নিউইয়র্ক ০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিলকুশায় গ্রাহক ফোরাম, শাপলা চত্বর ঘুরে প্রেস ক্লাবে চাকরিচ্যুতরা

  • আপডেটের সময় : ০৮:৫২:৫৪ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রধান কার্যালয় ঘিরে টানা তৃতীয় দিনের মতো পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করেছেন সচেতন গ্রাহক ফোরাম এবং ব্যাংকটির চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার এবং মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকায় দুই পক্ষের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দেয়।

সকালে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের নিচে অবস্থান নেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতা-কর্মীরা। তারা সেখানে বিক্ষোভ ও বিভিন্ন স্লোগান দেন। ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি জানান তারা।

অন্যদিকে, চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সকাল থেকে মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকায় অবস্থান নেন। পরে তারা সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা করেন। একপর্যায়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন তারা। আন্দোলনকারীদের বড় একটি অংশ চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকা থেকে ঢাকায় এসেছেন।

সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেন, ‘ব্যাংককে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা গ্রাহকেরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করবেন।’

ফোরামের নেতারা বলেন, ইসলামী ব্যাংকের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। একইসঙ্গে এস আলম গ্রুপের বিদেশে পাচার করা সম্পদ উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানান তারা। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৪(খ) ধারা অনুযায়ী এস আলম গ্রুপের অবৈধ শেয়ার বাজেয়াপ্ত করে বাজারে বিক্রি অথবা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তরের দাবিও করেন তারা।

গ্রাহক ফোরামের সচিব মুতাসিম বিল্লাহ অভিযোগ করেন, এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণের সময়ে কোনো সার্কুলার বা পরীক্ষা ছাড়াই চট্টগ্রামের পটিয়াসহ নির্দিষ্ট এলাকার অনেককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরে নিয়মিতকরণের পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া ব্যক্তিদের একটি অংশ এখন চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করছেন। তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে ঋণ অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, দীর্ঘদিন কাজ করার পর কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ বা যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বকেয়া সুযোগ-সুবিধাসহ চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে তারা আন্দোলন করছেন।

আন্দোলনকারী কর্মকর্তা টিপু বলেন, চাকরি হারানোর পর অনেকেই পরিবার নিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন। চিকিৎসা, সন্তানদের পড়াশোনা ও সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই তারা দ্রুত চাকরিতে পুনর্বহাল চান।

গ্রাহক ফোরামের পাল্টা কর্মসূচির বিষয়ে টিপু বলেন, তাদের আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতেই এ কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। এর পেছনের কারণ খতিয়ে দেখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

সৌদি আরবে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে বিদেশি নাগরিক নিহত

উপসাগরীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

দিলকুশায় গ্রাহক ফোরাম, শাপলা চত্বর ঘুরে প্রেস ক্লাবে চাকরিচ্যুতরা

আপডেটের সময় : ০৮:৫২:৫৪ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রধান কার্যালয় ঘিরে টানা তৃতীয় দিনের মতো পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করেছেন সচেতন গ্রাহক ফোরাম এবং ব্যাংকটির চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার এবং মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকায় দুই পক্ষের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দেয়।

সকালে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের নিচে অবস্থান নেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতা-কর্মীরা। তারা সেখানে বিক্ষোভ ও বিভিন্ন স্লোগান দেন। ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি জানান তারা।

অন্যদিকে, চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সকাল থেকে মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকায় অবস্থান নেন। পরে তারা সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা করেন। একপর্যায়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন তারা। আন্দোলনকারীদের বড় একটি অংশ চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকা থেকে ঢাকায় এসেছেন।

সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেন, ‘ব্যাংককে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা গ্রাহকেরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করবেন।’

ফোরামের নেতারা বলেন, ইসলামী ব্যাংকের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। একইসঙ্গে এস আলম গ্রুপের বিদেশে পাচার করা সম্পদ উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানান তারা। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৪(খ) ধারা অনুযায়ী এস আলম গ্রুপের অবৈধ শেয়ার বাজেয়াপ্ত করে বাজারে বিক্রি অথবা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তরের দাবিও করেন তারা।

গ্রাহক ফোরামের সচিব মুতাসিম বিল্লাহ অভিযোগ করেন, এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণের সময়ে কোনো সার্কুলার বা পরীক্ষা ছাড়াই চট্টগ্রামের পটিয়াসহ নির্দিষ্ট এলাকার অনেককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরে নিয়মিতকরণের পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া ব্যক্তিদের একটি অংশ এখন চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করছেন। তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে ঋণ অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, দীর্ঘদিন কাজ করার পর কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ বা যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বকেয়া সুযোগ-সুবিধাসহ চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে তারা আন্দোলন করছেন।

আন্দোলনকারী কর্মকর্তা টিপু বলেন, চাকরি হারানোর পর অনেকেই পরিবার নিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন। চিকিৎসা, সন্তানদের পড়াশোনা ও সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই তারা দ্রুত চাকরিতে পুনর্বহাল চান।

গ্রাহক ফোরামের পাল্টা কর্মসূচির বিষয়ে টিপু বলেন, তাদের আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতেই এ কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। এর পেছনের কারণ খতিয়ে দেখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

Share this news as a Photo Card