একটানা কেঁদে চলেছে দেড় বছর বয়সী এক অবুঝ শিশু। মাকে জাগিয়ে তোলার এই ব্যর্থ চেষ্টা আর অবোধ কান্নাই যেন জানান দিচ্ছিল ঠিক কতটা বর্বরোচিত ঘটনার শিকার হয়েছেন ওই নারী। ভারতের কর্ণাটকের রায়চুর জেলায় এমনই এক হৃদয়বিদারক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে।

রায়চুর জেলার সিন্ধনুর উপজেলার আরএইচ ক্যাম্প-৫ এলাকায় একটি কৃষিজমি থেকে স্নেহা (২৫) নামের ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়। তিনি পার্শ্ববর্তী আরএইচ ক্যাম্প-৪ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। পুলিশ ধারণা করছে, ভারী পাথর দিয়ে মাথায় ও শরীরে আঘাত করে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর দুর্বৃত্তরা তার দেড় বছরের কন্যাসন্তানটিকে রক্তাক্ত মরদেহের ওপর বসিয়ে রেখে চলে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা মাঠে স্নেহার দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। তখনো শিশুটি তার নিথর মাকে জড়িয়ে ধরে আহাজারি করছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখতে পায়, নারীর দেহে তখনও মৃদু শ্বাস বইছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পরপরই সিন্ধনুর গ্রামীণ থানা-পুলিশ বিষয়টি নিয়ে নিবিড় তদন্ত শুরু করেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে দুজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন নিহত নারীর স্বামী অমিত এবং তার কথিত প্রেমিক শুভম।

পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে অমিতের সঙ্গে স্নেহার বিয়ে হয়। তবে বিগত চার মাস ধরে শুভম নামের এক যুবকের সঙ্গে তিনি পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ঠিক কী কারণ রয়েছে এবং প্রকৃত অপরাধী কে—তা নিশ্চিত করতে আটক স্বামী ও কথিত প্রেমিককে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

ময়নাতদন্তের জন্য নিহত নারীর মরদেহ সিন্ধনুর তালুক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

তিন ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া

মায়ের রক্তাক্ত-নিথর দেহ আঁকড়ে ধরে কাঁদছিল দেড় বছরের শিশু

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

মায়ের রক্তাক্ত-নিথর দেহ আঁকড়ে ধরে কাঁদছিল দেড় বছরের শিশু

আপডেটের সময় : ০২:৩৬:০২ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জনশূন্য এক ফসলের মাঠ। সেখানে রক্তাক্ত-নিথর পড়ে আছেন এক নারী। আর তার রক্তাক্ত দেহের ওপর আঁকড়ে ধরে একটানা কেঁদে চলেছে দেড় বছর বয়সী এক অবুঝ শিশু। মাকে জাগিয়ে তোলার এই ব্যর্থ চেষ্টা আর অবোধ কান্নাই যেন জানান দিচ্ছিল ঠিক কতটা বর্বরোচিত ঘটনার শিকার হয়েছেন ওই নারী। ভারতের কর্ণাটকের রায়চুর জেলায় এমনই এক হৃদয়বিদারক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে।

রায়চুর জেলার সিন্ধনুর উপজেলার আরএইচ ক্যাম্প-৫ এলাকায় একটি কৃষিজমি থেকে স্নেহা (২৫) নামের ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়। তিনি পার্শ্ববর্তী আরএইচ ক্যাম্প-৪ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। পুলিশ ধারণা করছে, ভারী পাথর দিয়ে মাথায় ও শরীরে আঘাত করে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর দুর্বৃত্তরা তার দেড় বছরের কন্যাসন্তানটিকে রক্তাক্ত মরদেহের ওপর বসিয়ে রেখে চলে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা মাঠে স্নেহার দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। তখনো শিশুটি তার নিথর মাকে জড়িয়ে ধরে আহাজারি করছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখতে পায়, নারীর দেহে তখনও মৃদু শ্বাস বইছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পরপরই সিন্ধনুর গ্রামীণ থানা-পুলিশ বিষয়টি নিয়ে নিবিড় তদন্ত শুরু করেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে দুজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন নিহত নারীর স্বামী অমিত এবং তার কথিত প্রেমিক শুভম।

পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে অমিতের সঙ্গে স্নেহার বিয়ে হয়। তবে বিগত চার মাস ধরে শুভম নামের এক যুবকের সঙ্গে তিনি পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ঠিক কী কারণ রয়েছে এবং প্রকৃত অপরাধী কে—তা নিশ্চিত করতে আটক স্বামী ও কথিত প্রেমিককে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

ময়নাতদন্তের জন্য নিহত নারীর মরদেহ সিন্ধনুর তালুক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Share this news as a Photo Card