নিউইয়র্ক ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের গোপনীয় বিশেষ আদালতে প্রথম মামলা, আফগান নারীকে বহিষ্কার

  • আপডেটের সময় : ০১:৪৮:০২ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৮ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

আইনগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে টেক্সাসে বসবাসরত এক আফগান নারীকে দেশটি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হয়েছে গোপনীয় একটি বিশেষ আদালত। 

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনযায়ী, ৩০ বছর আগে ‘বিদেশী সন্ত্রাসীদের’ বহিষ্কারের জন্য গঠিত একটি স্বল্প-পরিচিত আদালতের মাধ্যমে মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক পরিচালিত এটিই প্রথম মামলা।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এবং ওই নারীর আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ৪৭ বছর বয়সী নাজিরা হাজি জাদা ওই আদালতে নিজের মামলা নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

১৯৯৬ সালে ‘এলিয়েন টেররিস্ট রিমুভাল কোর্ট’ গঠন করা হলেও জুলাইয়ে নাজিরা হাজি জাদার মামলার আগে এই আদালতে কখনো কোনো মামলা শুনানি হয়নি। জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত এবং গোপনীয় প্রমাণের ভিত্তিতে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগের মুখে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন—এমন ব্যক্তিদের জন্য এই আদালতটি তৈরি করা হয়েছিল।

নাজিরা হাজি জাদার আইনজীবীরা যুক্তি দেন, এই মামলা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে থাকা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করেছে। আফগানিস্তানের নাগরিক নাজিরা হাজি জাদার বিরুদ্ধে কখনই সরাসরি কোনো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি। তবে সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট অপরাধে তার ছেলে ও জামাতাকে প্রসিকিউটররা বিচারের মুখোমুখি করেন এবং তারা দোষী সাব্যস্ত হন।

তার ছেলে আবদুল্লাহ হাজি জাদা এবং জামাতা নাসির আহমদ তাওহিদ-দুজনকেই ২০২৪ সালের নির্বাচনের দিন ব্যাপক গুলির ঘটনা ঘটানোর ষড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। নিজেদের ইসলামিক স্টেটের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে তারা ওই হামলার পরিকল্পনা করেছিল বলে অভিযোগ ছিল।

টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থে বসবাসরত নাজিরা হাজি জাদাকে প্রসিকিউটররা ওই গোষ্ঠীর ‘মাতৃপ্রধান’ হিসেবে অভিযুক্ত করেন। তাদের দাবি, তিনি ‘পরিবারকে উগ্রপন্থি করে তুলতে’ কাজ করেছিলেন। 

শুক্রবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানায়, ওই নারী স্বীকার করেছেন যে তিনি একজন বিদেশি সন্ত্রাসী এবং বহিষ্কার আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের অধিকার ত্যাগ করেছেন, যার ফলে তার আগের অভিবাসন মর্যাদা বাতিল হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, ‘এই ঐতিহাসিক মামলার ফলে এই বিদেশি সন্ত্রাসীকে দ্রুত তার নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের জন্য একটি বিজয়। যারা সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন ও প্রশ্রয় দেয়, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা উচিত নয়। আর এটিআরসির সামনে এই প্রথম মামলাটি দেখিয়ে দিয়েছে, আমাদের দেশকে সুরক্ষিত রাখতে বিভাগটি তার হাতে থাকা প্রতিটি উপায় কীভাবে ব্যবহার করবে।’

নাজিরা হাজি জাদার আদালত-নিযুক্ত আইনজীবীরা জানান, তার মামলার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রমাণাদি দেখার সুযোগ দেয়া হয়নি তাদের। পাবলিক ডিফেন্ডার ম্যাথিউ ফার্লি ও মেরি ম্যানিং পেট্রাস ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের মক্কেলের বহিষ্কারে সম্মতি দেয়ার সিদ্ধান্তকে এই আদালতের বৈধতার প্রতি সমর্থন হিসেবে দেখা উচিত নয়।’

তারা বলেন, ‘আইনগতভাবে স্থায়ী বাসিন্দাদের আদালতে টেনে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে, অথচ তাদের বা তাদের আইনজীবীদের সংশ্লিষ্ট অভিযোগের প্রমাণাদি দেখানো হবে না তা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার স্পষ্ট লঙ্ঘন। আমরা নিশ্চিত যে, কোনো বিচারক যখনই এই বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য গ্রহণ করবেন, তখনই ‘এলিয়েন টেররিস্ট রিমুভাল কোর্ট’কে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে।’

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও এলপিজি ও জেট ফুয়েল রপ্তানি করছে ইরান

মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় বরখাস্ত ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি জাকারিয়া

১৭ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

যুক্তরাষ্ট্রের গোপনীয় বিশেষ আদালতে প্রথম মামলা, আফগান নারীকে বহিষ্কার

আপডেটের সময় : ০১:৪৮:০২ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আইনগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে টেক্সাসে বসবাসরত এক আফগান নারীকে দেশটি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হয়েছে গোপনীয় একটি বিশেষ আদালত। 

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনযায়ী, ৩০ বছর আগে ‘বিদেশী সন্ত্রাসীদের’ বহিষ্কারের জন্য গঠিত একটি স্বল্প-পরিচিত আদালতের মাধ্যমে মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক পরিচালিত এটিই প্রথম মামলা।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এবং ওই নারীর আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ৪৭ বছর বয়সী নাজিরা হাজি জাদা ওই আদালতে নিজের মামলা নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

১৯৯৬ সালে ‘এলিয়েন টেররিস্ট রিমুভাল কোর্ট’ গঠন করা হলেও জুলাইয়ে নাজিরা হাজি জাদার মামলার আগে এই আদালতে কখনো কোনো মামলা শুনানি হয়নি। জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত এবং গোপনীয় প্রমাণের ভিত্তিতে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগের মুখে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন—এমন ব্যক্তিদের জন্য এই আদালতটি তৈরি করা হয়েছিল।

নাজিরা হাজি জাদার আইনজীবীরা যুক্তি দেন, এই মামলা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে থাকা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করেছে। আফগানিস্তানের নাগরিক নাজিরা হাজি জাদার বিরুদ্ধে কখনই সরাসরি কোনো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি। তবে সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট অপরাধে তার ছেলে ও জামাতাকে প্রসিকিউটররা বিচারের মুখোমুখি করেন এবং তারা দোষী সাব্যস্ত হন।

তার ছেলে আবদুল্লাহ হাজি জাদা এবং জামাতা নাসির আহমদ তাওহিদ-দুজনকেই ২০২৪ সালের নির্বাচনের দিন ব্যাপক গুলির ঘটনা ঘটানোর ষড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। নিজেদের ইসলামিক স্টেটের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে তারা ওই হামলার পরিকল্পনা করেছিল বলে অভিযোগ ছিল।

টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থে বসবাসরত নাজিরা হাজি জাদাকে প্রসিকিউটররা ওই গোষ্ঠীর ‘মাতৃপ্রধান’ হিসেবে অভিযুক্ত করেন। তাদের দাবি, তিনি ‘পরিবারকে উগ্রপন্থি করে তুলতে’ কাজ করেছিলেন। 

শুক্রবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানায়, ওই নারী স্বীকার করেছেন যে তিনি একজন বিদেশি সন্ত্রাসী এবং বহিষ্কার আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের অধিকার ত্যাগ করেছেন, যার ফলে তার আগের অভিবাসন মর্যাদা বাতিল হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, ‘এই ঐতিহাসিক মামলার ফলে এই বিদেশি সন্ত্রাসীকে দ্রুত তার নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের জন্য একটি বিজয়। যারা সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন ও প্রশ্রয় দেয়, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা উচিত নয়। আর এটিআরসির সামনে এই প্রথম মামলাটি দেখিয়ে দিয়েছে, আমাদের দেশকে সুরক্ষিত রাখতে বিভাগটি তার হাতে থাকা প্রতিটি উপায় কীভাবে ব্যবহার করবে।’

নাজিরা হাজি জাদার আদালত-নিযুক্ত আইনজীবীরা জানান, তার মামলার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রমাণাদি দেখার সুযোগ দেয়া হয়নি তাদের। পাবলিক ডিফেন্ডার ম্যাথিউ ফার্লি ও মেরি ম্যানিং পেট্রাস ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের মক্কেলের বহিষ্কারে সম্মতি দেয়ার সিদ্ধান্তকে এই আদালতের বৈধতার প্রতি সমর্থন হিসেবে দেখা উচিত নয়।’

তারা বলেন, ‘আইনগতভাবে স্থায়ী বাসিন্দাদের আদালতে টেনে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে, অথচ তাদের বা তাদের আইনজীবীদের সংশ্লিষ্ট অভিযোগের প্রমাণাদি দেখানো হবে না তা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার স্পষ্ট লঙ্ঘন। আমরা নিশ্চিত যে, কোনো বিচারক যখনই এই বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য গ্রহণ করবেন, তখনই ‘এলিয়েন টেররিস্ট রিমুভাল কোর্ট’কে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে।’

Share this news as a Photo Card