নিউইয়র্ক ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শি জিনপিংয়ের অসুস্থতা নিয়ে রহস্য

  • আপডেটের সময় : ০৩:৫৮:০৬ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবি জোরালোভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বলা হচ্ছে, নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের সময় তিনি হঠাৎ জ্ঞান হারান। পরে স্ট্রোক হলে জরুরি চিকিৎসার জন্য বিমানে করে তাকে বেইজিংয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

তবে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুসারে, এসব দাবির পক্ষে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। চীন বা ভারত কোনো দেশের সরকারই শির অসুস্থতা, স্ট্রোক বা হাসপাতালে ভর্তির কথা নিশ্চিত করেনি। এক্স-এ চীনা বিরোধী নেতা ওয়ানজুন শিয়ে এসব কথা বলেছেন। তার পোস্টে পরে কমিউনিটি নোট যোগ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে পোস্টের তথ্য বাস্তবের সঙ্গে মিলছে না।

গত ১২ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন শি জিনপিং। সাত বছর পর এটিই ছিল তার প্রথম ভারত সফর। সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি। সেখানে দুই দেশের সম্পর্ক, সীমান্ত পরিস্থিতি ও বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হয়। সম্মেলনে শি পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত মিটাতে ব্রিকস দেশগুলোকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, চলমান যুদ্ধ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বার্থের পরিপন্থী। একই সঙ্গে ঘোষণা করেন, আগামী বছর ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব নেবে চীন এবং ১৯তম সম্মেলনও চীনেই হবে।

সম্মেলনের পর মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। কিন্তু সেদিন রাতে মোদির দেওয়া নৈশভোজে শি যাননি। ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ওই ভোজে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। শির বদলে চীনের প্রতিনিধিত্ব করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। কেন তিনি ভোজে যাননি, সে বিষয়ে কোনো দেশই আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্লান্তিকর দিনের পর তিনি হোটেলে বিশ্রাম নিতে গিয়েছিলেন।

এর আগে সম্মেলনে মোদির বক্তব্যের সময় শির সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, মোদি চীনা প্রতিনিধিদলের দিকে তাকিয়ে শিকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘সব ঠিক আছে তো?’ শি কিছু বলতেও দেখা যায়। এরপরই মোদি তার বক্তব্য চালিয়ে যান। এই ঘটনা এবং নৈশভোজে অনুপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

ওয়ানজুন শিয়ে তার পোস্টে দাবি করেছেন, সম্মেলনের সময় শি জ্ঞান হারান এবং সঙ্গে থাকা চিকিৎসকেরা জরুরি চিকিৎসা দেন। পরে বিশেষ বিমানে করে তাকে বেইজিংয়ে পাঠানো হয়। সেখানে সামরিক হেলিকপ্টারে করে ৩০১ হাসপাতালে (পিপলস লিবারেশন আর্মির জেনারেল হাসপাতাল) নেওয়া হয়। সেখানে গুরুতর স্ট্রোক ধরা পড়ে, অস্ত্রোপচার করা হয় এবং তাকে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয় বলেও দাবি তার। নয়াদিল্লি থেকে বেইজিংয়ের দীর্ঘ যাত্রায় চিকিৎসা পেতে দেরি হয়েছে বলেও তিনি বলেছেন। তবে এসব দাবির কোনোটিই এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এর বিপরীতে চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম ও গোভ ডট সিএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লিতে সম্মেলন শেষে শি রবিবার সন্ধ্যায় বেইজিংয়ে ফিরেছেন। তার সঙ্গে ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর স্থায়ী কমিটির সদস্য কাই শি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। তারাও একই বিমানে ফিরেছেন। ওই প্রতিবেদনে শির স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো সমস্যার কথা উল্লেখ নেই।

এখন পর্যন্ত চীন বা ভারতের কোনো সরকারি সূত্রই বলেনি যে শি জ্ঞান হারিয়েছিলেন, স্ট্রোক করেছেন, অস্ত্রোপচার হয়েছে বা তাকে ৩০১ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দাবিদার ওয়ানজুন শিয়ে চীনা গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত একজন বিরোধী নেতা। তিনি চায়না ডেমোক্রেসি পার্টির চেয়ারম্যান। এই দল চীনে নিষিদ্ধ। ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরপরই কমিউনিস্ট পার্টি একে নিষিদ্ধ করে এবং কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তার করে কারাদণ্ড দেয়। এরপর দলটির কার্যক্রম মূলত বিদেশ থেকে চলে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে এর শাখা রয়েছে।

চায়না ডেমোক্রেসি পার্টি বহুদলীয় গণতন্ত্র, সরাসরি নির্বাচন, ক্ষমতার পৃথকীকরণ, মতপ্রকাশ ও সংগঠনের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসনের পক্ষে অবস্থান নেয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে দলটির সদস্যদের ওপর চীনা কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও আটকের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

সৌদি আরবে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে বিদেশি নাগরিক নিহত

উপসাগরীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

শি জিনপিংয়ের অসুস্থতা নিয়ে রহস্য

আপডেটের সময় : ০৩:৫৮:০৬ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবি জোরালোভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বলা হচ্ছে, নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের সময় তিনি হঠাৎ জ্ঞান হারান। পরে স্ট্রোক হলে জরুরি চিকিৎসার জন্য বিমানে করে তাকে বেইজিংয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

তবে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুসারে, এসব দাবির পক্ষে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। চীন বা ভারত কোনো দেশের সরকারই শির অসুস্থতা, স্ট্রোক বা হাসপাতালে ভর্তির কথা নিশ্চিত করেনি। এক্স-এ চীনা বিরোধী নেতা ওয়ানজুন শিয়ে এসব কথা বলেছেন। তার পোস্টে পরে কমিউনিটি নোট যোগ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে পোস্টের তথ্য বাস্তবের সঙ্গে মিলছে না।

গত ১২ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন শি জিনপিং। সাত বছর পর এটিই ছিল তার প্রথম ভারত সফর। সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি। সেখানে দুই দেশের সম্পর্ক, সীমান্ত পরিস্থিতি ও বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হয়। সম্মেলনে শি পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত মিটাতে ব্রিকস দেশগুলোকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, চলমান যুদ্ধ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বার্থের পরিপন্থী। একই সঙ্গে ঘোষণা করেন, আগামী বছর ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব নেবে চীন এবং ১৯তম সম্মেলনও চীনেই হবে।

সম্মেলনের পর মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। কিন্তু সেদিন রাতে মোদির দেওয়া নৈশভোজে শি যাননি। ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ওই ভোজে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। শির বদলে চীনের প্রতিনিধিত্ব করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। কেন তিনি ভোজে যাননি, সে বিষয়ে কোনো দেশই আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্লান্তিকর দিনের পর তিনি হোটেলে বিশ্রাম নিতে গিয়েছিলেন।

এর আগে সম্মেলনে মোদির বক্তব্যের সময় শির সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, মোদি চীনা প্রতিনিধিদলের দিকে তাকিয়ে শিকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘সব ঠিক আছে তো?’ শি কিছু বলতেও দেখা যায়। এরপরই মোদি তার বক্তব্য চালিয়ে যান। এই ঘটনা এবং নৈশভোজে অনুপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

ওয়ানজুন শিয়ে তার পোস্টে দাবি করেছেন, সম্মেলনের সময় শি জ্ঞান হারান এবং সঙ্গে থাকা চিকিৎসকেরা জরুরি চিকিৎসা দেন। পরে বিশেষ বিমানে করে তাকে বেইজিংয়ে পাঠানো হয়। সেখানে সামরিক হেলিকপ্টারে করে ৩০১ হাসপাতালে (পিপলস লিবারেশন আর্মির জেনারেল হাসপাতাল) নেওয়া হয়। সেখানে গুরুতর স্ট্রোক ধরা পড়ে, অস্ত্রোপচার করা হয় এবং তাকে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয় বলেও দাবি তার। নয়াদিল্লি থেকে বেইজিংয়ের দীর্ঘ যাত্রায় চিকিৎসা পেতে দেরি হয়েছে বলেও তিনি বলেছেন। তবে এসব দাবির কোনোটিই এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এর বিপরীতে চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম ও গোভ ডট সিএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লিতে সম্মেলন শেষে শি রবিবার সন্ধ্যায় বেইজিংয়ে ফিরেছেন। তার সঙ্গে ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর স্থায়ী কমিটির সদস্য কাই শি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। তারাও একই বিমানে ফিরেছেন। ওই প্রতিবেদনে শির স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো সমস্যার কথা উল্লেখ নেই।

এখন পর্যন্ত চীন বা ভারতের কোনো সরকারি সূত্রই বলেনি যে শি জ্ঞান হারিয়েছিলেন, স্ট্রোক করেছেন, অস্ত্রোপচার হয়েছে বা তাকে ৩০১ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দাবিদার ওয়ানজুন শিয়ে চীনা গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত একজন বিরোধী নেতা। তিনি চায়না ডেমোক্রেসি পার্টির চেয়ারম্যান। এই দল চীনে নিষিদ্ধ। ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরপরই কমিউনিস্ট পার্টি একে নিষিদ্ধ করে এবং কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তার করে কারাদণ্ড দেয়। এরপর দলটির কার্যক্রম মূলত বিদেশ থেকে চলে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে এর শাখা রয়েছে।

চায়না ডেমোক্রেসি পার্টি বহুদলীয় গণতন্ত্র, সরাসরি নির্বাচন, ক্ষমতার পৃথকীকরণ, মতপ্রকাশ ও সংগঠনের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসনের পক্ষে অবস্থান নেয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে দলটির সদস্যদের ওপর চীনা কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও আটকের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।

Share this news as a Photo Card