নিউইয়র্ক ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাকা ছাপতে এক বছরে দ্বিগুণ অর্থ খরচ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

  • আপডেটের সময় : ০৮:২৭:০৫ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

দেশে নতুন ব্যাংকনোট মুদ্রণ বাবদ বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যয় এক বছরের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নোট ছাপাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট খরচ হয়েছে ৪৫৮ কোটি ৯২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৯৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন (অডিটেড ফাইন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্টস) থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নোট মুদ্রণ খাতে ব্যয় হয়েছিল ২৩৪ কোটি ৭৮ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে নোট তৈরির খরচ বেড়েছে ২২৪ কোটি ১৪ লাখ ৮ হাজার টাকা। পুরোনো ও ব্যবহারের অনুপযোগী নোট বাজার থেকে তুলে নিয়ে নতুন নোট ছাড়ার নিয়মিত মুদ্রা ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেডের (এসপিসিবিএল) মাধ্যমে এ কাজ সম্পন্ন করা হয়।

ব্যয়বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, টাকা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ নিরাপত্তা কাগজ ও কালির আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত সীমিত। সরবরাহকারী কম থাকায় এসব উপকরণের ক্ষেত্রে খুব বেশি দরকষাকষির সুযোগ থাকে না। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক বাজারে কাগজ ও কালির মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার কারণেই মূলত খরচ অস্বাভাবিক বেড়েছে। তবে এই সময়ে নতুন নোট ছাপানোর মোট পরিমাণ খুব বেশি বাড়েনি।

এদিকে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি থাকা নোটের পরিবর্তে নতুন নকশার নোট চালুর প্রক্রিয়া শুরু হলেও ব্যয়বৃদ্ধির পেছনে এর বড় কোনো ভূমিকা নেই বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মুখপাত্রের মতে, নকশা পরিবর্তনের জন্য নামমাত্র ব্যয় হয় এবং এতে মুদ্রণে কিছুটা জটিলতা তৈরি হলেও ব্যয়ের উল্লম্ফন মূলত হয়েছে কাঁচামালের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য বৃদ্ধির কারণে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গত পাঁচ অর্থবছরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরেই নোট মুদ্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বোচ্চ অর্থ ব্যয় হয়েছে। এর আগে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩৮৪ কোটি ২৫ লাখ ৪১ হাজার টাকা, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩৭৪ কোটি ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৩৭ কোটি ২৯ লাখ ৪৮ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছিল।

অন্যদিকে, মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মানে বড় কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় মুদ্রণ ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে মুদ্রা বিনিময় হারের প্রভাব ছিল একেবারে নগণ্য। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন শেষে প্রতি ডলারের গড় আন্তব্যাংক বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৭৭ পয়সা, যা ২০২৬ সালের জুনে দাঁড়ায় ১২২ টাকা ৮৫ পয়সায়। অর্থাৎ এক বছরে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে মাত্র ৮ পয়সা বা শূন্য দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার হারের চেয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়াই খরচ দ্বিগুণ হওয়ার প্রধান কারণ।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

এলএনজি টার্মিনাল-২ চুক্তি পুনর্বহালের দাবি সামিটের

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

টাকা ছাপতে এক বছরে দ্বিগুণ অর্থ খরচ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

আপডেটের সময় : ০৮:২৭:০৫ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে নতুন ব্যাংকনোট মুদ্রণ বাবদ বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যয় এক বছরের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নোট ছাপাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট খরচ হয়েছে ৪৫৮ কোটি ৯২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৯৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন (অডিটেড ফাইন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্টস) থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নোট মুদ্রণ খাতে ব্যয় হয়েছিল ২৩৪ কোটি ৭৮ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে নোট তৈরির খরচ বেড়েছে ২২৪ কোটি ১৪ লাখ ৮ হাজার টাকা। পুরোনো ও ব্যবহারের অনুপযোগী নোট বাজার থেকে তুলে নিয়ে নতুন নোট ছাড়ার নিয়মিত মুদ্রা ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেডের (এসপিসিবিএল) মাধ্যমে এ কাজ সম্পন্ন করা হয়।

ব্যয়বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, টাকা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ নিরাপত্তা কাগজ ও কালির আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত সীমিত। সরবরাহকারী কম থাকায় এসব উপকরণের ক্ষেত্রে খুব বেশি দরকষাকষির সুযোগ থাকে না। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক বাজারে কাগজ ও কালির মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার কারণেই মূলত খরচ অস্বাভাবিক বেড়েছে। তবে এই সময়ে নতুন নোট ছাপানোর মোট পরিমাণ খুব বেশি বাড়েনি।

এদিকে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি থাকা নোটের পরিবর্তে নতুন নকশার নোট চালুর প্রক্রিয়া শুরু হলেও ব্যয়বৃদ্ধির পেছনে এর বড় কোনো ভূমিকা নেই বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মুখপাত্রের মতে, নকশা পরিবর্তনের জন্য নামমাত্র ব্যয় হয় এবং এতে মুদ্রণে কিছুটা জটিলতা তৈরি হলেও ব্যয়ের উল্লম্ফন মূলত হয়েছে কাঁচামালের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য বৃদ্ধির কারণে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গত পাঁচ অর্থবছরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরেই নোট মুদ্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বোচ্চ অর্থ ব্যয় হয়েছে। এর আগে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩৮৪ কোটি ২৫ লাখ ৪১ হাজার টাকা, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩৭৪ কোটি ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৩৭ কোটি ২৯ লাখ ৪৮ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছিল।

অন্যদিকে, মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মানে বড় কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় মুদ্রণ ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে মুদ্রা বিনিময় হারের প্রভাব ছিল একেবারে নগণ্য। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন শেষে প্রতি ডলারের গড় আন্তব্যাংক বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৭৭ পয়সা, যা ২০২৬ সালের জুনে দাঁড়ায় ১২২ টাকা ৮৫ পয়সায়। অর্থাৎ এক বছরে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে মাত্র ৮ পয়সা বা শূন্য দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার হারের চেয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়াই খরচ দ্বিগুণ হওয়ার প্রধান কারণ।

Share this news as a Photo Card