নিউইয়র্ক ০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার সরকারি কলেজের হোস্টেল থেকে ২০ হাজার ইয়াবাসহ নারী শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার 

  • আপডেটের সময় : ১২:৩১:৫৭ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার সরকারি কলেজের নারী হোস্টেল ‘দোলনচাঁপা’ থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে কলেজ প্রশাসনের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করে বলে জানিয়েছেন ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী। 

গ্রেপ্তার শরিফা (২১) কক্সবাজার সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা এলাকায়। তার বাবা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার সুপার বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। তারা খুবই দরিদ্র পরিবার, তবে পড়ালেখা অনুরাগী। মেধাবী শরিফার ইয়াবা কানেকশন নিয়ে পুরো এলাকা এবং জেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। 

জেলা সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ সরকারি কলেজের হোস্টেল থেকে ২০ হাজার ইয়াবার চালানসহ শিক্ষার্থী গ্রেফতারের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতিবাচক ভাবে ব্যাপক ছড়িয়ে পড়েছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কলেজ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় দোলনচাঁপা মহিলা হোস্টেলে অভিযান চালানো হয়। এ সময় শরিফার হেফাজত থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শরিফা পুলিশকে জানিয়েছেন, হ্নীলা থেকে তার এক আন্টি পার্সেলের মাধ্যমে ইয়াবাগুলো পাঠিয়েছিলেন। পরে ইয়াবাগুলো তার হেফাজতে রাখা হয়।

ওসি আরও বলেন, এই ঘটনায় একটি চক্র জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযোগ উঠেছে, সরকারি কলেজের মহিলা হোস্টেলটির আবাসিক ছাত্রীদের নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের কোনো তদারকিই নেই। হোস্টেলে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরাও নেই। এ সুযোগে দীর্ঘদিন ধরে হোস্টেলটির পরিবেশ যাচ্ছেতাই চলছে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে রাতে কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং হোস্টেল সুপারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। 

কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী বলেন, আগামী প্রজন্মের অবক্ষয় কতটুকু হয়েছে তা এ ঘটনায় আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। সুশিক্ষিত করে যার নিজেকে গড়ে তোলার সময়, সেই তরুণ-তরুণী মাদকের করাল গ্রাসে নিজের শিক্ষাজীবনটাই ধ্বংস করলো। 

অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখছেন, খুবই দরিদ্র অবস্থাতেও শিক্ষক বাবা অনেক কষ্টে শরিফাসহ আরও দুই ছেলে-মেয়েকে পড়াচ্ছেন। ইয়াবা ব্যবসার মতো সন্দেহজনক চলাফেরাও এলাকায় নেই। শরিফার বিয়েও এক জায়গায় ঠিক হয়েছে।তাই কোন চক্রান্ত থাকতে পারে কি না পুলিশকে অধিকতর তদন্ত করে মূল বিষয়টি বের করার আহবান জানান তারা। 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

কক্সবাজার সরকারি কলেজের হোস্টেল থেকে ২০ হাজার ইয়াবাসহ নারী শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার 

আপডেটের সময় : ১২:৩১:৫৭ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কক্সবাজার সরকারি কলেজের নারী হোস্টেল ‘দোলনচাঁপা’ থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে কলেজ প্রশাসনের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করে বলে জানিয়েছেন ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী। 

গ্রেপ্তার শরিফা (২১) কক্সবাজার সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা এলাকায়। তার বাবা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার সুপার বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। তারা খুবই দরিদ্র পরিবার, তবে পড়ালেখা অনুরাগী। মেধাবী শরিফার ইয়াবা কানেকশন নিয়ে পুরো এলাকা এবং জেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। 

জেলা সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ সরকারি কলেজের হোস্টেল থেকে ২০ হাজার ইয়াবার চালানসহ শিক্ষার্থী গ্রেফতারের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতিবাচক ভাবে ব্যাপক ছড়িয়ে পড়েছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কলেজ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় দোলনচাঁপা মহিলা হোস্টেলে অভিযান চালানো হয়। এ সময় শরিফার হেফাজত থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শরিফা পুলিশকে জানিয়েছেন, হ্নীলা থেকে তার এক আন্টি পার্সেলের মাধ্যমে ইয়াবাগুলো পাঠিয়েছিলেন। পরে ইয়াবাগুলো তার হেফাজতে রাখা হয়।

ওসি আরও বলেন, এই ঘটনায় একটি চক্র জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযোগ উঠেছে, সরকারি কলেজের মহিলা হোস্টেলটির আবাসিক ছাত্রীদের নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের কোনো তদারকিই নেই। হোস্টেলে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরাও নেই। এ সুযোগে দীর্ঘদিন ধরে হোস্টেলটির পরিবেশ যাচ্ছেতাই চলছে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে রাতে কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং হোস্টেল সুপারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। 

কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী বলেন, আগামী প্রজন্মের অবক্ষয় কতটুকু হয়েছে তা এ ঘটনায় আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। সুশিক্ষিত করে যার নিজেকে গড়ে তোলার সময়, সেই তরুণ-তরুণী মাদকের করাল গ্রাসে নিজের শিক্ষাজীবনটাই ধ্বংস করলো। 

অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখছেন, খুবই দরিদ্র অবস্থাতেও শিক্ষক বাবা অনেক কষ্টে শরিফাসহ আরও দুই ছেলে-মেয়েকে পড়াচ্ছেন। ইয়াবা ব্যবসার মতো সন্দেহজনক চলাফেরাও এলাকায় নেই। শরিফার বিয়েও এক জায়গায় ঠিক হয়েছে।তাই কোন চক্রান্ত থাকতে পারে কি না পুলিশকে অধিকতর তদন্ত করে মূল বিষয়টি বের করার আহবান জানান তারা। 

Share this news as a Photo Card