নিউইয়র্ক ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রথম দিনে টাকা ফেরত পেলেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ৬ হাজার গ্রাহক

  • আপডেটের সময় : ০৮:২৮:৪৬ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে ফিরতে শুরু করেছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর)  থেকে ব্যাংকটির আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আমানত ফেরতের জন্য আবেদন করা গ্রাহকদের মধ্যে প্রথম দিনে প্রায় ৬ হাজার জনকে ২৫০ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে ব্যাংকটি।

টাকা ফেরতের পাশাপাশি সোমবার অনলাইনে অর্থ স্থানান্তর কার্যক্রমও শুরু করেছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। এতে দীর্ঘদিন পর ব্যাংকটির কার্যক্রমে কিছুটা গতি ফিরেছে।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার এই উদ্যোগ নেয়। নতুন ব্যাংক গঠন হলেও একীভূত পাঁচ ব্যাংকের শাখাগুলো এখনো আলাদাভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সারা দেশে এসব ব্যাংকের মোট শাখা ৭৬১টি।

সোমবার আমানত ফেরতের প্রথম দিনে গ্রাহকেরা নিজ নিজ শাখা থেকে টাকা তোলেন। এর আগে ১ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর টাকা ফেরত নিতে আগ্রহী আমানতকারীদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হয়।

অন্যদিকে, আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্ধারিত সময়ে ৭৪ হাজার আমানতকারী মোট ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করেন। কোনো গ্রাহক যেন টাকা তুলতে এসে খালি হাতে ফিরে না যান, সে জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, যেসব গ্রাহক আবেদন করেছিলেন, তাদের সবার টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে প্রথম দিনে আবেদনকারীদের সবাই টাকা তুলতে ব্যাংকে আসেননি। অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা টাকা ব্যাংকেই রাখার কথা জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ টাকা তুলে কিছুক্ষণ পরই তা আবার ব্যাংকে জমা করেছেন।

রাজধানীর গুলশান, মহাখালী, বনানী ও মতিঝিল এলাকার ব্যাংকটির কয়েকটি শাখা ঘুরে দেখা যায়, গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে শাখাগুলোতে পর্যাপ্ত অর্থের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সকাল থেকেই অনেক গ্রাহক টাকা তুলতে শাখাগুলোতে ভিড় করেন। ব্যাংক কর্মকর্তারা ফুল দিয়ে তাদের স্বাগত জানান। যথাযথভাবে আবেদন করা গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

একীভূত হওয়া ইউনিয়ন ব্যাংকের উত্তরা শাখার ব্যবস্থাপক এ বি এম মোকাররম মাহমুদ বলেন, প্রথম দিনে আটজন গ্রাহক টাকা তোলার আবেদন করেন। তাদের মধ্যে চারজন টাকা তুলেছেন। অন্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া যেসব গ্রাহকের মুনাফা জমা আছে, তারাও তা তুলতে পারছেন।

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সংকটাপন্ন পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের উদ্যোগ নেয় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক ছিল চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সাইফুল আলম বা এস আলমের নিয়ন্ত্রণে। অন্যদিকে এক্সিম ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার।

এস আলম ও নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থায় ব্যাংকগুলোতে বড় ধরনের ঋণ অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশি-বিদেশি আর্থিক নিরীক্ষায় এসব অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। নিরীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, একীভূত পাঁচ ব্যাংকের প্রায় ৮০ শতাংশ ঋণ লুটপাট করা হয়েছে। এতে ব্যাংকগুলো বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়ে এবং গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে সমস্যায় পড়ে।

এ পরিস্থিতিতে পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নেয় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। আগের মালিকদের মালিকানা বাতিল করে ব্যাংকগুলোর মালিকানা সরকারের হাতে নেওয়া হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর বিএনপি সরকারও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের একীভূত কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

এলএনজি টার্মিনাল-২ চুক্তি পুনর্বহালের দাবি সামিটের

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

প্রথম দিনে টাকা ফেরত পেলেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ৬ হাজার গ্রাহক

আপডেটের সময় : ০৮:২৮:৪৬ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে ফিরতে শুরু করেছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর)  থেকে ব্যাংকটির আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আমানত ফেরতের জন্য আবেদন করা গ্রাহকদের মধ্যে প্রথম দিনে প্রায় ৬ হাজার জনকে ২৫০ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে ব্যাংকটি।

টাকা ফেরতের পাশাপাশি সোমবার অনলাইনে অর্থ স্থানান্তর কার্যক্রমও শুরু করেছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। এতে দীর্ঘদিন পর ব্যাংকটির কার্যক্রমে কিছুটা গতি ফিরেছে।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার এই উদ্যোগ নেয়। নতুন ব্যাংক গঠন হলেও একীভূত পাঁচ ব্যাংকের শাখাগুলো এখনো আলাদাভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সারা দেশে এসব ব্যাংকের মোট শাখা ৭৬১টি।

সোমবার আমানত ফেরতের প্রথম দিনে গ্রাহকেরা নিজ নিজ শাখা থেকে টাকা তোলেন। এর আগে ১ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর টাকা ফেরত নিতে আগ্রহী আমানতকারীদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হয়।

অন্যদিকে, আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্ধারিত সময়ে ৭৪ হাজার আমানতকারী মোট ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করেন। কোনো গ্রাহক যেন টাকা তুলতে এসে খালি হাতে ফিরে না যান, সে জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, যেসব গ্রাহক আবেদন করেছিলেন, তাদের সবার টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে প্রথম দিনে আবেদনকারীদের সবাই টাকা তুলতে ব্যাংকে আসেননি। অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা টাকা ব্যাংকেই রাখার কথা জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ টাকা তুলে কিছুক্ষণ পরই তা আবার ব্যাংকে জমা করেছেন।

রাজধানীর গুলশান, মহাখালী, বনানী ও মতিঝিল এলাকার ব্যাংকটির কয়েকটি শাখা ঘুরে দেখা যায়, গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে শাখাগুলোতে পর্যাপ্ত অর্থের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সকাল থেকেই অনেক গ্রাহক টাকা তুলতে শাখাগুলোতে ভিড় করেন। ব্যাংক কর্মকর্তারা ফুল দিয়ে তাদের স্বাগত জানান। যথাযথভাবে আবেদন করা গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

একীভূত হওয়া ইউনিয়ন ব্যাংকের উত্তরা শাখার ব্যবস্থাপক এ বি এম মোকাররম মাহমুদ বলেন, প্রথম দিনে আটজন গ্রাহক টাকা তোলার আবেদন করেন। তাদের মধ্যে চারজন টাকা তুলেছেন। অন্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া যেসব গ্রাহকের মুনাফা জমা আছে, তারাও তা তুলতে পারছেন।

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সংকটাপন্ন পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের উদ্যোগ নেয় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক ছিল চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সাইফুল আলম বা এস আলমের নিয়ন্ত্রণে। অন্যদিকে এক্সিম ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার।

এস আলম ও নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থায় ব্যাংকগুলোতে বড় ধরনের ঋণ অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশি-বিদেশি আর্থিক নিরীক্ষায় এসব অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। নিরীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, একীভূত পাঁচ ব্যাংকের প্রায় ৮০ শতাংশ ঋণ লুটপাট করা হয়েছে। এতে ব্যাংকগুলো বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়ে এবং গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে সমস্যায় পড়ে।

এ পরিস্থিতিতে পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নেয় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। আগের মালিকদের মালিকানা বাতিল করে ব্যাংকগুলোর মালিকানা সরকারের হাতে নেওয়া হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর বিএনপি সরকারও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের একীভূত কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।

Share this news as a Photo Card