নিউইয়র্ক ০৬:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লিটারপ্রতি ১০ টাকা বেড়েছে প্রায় সব ব্র্যান্ডের তরল দুধের দাম

  • আপডেটের সময় : ১২:৪৮:১৩ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

বাজারে প্রায় সব ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত তরল দুধের দাম লিটারপ্রতি ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নিয়মিত পুষ্টির অন্যতম উৎস দুধের খরচ আরও বেড়েছে। দাম বাড়ায় অনেক ভোক্তা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, কেউ কেউ শিশুদের দুধ খাওয়ানোও কমিয়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

গত মাসে মিল্কভিটার আধা লিটার দুধের দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে ৬০ টাকা করা হয়। একই সময়ে এক লিটারের প্যাকেটের দাম ১০ টাকা বাড়িয়ে ১১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

সম্প্রতি অন্যান্য ব্র্যান্ডের তরল দুধের দামও বেড়েছে। ফার্ম ফ্রেশ, আড়ং ও প্রাণ ডেইরির আধা লিটার দুধ ৫৫ টাকা এবং এক লিটারের প্যাকেট ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দুধের দাম বৃদ্ধিতে ক্ষোভ জানিয়েছেন ক্রেতারা। তাদের মতে, দুধ দৈনন্দিন পুষ্টির গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলেও ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে অনেক পরিবারের জন্য তা কেনা কঠিন হয়ে পড়ছে। কেউ কেউ দাম বাড়ার কারণে শিশুদের নিয়মিত দুধ খাওয়ানোও বন্ধ করে দিয়েছেন।

রাজধানীর রামপুরা এলাকায় দুধ কিনতে আসা একজন ক্রেতা বলেন, দুধ সুষম খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং ছোটবেলা থেকেই সবাই এর প্রয়োজনীয়তার কথা শুনে আসছেন। তাই এভাবে একবারে এতোটা দাম বাড়ানো ঠিক হয়নি।

আরেক ভোক্তা জানান, মূল্যবৃদ্ধির কারণে তিনি তার শিশুকে নিয়মিত দুধ খাওয়ানো বন্ধ করে দিয়েছেন। তার ভাষ্য, আগে নিয়মিত দুধ খাওয়ালেও দাম বেড়ে যাওয়ার পর সেই খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

খুচরা বিক্রেতারাও বলছেন, দাম বাড়ার পর তরল দুধের বিক্রি কমে গেছে। তাদের অভিযোগ, একসঙ্গে প্রায় সব ব্র্যান্ডের দুধের দাম লিটারপ্রতি ১০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।

তবে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দুধের দাম সমন্বয় করতে হয়েছে। প্যাকেজিং উপকরণ, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে প্রতি লিটার দুধ উৎপাদনে আগের তুলনায় বেশি ব্যয় হচ্ছে।

মিল্কভিটার চেয়ারম্যান এস এম আমীর হামজা শাতিল বলেন, প্যাকেজিং উপকরণের দাম অনেক বেড়েছে। পাশাপাশি গ্যাস ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। এসব কারণে প্রতিষ্ঠানটি লোকসানে চলছিল। তাই বাধ্য হয়ে দুধের দাম বাড়াতে হয়েছে।

মিল্কভিটার পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, কৃষক পর্যায়ে দুধের ক্রয়মূল্যও লিটারপ্রতি ৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামের মধ্যে তরল দুধের নতুন মূল্য নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। ভোক্তাদের দাবি, পুষ্টির গুরুত্বপূর্ণ এই খাদ্যপণ্যটির দাম যেন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা হয়।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

দূরপাল্লায় ২০ পয়সা/কিমি ও শহরে ১৮ পয়সা/কিমি বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব

যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সামনে ৩টি পথ খোলা আছে: ট্রাম্প

২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

লিটারপ্রতি ১০ টাকা বেড়েছে প্রায় সব ব্র্যান্ডের তরল দুধের দাম

আপডেটের সময় : ১২:৪৮:১৩ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাজারে প্রায় সব ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত তরল দুধের দাম লিটারপ্রতি ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নিয়মিত পুষ্টির অন্যতম উৎস দুধের খরচ আরও বেড়েছে। দাম বাড়ায় অনেক ভোক্তা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, কেউ কেউ শিশুদের দুধ খাওয়ানোও কমিয়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

গত মাসে মিল্কভিটার আধা লিটার দুধের দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে ৬০ টাকা করা হয়। একই সময়ে এক লিটারের প্যাকেটের দাম ১০ টাকা বাড়িয়ে ১১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

সম্প্রতি অন্যান্য ব্র্যান্ডের তরল দুধের দামও বেড়েছে। ফার্ম ফ্রেশ, আড়ং ও প্রাণ ডেইরির আধা লিটার দুধ ৫৫ টাকা এবং এক লিটারের প্যাকেট ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দুধের দাম বৃদ্ধিতে ক্ষোভ জানিয়েছেন ক্রেতারা। তাদের মতে, দুধ দৈনন্দিন পুষ্টির গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলেও ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে অনেক পরিবারের জন্য তা কেনা কঠিন হয়ে পড়ছে। কেউ কেউ দাম বাড়ার কারণে শিশুদের নিয়মিত দুধ খাওয়ানোও বন্ধ করে দিয়েছেন।

রাজধানীর রামপুরা এলাকায় দুধ কিনতে আসা একজন ক্রেতা বলেন, দুধ সুষম খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং ছোটবেলা থেকেই সবাই এর প্রয়োজনীয়তার কথা শুনে আসছেন। তাই এভাবে একবারে এতোটা দাম বাড়ানো ঠিক হয়নি।

আরেক ভোক্তা জানান, মূল্যবৃদ্ধির কারণে তিনি তার শিশুকে নিয়মিত দুধ খাওয়ানো বন্ধ করে দিয়েছেন। তার ভাষ্য, আগে নিয়মিত দুধ খাওয়ালেও দাম বেড়ে যাওয়ার পর সেই খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

খুচরা বিক্রেতারাও বলছেন, দাম বাড়ার পর তরল দুধের বিক্রি কমে গেছে। তাদের অভিযোগ, একসঙ্গে প্রায় সব ব্র্যান্ডের দুধের দাম লিটারপ্রতি ১০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।

তবে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দুধের দাম সমন্বয় করতে হয়েছে। প্যাকেজিং উপকরণ, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে প্রতি লিটার দুধ উৎপাদনে আগের তুলনায় বেশি ব্যয় হচ্ছে।

মিল্কভিটার চেয়ারম্যান এস এম আমীর হামজা শাতিল বলেন, প্যাকেজিং উপকরণের দাম অনেক বেড়েছে। পাশাপাশি গ্যাস ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। এসব কারণে প্রতিষ্ঠানটি লোকসানে চলছিল। তাই বাধ্য হয়ে দুধের দাম বাড়াতে হয়েছে।

মিল্কভিটার পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, কৃষক পর্যায়ে দুধের ক্রয়মূল্যও লিটারপ্রতি ৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামের মধ্যে তরল দুধের নতুন মূল্য নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। ভোক্তাদের দাবি, পুষ্টির গুরুত্বপূর্ণ এই খাদ্যপণ্যটির দাম যেন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা হয়।

Share this news as a Photo Card