নিউইয়র্ক ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লায় আত্মহত্যায় বাধা দেওয়ায় মা ও ভাতিজিকে হত্যা

  • আপডেটের সময় : ১০:২৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৮ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

‘একটি দুর্ঘটনায় আমার পা ভেঙে যায়। অপারেশন হইছে; কিন্তু আমি এখন পায়ের ব্যথায় মরে যাচ্ছি। এই অবস্থায় আমি কইছি, আমারে মাইরা লাও, তারা আমারে মারে না। আমি তারারে (পরিবারের লোকজন) কইছি, আমি আর বাঁচতে চাই না, মরতে চাই। আমার পাও কাইট্টা লাও, তারা কাটে না। আমি সুইসাইড করতে গেছি, আমারে দেয় না। এর লাইগা আমি তারারে মারছি।’

মা ও ভাতিজিকে হত্যা এবং ভাবিকে গুরুতর আহত করার পর বাড়ির লোকজনের হাতে আটক ঘাতক মো. ইমন (২৪) এভাবেই সাংবাদিক ও পুলিশের কাছে জোড়া খুনের বর্ণনা দেন।

ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল সোমবার সকালে জেলার দেবীদ্বার উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার মোস্তফা মাস্টারের বাড়িতে। ইমন পেশায় শ্রমিক এবং ঐ বাড়ির মৃত ফরিদ মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ ইমনকে গ্রেপ্তার করেছে। 

নিহতরা হলেন—ইমনের মা ফিরোজা বেগম (৬২) ও তার ভাতিজি ইসরাত জাহান (২)। হামলায় গুরুতর আহত ইমনের ভাবি রাবেয়া আক্তার কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

ইমনের বড় ভাই মো. সুজন (৩৫) সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৮ সাল থেকে ইমন পা ভাঙার কারণে বাড়িতে ছিল। তার পায়ে দুই বার অপারেশন হয়েছে। এরপর থেকে তার মধ্যে মানসিক সমস্যার লক্ষণ দেখা দেয়। সোমবার সকাল ৭টার দিকে সুজন বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে খবর পান, ইমন তার মা ও মেয়েকে হত্যা এবং স্ত্রীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছেন। স্থানীয়রা এসে ঘাতক ইমনকে পাশের একটি ঘরে আটকে রাখে।

সন্ধ্যায় দেবীদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদেরবলেন, ঘাতক ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

কুমিল্লায় আত্মহত্যায় বাধা দেওয়ায় মা ও ভাতিজিকে হত্যা

আপডেটের সময় : ১০:২৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘একটি দুর্ঘটনায় আমার পা ভেঙে যায়। অপারেশন হইছে; কিন্তু আমি এখন পায়ের ব্যথায় মরে যাচ্ছি। এই অবস্থায় আমি কইছি, আমারে মাইরা লাও, তারা আমারে মারে না। আমি তারারে (পরিবারের লোকজন) কইছি, আমি আর বাঁচতে চাই না, মরতে চাই। আমার পাও কাইট্টা লাও, তারা কাটে না। আমি সুইসাইড করতে গেছি, আমারে দেয় না। এর লাইগা আমি তারারে মারছি।’

মা ও ভাতিজিকে হত্যা এবং ভাবিকে গুরুতর আহত করার পর বাড়ির লোকজনের হাতে আটক ঘাতক মো. ইমন (২৪) এভাবেই সাংবাদিক ও পুলিশের কাছে জোড়া খুনের বর্ণনা দেন।

ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল সোমবার সকালে জেলার দেবীদ্বার উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার মোস্তফা মাস্টারের বাড়িতে। ইমন পেশায় শ্রমিক এবং ঐ বাড়ির মৃত ফরিদ মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ ইমনকে গ্রেপ্তার করেছে। 

নিহতরা হলেন—ইমনের মা ফিরোজা বেগম (৬২) ও তার ভাতিজি ইসরাত জাহান (২)। হামলায় গুরুতর আহত ইমনের ভাবি রাবেয়া আক্তার কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

ইমনের বড় ভাই মো. সুজন (৩৫) সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৮ সাল থেকে ইমন পা ভাঙার কারণে বাড়িতে ছিল। তার পায়ে দুই বার অপারেশন হয়েছে। এরপর থেকে তার মধ্যে মানসিক সমস্যার লক্ষণ দেখা দেয়। সোমবার সকাল ৭টার দিকে সুজন বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে খবর পান, ইমন তার মা ও মেয়েকে হত্যা এবং স্ত্রীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছেন। স্থানীয়রা এসে ঘাতক ইমনকে পাশের একটি ঘরে আটকে রাখে।

সন্ধ্যায় দেবীদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদেরবলেন, ঘাতক ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

Share this news as a Photo Card