নিউইয়র্ক ০৭:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রান্সফরমার নিয়ে গেছে চোর, ক্ষতিপূরণের টাকা দিতে হবে গ্রাহকদের

  • আপডেটের সময় : ০১:০৭:১৫ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে রাতের আঁধারে একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় তীব্র গরমের মধ্যে প্রায় ৭০টি পরিবার সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। তবে চুরির এই খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ গ্রাহকদেরই। নতুন আরেকটি ট্রান্সফরমার বসিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করতে ভুক্তভোগী গ্রামবাসীর কাছে প্রায় ৮৭ হাজার টাকা দাবি করেছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ, যা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় নিম্নআয়ের মানুষ।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে উপজেলার মিরসরাই সদর ইউনিয়নের পশ্চিম কিছমত জাফরাবাদ গ্রামে এ চুরির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. ওয়াজিউল্যাহ জানান, ফজরের নামাজের সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে প্রথমে তারা এটিকে স্বাভাবিক লোডশেডিং মনে করেছিলেন। তবে সকালে আলো ফুটলে জানা যায়, বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে ট্রান্সফরমারটি চুরি করে নিয়ে গেছে একটি চক্র।

তীব্র তাপদাহের মধ্যে হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ এখন চরমে। স্থানীয় বাসিন্দা কামাল পাশা ও মাস্টার আজম জানান, প্রচণ্ড গরমে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং মসজিদের মুসল্লিরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকায় বাসাবাড়ির ফ্রিজে সংরক্ষিত খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা জানান, চুরির বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে নতুন ট্রান্সফরমার বরাদ্দের জন্য ৮৭ হাজার টাকা জমা দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গ্রামের অধিকাংশ মানুষই দরিদ্র ও দিনমজুর হওয়ায় আকস্মিকভাবে এই বড় অঙ্কের টাকা জোগাড় করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

পল্লী বিদ্যুতের বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো এলাকায় প্রথমবার ট্রান্সফরমার চুরি হলে বিকল্প যন্ত্র বসাতে গ্রাহকদের মূল দামের অর্ধেক অর্থ পরিশোধ করতে হয়। তবে একই এলাকায় দ্বিতীয়বার চুরির ঘটনা ঘটলে নতুন ট্রান্সফরমারের সম্পূর্ণ খরচই গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা হয়। বিদ্যুৎ অফিসের হিসাব অনুযায়ী, একটি ৫ কেভিএ ট্রান্সফরমারের দাম প্রায় ৫৩ হাজার টাকা, ১০ কেভিএ প্রায় ৮৩ হাজার টাকা, ১৫ কেভিএ ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা এবং ২৫ কেভিএ ট্রান্সফরমারের মূল্য প্রায় ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। ফলে এ ধরনের চুরির কারণে বিদ্যুৎহীনতার পাশাপাশি গ্রাহকদের ওপর বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানার মতো বোঝা চেপে বসছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর আওতাধীন জোরারগঞ্জ, ধুম, ওসমানপুর ও মিরসরাই সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে রাতের আঁধারে নিয়মিত ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটছে। এতে সাধারণ মানুষ শুধু দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবঞ্চিতই হচ্ছেন না, বরং বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছেন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) আজহার উদ্দিন জানান, পশ্চিম কিছমত জাফরাবাদের ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়টি তার জানা নেই। তবে গ্রাহকেরা দাপ্তরিকভাবে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন জানান, চুরির বিষয়ে থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে জড়িতদের ধরতে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ট্রান্সফরমার নিয়ে গেছে চোর, ক্ষতিপূরণের টাকা দিতে হবে গ্রাহকদের

আপডেটের সময় : ০১:০৭:১৫ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে রাতের আঁধারে একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় তীব্র গরমের মধ্যে প্রায় ৭০টি পরিবার সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। তবে চুরির এই খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ গ্রাহকদেরই। নতুন আরেকটি ট্রান্সফরমার বসিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করতে ভুক্তভোগী গ্রামবাসীর কাছে প্রায় ৮৭ হাজার টাকা দাবি করেছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ, যা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় নিম্নআয়ের মানুষ।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে উপজেলার মিরসরাই সদর ইউনিয়নের পশ্চিম কিছমত জাফরাবাদ গ্রামে এ চুরির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. ওয়াজিউল্যাহ জানান, ফজরের নামাজের সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে প্রথমে তারা এটিকে স্বাভাবিক লোডশেডিং মনে করেছিলেন। তবে সকালে আলো ফুটলে জানা যায়, বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে ট্রান্সফরমারটি চুরি করে নিয়ে গেছে একটি চক্র।

তীব্র তাপদাহের মধ্যে হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ এখন চরমে। স্থানীয় বাসিন্দা কামাল পাশা ও মাস্টার আজম জানান, প্রচণ্ড গরমে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং মসজিদের মুসল্লিরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকায় বাসাবাড়ির ফ্রিজে সংরক্ষিত খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা জানান, চুরির বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে নতুন ট্রান্সফরমার বরাদ্দের জন্য ৮৭ হাজার টাকা জমা দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গ্রামের অধিকাংশ মানুষই দরিদ্র ও দিনমজুর হওয়ায় আকস্মিকভাবে এই বড় অঙ্কের টাকা জোগাড় করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

পল্লী বিদ্যুতের বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো এলাকায় প্রথমবার ট্রান্সফরমার চুরি হলে বিকল্প যন্ত্র বসাতে গ্রাহকদের মূল দামের অর্ধেক অর্থ পরিশোধ করতে হয়। তবে একই এলাকায় দ্বিতীয়বার চুরির ঘটনা ঘটলে নতুন ট্রান্সফরমারের সম্পূর্ণ খরচই গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা হয়। বিদ্যুৎ অফিসের হিসাব অনুযায়ী, একটি ৫ কেভিএ ট্রান্সফরমারের দাম প্রায় ৫৩ হাজার টাকা, ১০ কেভিএ প্রায় ৮৩ হাজার টাকা, ১৫ কেভিএ ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা এবং ২৫ কেভিএ ট্রান্সফরমারের মূল্য প্রায় ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। ফলে এ ধরনের চুরির কারণে বিদ্যুৎহীনতার পাশাপাশি গ্রাহকদের ওপর বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানার মতো বোঝা চেপে বসছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর আওতাধীন জোরারগঞ্জ, ধুম, ওসমানপুর ও মিরসরাই সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে রাতের আঁধারে নিয়মিত ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটছে। এতে সাধারণ মানুষ শুধু দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবঞ্চিতই হচ্ছেন না, বরং বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছেন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) আজহার উদ্দিন জানান, পশ্চিম কিছমত জাফরাবাদের ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়টি তার জানা নেই। তবে গ্রাহকেরা দাপ্তরিকভাবে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন জানান, চুরির বিষয়ে থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে জড়িতদের ধরতে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card