নিউইয়র্ক ০১:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভুয়া টিকটক-ক্রোমের ফাঁদে পা দিলে ফাঁকা হতে পারে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট 

  • আপডেটের সময় : ১০:২৩:৪১ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৮ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

অচেনা ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করলেই মুহূর্তে বিপদে পড়তে পারেন ব্যবহারকারীরা। আসল অ্যাপের আদলে ভুয়া টিকটক বা গুগল ক্রোম ইনস্টল করলে ফোনে ঢুকে পড়তে পারে ‘রকারোলা’ নামের ম্যালওয়্যার। এরপর নকল ব্যাংক লগইন পেজের মাধ্যমে তথ্য চুরি থেকে শুরু করে ফোনের গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়া, এমনকি ব্যাংক হিসাব ফাঁকা করার সুযোগও পেতে পারে সাইবার অপরাধীরা।

প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ব্লিপিং কম্পিউটারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোনে ইনস্টল হওয়ার পর ‘রকারোলা’ ম্যালওয়্যার ২০০টিরও বেশি ব্যাংকিং ও আর্থিক অ্যাপকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে। শুধু ব্যাংক হিসাবের তথ্য নয়, এটি ব্যবহারকারীদের ক্রিপ্টোকারেন্সিও চুরি করতে সক্ষম।

যেভাবে ফোনে ঢোকে

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান জিম্পেরিয়ামের তথ্যমতে, হ্যাকাররা ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে ব্যবহারকারীদের গুগল ক্রোম বা টিকটক ডাউনলোডে আগ্রহী করে তোলে। এসব ভুয়া অ্যাপ ডাউনলোড করতে গেলে ব্যবহারকারীর সামনে গুগল প্লে প্রোটেক্টের মতো দেখতে একটি সতর্কবার্তা দেখানো হয়।

অনেকেই এটিকে গুগলের আসল নিরাপত্তা সতর্কবার্তা মনে করেন। ফলে কোনো সন্দেহ ছাড়াই পরবর্তী ডাউনলোডের অনুমতি দেন। আর তখনই ফোনে প্রবেশ করে ‘রকারোলা’ ম্যালওয়্যার।

যেভাবে তথ্য চুরি করে

ফোনে ঢুকে পড়ার পর ম্যালওয়্যারটি ২১৭টি ব্যাংকিং ও আর্থিক অ্যাপের নকল লগইন পেজ তৈরি করতে পারে। ব্যবহারকারী মনে করেন, তিনি নিজের ব্যাংক অ্যাপেই প্রবেশ করছেন। বাস্তবে নিজের ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ড হ্যাকারদের হাতে তুলে দেন।

এ ছাড়া ফোনের লকস্ক্রিনের তথ্য চুরি ও কনট্যাক্ট তালিকা হাতিয়ে নিতে পারে ম্যালওয়্যারটি। কী-লগারের মাধ্যমে ফোনে টাইপ করা তথ্যও রেকর্ড করতে সক্ষম এটি।

শুধু তাই নয়, ব্যাংক থেকে আসা প্রতারণাসংক্রান্ত সতর্কবার্তা আটকে দিতে পারে। সন্দেহজনক লেনদেন সম্পর্কে সতর্ক করতে আসা ফোনকলও বাধাগ্রস্ত করতে সক্ষম। ফলে ব্যবহারকারী বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ সরিয়ে নিতে পারে সাইবার অপরাধীরা।

যেভাবে নিরাপদ থাকবেন

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অ্যান্ড্রয়েড ফোনে নতুন অ্যাপ ইনস্টলের সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো অনুমোদিত অ্যাপ স্টোর ব্যবহার করা। গুগল প্লে স্টোর বা স্যামসাং গ্যালাক্সি স্টোর ছাড়া অন্য কোনো ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ ডাউনলোড না করাই নিরাপদ।

সাইবার অপরাধীরা প্রতিনিয়ত নতুন কৌশলে ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে। তাই অ্যাপ ডাউনলোডের ক্ষেত্রে সামান্য অসতর্কতাও ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংক হিসাব ও ডিজিটাল সম্পদকে বড় ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

