নিউইয়র্ক ০১:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহজালাল মাজারে এবার মিলল ৮৯ লাখ টাকা ও স্বর্ণ-বিদেশি মুদ্রা

  • আপডেটের সময় : ০৯:২২:১৫ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৮ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের সিলগালা করা ঐতিহাসিক ডেগ ও নতুন করে স্থাপন করা দানবাক্সের টাকা গণনা করে ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও স্বর্ণালংকারও পাওয়া গেছে। 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল নয়টার দিকে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মাজার প্রাঙ্গণে টাকা গণনা শুরু হয়। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে গণনা শেষ হয়। এ তথ্য জানান সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মাজার কমিটির সদস্য আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, বাংলাদেশি টাকার পাশাপাশি দানবাক্সে ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি ওজনের স্বর্ণালংকার পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ব্রিটিশ ৫ পাউন্ড, ভারতীয় ৩ হাজার ৯৫৪ রুপি, থাইল্যান্ডের ৫ বাথ, সৌদি আরবের ৯৯ দশমিক ২৫ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ২৯ রিঙ্গিত, ৮ মার্কিন ডলার, ওমানের ৯০৩ রিয়াল, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫৭ দশমিক ২৫ দিরহাম, ইরাকের ১ দিনার, কাতারের ২১ দশমিক ৫০ রিয়াল, ৩০ দশমিক ১০ ইউরো, বাহরাইনের শূন্য দশমিক ২৫ দিনার, পাপুয়া নিউগিনির ৫০ কিনা, চীনের ১৫ ইউয়ান, ইন্দোনেশিয়ার ৫ হাজার রুপিয়াহ পাওয়া গেছে।

আবদুল কাইয়ুম আরও জানান, মাজারে দান হিসেবে পাওয়া গিয়েছিল ৬টি গরু ও ১১১টি ছাগল। এর মধ্যে লঙ্গরখানায় খাবারের জন্য ৫টি গরু ও ৭০টি ছাগল জবাই করা হয়েছে। ৪০টি ছাগল বিক্রি করে লঙ্গরখানার কর্মীদের মজুরি দেয়া হয়েছে। একটি গরু ও একটি ছাগল দরিদ্র দুই মেয়ের বিয়ের জন্য দান করা হয়েছে।

শনিবার সকাল ৯টার দিকে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের উপস্থিতিতে দানের ডেগ ও দানবাক্স খোলা হয়। এরপর প্রকাশ্যে টাকা ও অন্যান্য সামগ্রী গণনা করা হয়।

এ সময় কয়েকটি চিঠি ও স্বর্ণালঙ্কারও পাওয়া যায়। জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের উপস্থিতিতে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা টাকা গণনা করেন।

মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গঠিত ১৩ সদস্যের কমিটির তত্ত্বাবধানে এ গণনা করা হয়। গণনা শেষে টাকা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মাজারের নামে সোনালী ব্যাংকে খোলা হিসাবে জমা রাখা হবে।

এর আগে ২২ জুন প্রথম দফায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা এবং ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া যায়।

জেলা প্রশাসন জানায়, আগের তিন দফায় মোট এক কোটি ৪০ লাখ ৬৪ হাজার ৩৭৪ টাকা পাওয়া যায়। এবারের টাকা যোগ করে চার দফায় মোট পাওয়া গেছে দুই কোটি ২৯ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪০ টাকা।

মাজারের দানের টাকা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ২৬ জুন ১৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এরপর থেকে নিয়মিত বিরতিতে প্রকাশ্যে দানের টাকা গণনা করা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

শাহজালাল মাজারে এবার মিলল ৮৯ লাখ টাকা ও স্বর্ণ-বিদেশি মুদ্রা

আপডেটের সময় : ০৯:২২:১৫ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের সিলগালা করা ঐতিহাসিক ডেগ ও নতুন করে স্থাপন করা দানবাক্সের টাকা গণনা করে ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও স্বর্ণালংকারও পাওয়া গেছে। 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল নয়টার দিকে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মাজার প্রাঙ্গণে টাকা গণনা শুরু হয়। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে গণনা শেষ হয়। এ তথ্য জানান সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মাজার কমিটির সদস্য আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, বাংলাদেশি টাকার পাশাপাশি দানবাক্সে ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি ওজনের স্বর্ণালংকার পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ব্রিটিশ ৫ পাউন্ড, ভারতীয় ৩ হাজার ৯৫৪ রুপি, থাইল্যান্ডের ৫ বাথ, সৌদি আরবের ৯৯ দশমিক ২৫ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ২৯ রিঙ্গিত, ৮ মার্কিন ডলার, ওমানের ৯০৩ রিয়াল, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫৭ দশমিক ২৫ দিরহাম, ইরাকের ১ দিনার, কাতারের ২১ দশমিক ৫০ রিয়াল, ৩০ দশমিক ১০ ইউরো, বাহরাইনের শূন্য দশমিক ২৫ দিনার, পাপুয়া নিউগিনির ৫০ কিনা, চীনের ১৫ ইউয়ান, ইন্দোনেশিয়ার ৫ হাজার রুপিয়াহ পাওয়া গেছে।

আবদুল কাইয়ুম আরও জানান, মাজারে দান হিসেবে পাওয়া গিয়েছিল ৬টি গরু ও ১১১টি ছাগল। এর মধ্যে লঙ্গরখানায় খাবারের জন্য ৫টি গরু ও ৭০টি ছাগল জবাই করা হয়েছে। ৪০টি ছাগল বিক্রি করে লঙ্গরখানার কর্মীদের মজুরি দেয়া হয়েছে। একটি গরু ও একটি ছাগল দরিদ্র দুই মেয়ের বিয়ের জন্য দান করা হয়েছে।

শনিবার সকাল ৯টার দিকে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের উপস্থিতিতে দানের ডেগ ও দানবাক্স খোলা হয়। এরপর প্রকাশ্যে টাকা ও অন্যান্য সামগ্রী গণনা করা হয়।

এ সময় কয়েকটি চিঠি ও স্বর্ণালঙ্কারও পাওয়া যায়। জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের উপস্থিতিতে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা টাকা গণনা করেন।

মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গঠিত ১৩ সদস্যের কমিটির তত্ত্বাবধানে এ গণনা করা হয়। গণনা শেষে টাকা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মাজারের নামে সোনালী ব্যাংকে খোলা হিসাবে জমা রাখা হবে।

এর আগে ২২ জুন প্রথম দফায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা এবং ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া যায়।

জেলা প্রশাসন জানায়, আগের তিন দফায় মোট এক কোটি ৪০ লাখ ৬৪ হাজার ৩৭৪ টাকা পাওয়া যায়। এবারের টাকা যোগ করে চার দফায় মোট পাওয়া গেছে দুই কোটি ২৯ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪০ টাকা।

মাজারের দানের টাকা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ২৬ জুন ১৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এরপর থেকে নিয়মিত বিরতিতে প্রকাশ্যে দানের টাকা গণনা করা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card