নিউইয়র্ক ০৬:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরখাস্তের ৪ দিন পর বাংলাদেশের বিতর্কিত কোচ বললেন— ‘মেরে ফেলার হুমকি পেয়েছি’

  • আপডেটের সময় : ০৯:৪৬:০৯ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের তিন ম্যাচের তিনটিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচ হারের পর বরখাস্ত হন অনূর্ধ্ব-২০ দলের প্রধান কোচ জেরার্ড জোনস। সিরিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হারের পরদিন ৪ সেপ্টেম্বর তার সঙ্গে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।বরখাস্তের চার দিন পর বাংলাদেশ অধ্যায় নিয়ে মুখ খুলেছেন জোনস।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটি থেকে ফেসবুকে দেওয়া দীর্ঘ এক স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশে কাজ করার সময় মেরে ফেলার হুমকি পেয়েছেন।

জোনস লিখেছেন, ‘ফুটবলের সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা করা ন্যায্য। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস এবং মেরে ফেলার হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি কিছু অত্যন্ত বাজে বার্তা পেয়েছি, আমার ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করা হয়েছে এবং মেরে ফেলার হুমকিও পেয়েছি। আমি একজন স্বামী, একজন বাবা এবং একজন সন্তান।’

জোনসকে বরখাস্ত করার কারণ অবশ্য বাফুফের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়নি। বিজ্ঞপ্তিতে শুধু বলা হয়, এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের দায়িত্ব থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং তার সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করেছে বাফুফে।

তবে বাফুফের একটি সূত্র জানিয়েছিল, গত ১৯ আগস্ট টিম হোটেলে সহকারী কোচ আতিকুর রহমানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনা এবং ফল বিপর্যয়ের জেরেই জোনসকে সরানো হয়েছে। সেদিন সহকারী কোচের সঙ্গে কথা–কাটাকাটির এক পর্যায়ে পরিস্থিতি ধাক্কাধাক্কি পর্যন্ত গড়ায়। পরে জোনস নিজেই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকেন।

এদিকে জোনস বাংলাদেশের হয়ে কাজ করার সময়টাকে শুধু ফলাফলের দৃষ্টিতে দেখতে রাজি নন। তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে আমি শুধু জাতীয় দলের ফলাফল নিয়ে কাজ করতে যাইনি। যুব উন্নয়ন, কোচ তৈরি, প্রতিভা শনাক্তকরণ এবং প্রবাসী খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করার মতো বৃহত্তর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সময় ছিল খুব কম।’

জোনস আরও লেখেন, ‘অনুশীলনে আমরা যে ফুটবল তৈরি করেছিলাম, মাঠে সেটি ধারাবাহিকভাবে খেলতে পারিনি। দলটি আমাদের প্রস্তুতির সময় যে নীতিগুলো তৈরি করেছিল, তার তুলনায় অনেকটাই অচেনা হয়ে গিয়েছিল।’

বাংলাদেশের ফুটবলের কাঠামো নিয়েও নিজের মূল্যায়ন দিয়েছেন জোনস। তিনি বলেন, ‘এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে খেলোয়াড় বাছাই, অবকাঠামো, ফুটবল সংস্কৃতি ও উচ্চপর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরিতে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন।’

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

গাড়ি নয়, ইসরায়েলের সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করবে ভক্সওয়াগন

ইয়েমেনের কারাগারে সৌদি বিমান হামলার অভিযোগ, শিশুসহ ৭ নিহতের দাবি

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

বরখাস্তের ৪ দিন পর বাংলাদেশের বিতর্কিত কোচ বললেন— ‘মেরে ফেলার হুমকি পেয়েছি’

আপডেটের সময় : ০৯:৪৬:০৯ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের তিন ম্যাচের তিনটিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচ হারের পর বরখাস্ত হন অনূর্ধ্ব-২০ দলের প্রধান কোচ জেরার্ড জোনস। সিরিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হারের পরদিন ৪ সেপ্টেম্বর তার সঙ্গে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।বরখাস্তের চার দিন পর বাংলাদেশ অধ্যায় নিয়ে মুখ খুলেছেন জোনস।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটি থেকে ফেসবুকে দেওয়া দীর্ঘ এক স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশে কাজ করার সময় মেরে ফেলার হুমকি পেয়েছেন।

জোনস লিখেছেন, ‘ফুটবলের সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা করা ন্যায্য। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস এবং মেরে ফেলার হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি কিছু অত্যন্ত বাজে বার্তা পেয়েছি, আমার ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করা হয়েছে এবং মেরে ফেলার হুমকিও পেয়েছি। আমি একজন স্বামী, একজন বাবা এবং একজন সন্তান।’

জোনসকে বরখাস্ত করার কারণ অবশ্য বাফুফের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়নি। বিজ্ঞপ্তিতে শুধু বলা হয়, এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের দায়িত্ব থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং তার সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করেছে বাফুফে।

তবে বাফুফের একটি সূত্র জানিয়েছিল, গত ১৯ আগস্ট টিম হোটেলে সহকারী কোচ আতিকুর রহমানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনা এবং ফল বিপর্যয়ের জেরেই জোনসকে সরানো হয়েছে। সেদিন সহকারী কোচের সঙ্গে কথা–কাটাকাটির এক পর্যায়ে পরিস্থিতি ধাক্কাধাক্কি পর্যন্ত গড়ায়। পরে জোনস নিজেই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকেন।

এদিকে জোনস বাংলাদেশের হয়ে কাজ করার সময়টাকে শুধু ফলাফলের দৃষ্টিতে দেখতে রাজি নন। তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে আমি শুধু জাতীয় দলের ফলাফল নিয়ে কাজ করতে যাইনি। যুব উন্নয়ন, কোচ তৈরি, প্রতিভা শনাক্তকরণ এবং প্রবাসী খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করার মতো বৃহত্তর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সময় ছিল খুব কম।’

জোনস আরও লেখেন, ‘অনুশীলনে আমরা যে ফুটবল তৈরি করেছিলাম, মাঠে সেটি ধারাবাহিকভাবে খেলতে পারিনি। দলটি আমাদের প্রস্তুতির সময় যে নীতিগুলো তৈরি করেছিল, তার তুলনায় অনেকটাই অচেনা হয়ে গিয়েছিল।’

বাংলাদেশের ফুটবলের কাঠামো নিয়েও নিজের মূল্যায়ন দিয়েছেন জোনস। তিনি বলেন, ‘এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে খেলোয়াড় বাছাই, অবকাঠামো, ফুটবল সংস্কৃতি ও উচ্চপর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরিতে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন।’

Share this news as a Photo Card