সূত্র: এমএসএন

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

অরল্যান্ডোয় ফোবানার ৪০তম সম্মেলন, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ভুয়া টিকটক-ক্রোমের ফাঁদে পা দিলে ফাঁকা হতে পারে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট 

আপডেটের সময় : ১০:২৩:৪১ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অচেনা ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করলেই মুহূর্তে বিপদে পড়তে পারেন ব্যবহারকারীরা। আসল অ্যাপের আদলে ভুয়া টিকটক বা গুগল ক্রোম ইনস্টল করলে ফোনে ঢুকে পড়তে পারে ‘রকারোলা’ নামের ম্যালওয়্যার। এরপর নকল ব্যাংক লগইন পেজের মাধ্যমে তথ্য চুরি থেকে শুরু করে ফোনের গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়া, এমনকি ব্যাংক হিসাব ফাঁকা করার সুযোগও পেতে পারে সাইবার অপরাধীরা।

প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ব্লিপিং কম্পিউটারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোনে ইনস্টল হওয়ার পর ‘রকারোলা’ ম্যালওয়্যার ২০০টিরও বেশি ব্যাংকিং ও আর্থিক অ্যাপকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে। শুধু ব্যাংক হিসাবের তথ্য নয়, এটি ব্যবহারকারীদের ক্রিপ্টোকারেন্সিও চুরি করতে সক্ষম।

যেভাবে ফোনে ঢোকে

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান জিম্পেরিয়ামের তথ্যমতে, হ্যাকাররা ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে ব্যবহারকারীদের গুগল ক্রোম বা টিকটক ডাউনলোডে আগ্রহী করে তোলে। এসব ভুয়া অ্যাপ ডাউনলোড করতে গেলে ব্যবহারকারীর সামনে গুগল প্লে প্রোটেক্টের মতো দেখতে একটি সতর্কবার্তা দেখানো হয়।

অনেকেই এটিকে গুগলের আসল নিরাপত্তা সতর্কবার্তা মনে করেন। ফলে কোনো সন্দেহ ছাড়াই পরবর্তী ডাউনলোডের অনুমতি দেন। আর তখনই ফোনে প্রবেশ করে ‘রকারোলা’ ম্যালওয়্যার।

যেভাবে তথ্য চুরি করে

ফোনে ঢুকে পড়ার পর ম্যালওয়্যারটি ২১৭টি ব্যাংকিং ও আর্থিক অ্যাপের নকল লগইন পেজ তৈরি করতে পারে। ব্যবহারকারী মনে করেন, তিনি নিজের ব্যাংক অ্যাপেই প্রবেশ করছেন। বাস্তবে নিজের ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ড হ্যাকারদের হাতে তুলে দেন।

এ ছাড়া ফোনের লকস্ক্রিনের তথ্য চুরি ও কনট্যাক্ট তালিকা হাতিয়ে নিতে পারে ম্যালওয়্যারটি। কী-লগারের মাধ্যমে ফোনে টাইপ করা তথ্যও রেকর্ড করতে সক্ষম এটি।

শুধু তাই নয়, ব্যাংক থেকে আসা প্রতারণাসংক্রান্ত সতর্কবার্তা আটকে দিতে পারে। সন্দেহজনক লেনদেন সম্পর্কে সতর্ক করতে আসা ফোনকলও বাধাগ্রস্ত করতে সক্ষম। ফলে ব্যবহারকারী বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ সরিয়ে নিতে পারে সাইবার অপরাধীরা।

যেভাবে নিরাপদ থাকবেন

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অ্যান্ড্রয়েড ফোনে নতুন অ্যাপ ইনস্টলের সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো অনুমোদিত অ্যাপ স্টোর ব্যবহার করা। গুগল প্লে স্টোর বা স্যামসাং গ্যালাক্সি স্টোর ছাড়া অন্য কোনো ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ ডাউনলোড না করাই নিরাপদ।

সাইবার অপরাধীরা প্রতিনিয়ত নতুন কৌশলে ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে। তাই অ্যাপ ডাউনলোডের ক্ষেত্রে সামান্য অসতর্কতাও ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংক হিসাব ও ডিজিটাল সম্পদকে বড় ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

সূত্র: এমএসএন

Share this news as a Photo Card