নিউইয়র্ক ০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি সংকট সমাধানে বিরোধী দলের প্রস্তাব গ্রহণ করেনি সরকার: জামায়াত আমির

  • আপডেটের সময় : ১০:১৯:২৮ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৯ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি সংকট সমাধানে বিরোধী দলের প্রস্তাব সরকার গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। 

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ বর্তমানে গভীর সংকটের মুখোমুখি। জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের শিল্পখাতে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। সংকট সমাধানে সরকার ছয় মাসেও বিকল্প কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে বগুড়া সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জ্বালানি সংকট সমাধানে সরকারকে সহযোগিতা করতে সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি টিম গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে সরকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।

তার ভাষ্য,‘এই সরকার গঠরন হওয়ার পরপরই মধ্যপ্রচ্যে একটি যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে। যার কারণে সাপ্লাই চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু এক এক করে ছয়মাস চলে গেছে। এটা একটা জাতির ইতিহাসে ছোট সময় নয়, অবশ্যই আমাদের সরকারকে এ সময়ের ভেতরে তার বিকল্প বের করার দরকার ছিল। আমরা বারবার চেয়েছি এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে। এবং সর্বশেষ নোটিশ দিয়ে আলোচনা করেছে এ মাসের ৭ তারিখে, বিরোধীদল এবং আমার পক্ষ থেকে আহ্বান জানিয়েছিলাম, আমাদের একটা এক্সপার্ট টিম আছে। এই সেক্টরে দেশে এবং বিদেশে যাদের অভিজ্ঞতা আছে। আমরা আগ্রহী, সুযোগ করে দিলে আমরা আমাদের এই টিমটা সরকারকে উপহার দিতে চাই। দেশকে ভালবাসি, এজন্য এই অফার। বাংলাদেশের সংসদের ইতিহাসে বিরোধী দল কখনো সরকারী দলকে এরকম অফার দিয়েছে আমি ছোট একটি মানুষ জানি না।’

তিনি আরও বলেন, সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করলে পরিস্থিতি এতটা জটিল হতো না। বিরোধী দল সরকারকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু তাদের প্রস্তাব গ্রহণ না করায় জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলগুলো লংমার্চের মতো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছে।

জামায়াতের আমির আরও বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টিও সরকার শুরুতে অস্বীকার করেছে। অথচ বর্তমানে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট দেশের অর্থনীতি ও শিল্পখাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে। এর মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বগুড়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বগুড়া উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। একসময় বগুড়াকে ‘মিনি শিল্পনগরী’ বলা হতো। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও জেলায় শিল্পায়নের কাঙ্ক্ষিত বিকাশ ঘটেনি।

তিনি বলেন, বগুড়া শিক্ষা নগরী হিসেবে পরিচিত হলেও সেই অনুপাতে জেলার উন্নয়ন হয়নি। বিভিন্ন সড়কের বেহাল দশা দীর্ঘদিনের। শিল্প, শিক্ষা ও যোগাযোগ—কোনও ক্ষেত্রেই বগুড়া তার সম্ভাবনার যথাযথ সুফল পাচ্ছে না।

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

জ্বালানি সংকট সমাধানে বিরোধী দলের প্রস্তাব গ্রহণ করেনি সরকার: জামায়াত আমির

আপডেটের সময় : ১০:১৯:২৮ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানি সংকট সমাধানে বিরোধী দলের প্রস্তাব সরকার গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। 

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ বর্তমানে গভীর সংকটের মুখোমুখি। জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের শিল্পখাতে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। সংকট সমাধানে সরকার ছয় মাসেও বিকল্প কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে বগুড়া সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জ্বালানি সংকট সমাধানে সরকারকে সহযোগিতা করতে সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি টিম গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে সরকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।

তার ভাষ্য,‘এই সরকার গঠরন হওয়ার পরপরই মধ্যপ্রচ্যে একটি যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে। যার কারণে সাপ্লাই চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু এক এক করে ছয়মাস চলে গেছে। এটা একটা জাতির ইতিহাসে ছোট সময় নয়, অবশ্যই আমাদের সরকারকে এ সময়ের ভেতরে তার বিকল্প বের করার দরকার ছিল। আমরা বারবার চেয়েছি এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে। এবং সর্বশেষ নোটিশ দিয়ে আলোচনা করেছে এ মাসের ৭ তারিখে, বিরোধীদল এবং আমার পক্ষ থেকে আহ্বান জানিয়েছিলাম, আমাদের একটা এক্সপার্ট টিম আছে। এই সেক্টরে দেশে এবং বিদেশে যাদের অভিজ্ঞতা আছে। আমরা আগ্রহী, সুযোগ করে দিলে আমরা আমাদের এই টিমটা সরকারকে উপহার দিতে চাই। দেশকে ভালবাসি, এজন্য এই অফার। বাংলাদেশের সংসদের ইতিহাসে বিরোধী দল কখনো সরকারী দলকে এরকম অফার দিয়েছে আমি ছোট একটি মানুষ জানি না।’

তিনি আরও বলেন, সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করলে পরিস্থিতি এতটা জটিল হতো না। বিরোধী দল সরকারকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু তাদের প্রস্তাব গ্রহণ না করায় জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলগুলো লংমার্চের মতো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছে।

জামায়াতের আমির আরও বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টিও সরকার শুরুতে অস্বীকার করেছে। অথচ বর্তমানে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট দেশের অর্থনীতি ও শিল্পখাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে। এর মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বগুড়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বগুড়া উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। একসময় বগুড়াকে ‘মিনি শিল্পনগরী’ বলা হতো। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও জেলায় শিল্পায়নের কাঙ্ক্ষিত বিকাশ ঘটেনি।

তিনি বলেন, বগুড়া শিক্ষা নগরী হিসেবে পরিচিত হলেও সেই অনুপাতে জেলার উন্নয়ন হয়নি। বিভিন্ন সড়কের বেহাল দশা দীর্ঘদিনের। শিল্প, শিক্ষা ও যোগাযোগ—কোনও ক্ষেত্রেই বগুড়া তার সম্ভাবনার যথাযথ সুফল পাচ্ছে না।

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

Share this news as a Photo Card