নিউইয়র্ক ০৭:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষর

  • আপডেটের সময় : ০৫:৩৫:৩৩ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরব বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার সুযোগ পেতে পারে। গত নভেম্বরে সৌদি নেতার ওয়াশিংটন সফরের পর চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয় এই চুক্তিকে একটি ‘শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা সৌদি আরবের পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচিতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি করবে।
 
এই চুক্তিতে কী আছে সেটি পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আওতায় ভবিষ্যতে সৌদি আরব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ পেতে পারে-যা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি পারমাণবিক বোমা তৈরির কাজেও লাগানো সম্ভব।
 
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি নজিরবিহীন পদক্ষেপ হবে এবং ইতোমধ্যে অস্থিতিশীল একটি অঞ্চলে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
 
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, সহযোগিতা চুক্তির পাশাপাশি একটি ‘দ্বিপক্ষীয় সুরক্ষা চুক্তি’ও স্বাক্ষরিত হয়েছে। এক বিবৃতিতে জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘এই দুটি চুক্তি একসঙ্গে কয়েক দশকব্যাপী বহু বিলিয়ন ডলারের অংশীদারত্বের জন্য আইনি ভিত্তি তৈরি করেছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধসহ একাধিক অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক ও কৌশলগত লক্ষ্যকে এগিয়ে নেবে।’
 
সৌদি সরকারও এ বিষয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, এই চুক্তি ‘জ্বালানি খাতে দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতারই একটি সম্প্রসারণ’। একইসঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে, গত নভেম্বরে সৌদি নেতার ওয়াশিংটন সফরের পর এই চুক্তি সম্পন্ন হলো।
 
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ তীব্রতর হওয়ার প্রেক্ষাপটে এ ঘোষণা সামনে এলো। দীর্ঘদিনের মার্কিন মিত্র সৌদি আরবে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ইতোমধ্যে ইরানি হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এর পাশাপাশি, ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌপথ অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার দুই দিনের মাথায় চুক্তির বিষয়টি প্রকাশ করা হলো।
 
তথ্যসূত্র: বিবিসি

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

পারমাণবিক চুক্তির জন্য ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিতে হবে সৌদি আরবকে: ট্রাম্প

দিল্লিতে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ফের সংঘর্ষ, বন্ধ ইন্টারনেট

২৩ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষর

আপডেটের সময় : ০৫:৩৫:৩৩ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরব বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার সুযোগ পেতে পারে। গত নভেম্বরে সৌদি নেতার ওয়াশিংটন সফরের পর চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয় এই চুক্তিকে একটি ‘শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা সৌদি আরবের পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচিতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি করবে।
 
এই চুক্তিতে কী আছে সেটি পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আওতায় ভবিষ্যতে সৌদি আরব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ পেতে পারে-যা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি পারমাণবিক বোমা তৈরির কাজেও লাগানো সম্ভব।
 
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি নজিরবিহীন পদক্ষেপ হবে এবং ইতোমধ্যে অস্থিতিশীল একটি অঞ্চলে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
 
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, সহযোগিতা চুক্তির পাশাপাশি একটি ‘দ্বিপক্ষীয় সুরক্ষা চুক্তি’ও স্বাক্ষরিত হয়েছে। এক বিবৃতিতে জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘এই দুটি চুক্তি একসঙ্গে কয়েক দশকব্যাপী বহু বিলিয়ন ডলারের অংশীদারত্বের জন্য আইনি ভিত্তি তৈরি করেছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধসহ একাধিক অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক ও কৌশলগত লক্ষ্যকে এগিয়ে নেবে।’
 
সৌদি সরকারও এ বিষয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, এই চুক্তি ‘জ্বালানি খাতে দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতারই একটি সম্প্রসারণ’। একইসঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে, গত নভেম্বরে সৌদি নেতার ওয়াশিংটন সফরের পর এই চুক্তি সম্পন্ন হলো।
 
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ তীব্রতর হওয়ার প্রেক্ষাপটে এ ঘোষণা সামনে এলো। দীর্ঘদিনের মার্কিন মিত্র সৌদি আরবে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ইতোমধ্যে ইরানি হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এর পাশাপাশি, ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌপথ অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার দুই দিনের মাথায় চুক্তির বিষয়টি প্রকাশ করা হলো।
 
তথ্যসূত্র: বিবিসি

Share this news as a Photo Card