নিউইয়র্ক ০৭:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি সেবার কেন্দ্রবিন্দু হবে ডিজিটাল আইডি: রেহান আসাদ

  • আপডেটের সময় : ০২:৫৮:৫৪ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে একটি একক ডিজিটাল পরিচয়ই সরকারি বিভিন্ন সেবা পাওয়ার প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠবে। এ লক্ষ্যে সরকার এআই-নির্ভর ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) গড়ে তোলার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে তিনি এ কথা বলেন।

আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে এই ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে এবং আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে এটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা বিশ্বের সবচেয়ে ভালো ও নিরাপদ ডিপিআই এবং ডিজিটাল আইডি বাস্তবায়ন করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দেশের সর্বোত্তম চর্চা ও অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ ডিজিটাল আইডি এবং বৃহত্তর ডিপিআই অবকাঠামো তৈরির কাজ শুরু করেছে। আমরা এই যাত্রা শুরু করেছি। এতে সময় লাগবে, কোনো শর্টকাট নেই। তবে আমরা আমাদের ভবিষ্যতের ভিত্তি তৈরি করছি।

নিজস্ব ডিপিআই অবকাঠামো তৈরির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ এস্তোনিয়ার এক্স-রোড নিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি। সরকারি বিভিন্ন ব্যবস্থার মধ্যে নিরাপদে তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে এক্স-রোডকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মডেল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

জাতিসংঘের মহাসচিবের প্রযুক্তিবিষয়ক দূতের কার্যালয় এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) যৌথ উদ্যোগে মঙ্গলবার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ডিপিআইয়ের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন। প্যানেলে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে একমাত্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিনিধিত্ব করে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের ডিপিআই কীভাবে পরস্পরের সঙ্গে ইন্টারঅপারেবল করা যায়, বিশেষ করে সীমান্তের বাইরে এসব ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল এআই ও ডিপিআইয়ের পারস্পরিক সম্পর্ক এআই কীভাবে ডিপিআইকে সহায়তা করতে পারে এবং ডিপিআই কীভাবে এআই-নির্ভর সেবার ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

তার মতে, রুয়ান্ডার উদ্যোগের লক্ষ্য হলো জন্মনিবন্ধন বা বিভিন্ন সনদ সংগ্রহের মতো কাজে নাগরিকদের সরকারি দফতরে যাওয়ার প্রয়োজন কমানো। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ইন্টারঅপারেবিলিটি মাধ্যমে এক দেশের নাগরিকরা অন্য দেশেও নিজেদের ডিজিটাল পরিচয় ব্যবহার করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে সরকারি সেবা প্রদানে ডিপিআই ও ডিজিটাল আইডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। মূল বিষয় হলো, এটি শুধু বাংলাদেশ বা এশিয়া-প্যাসিফিকের বিষয় নয়। ভবিষ্যতে ডিপিআই ও ডিজিটাল আইডি সরকারি সেবার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে। 

বিভিন্ন দেশের ডিজিটাল ব্যবস্থা যাতে পরস্পরের সঙ্গে কাজ করতে পারে, একই সঙ্গে আস্থা ও নিরাপত্তা বজায় থাকে—এ জন্য দেশ ও অঞ্চলগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

‘দাঁড়াও, এখানে কী করো তুমি?’—সিএনএন সাংবাদিককে ট্রাম্প

ধরা পড়া মার্কিন ডুবো ড্রোনের প্রযুক্তি নকল করবে ইরান

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

সরকারি সেবার কেন্দ্রবিন্দু হবে ডিজিটাল আইডি: রেহান আসাদ

আপডেটের সময় : ০২:৫৮:৫৪ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশে একটি একক ডিজিটাল পরিচয়ই সরকারি বিভিন্ন সেবা পাওয়ার প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠবে। এ লক্ষ্যে সরকার এআই-নির্ভর ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) গড়ে তোলার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে তিনি এ কথা বলেন।

আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে এই ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে এবং আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে এটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা বিশ্বের সবচেয়ে ভালো ও নিরাপদ ডিপিআই এবং ডিজিটাল আইডি বাস্তবায়ন করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দেশের সর্বোত্তম চর্চা ও অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ ডিজিটাল আইডি এবং বৃহত্তর ডিপিআই অবকাঠামো তৈরির কাজ শুরু করেছে। আমরা এই যাত্রা শুরু করেছি। এতে সময় লাগবে, কোনো শর্টকাট নেই। তবে আমরা আমাদের ভবিষ্যতের ভিত্তি তৈরি করছি।

নিজস্ব ডিপিআই অবকাঠামো তৈরির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ এস্তোনিয়ার এক্স-রোড নিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি। সরকারি বিভিন্ন ব্যবস্থার মধ্যে নিরাপদে তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে এক্স-রোডকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মডেল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

জাতিসংঘের মহাসচিবের প্রযুক্তিবিষয়ক দূতের কার্যালয় এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) যৌথ উদ্যোগে মঙ্গলবার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ডিপিআইয়ের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন। প্যানেলে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে একমাত্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিনিধিত্ব করে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের ডিপিআই কীভাবে পরস্পরের সঙ্গে ইন্টারঅপারেবল করা যায়, বিশেষ করে সীমান্তের বাইরে এসব ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল এআই ও ডিপিআইয়ের পারস্পরিক সম্পর্ক এআই কীভাবে ডিপিআইকে সহায়তা করতে পারে এবং ডিপিআই কীভাবে এআই-নির্ভর সেবার ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

তার মতে, রুয়ান্ডার উদ্যোগের লক্ষ্য হলো জন্মনিবন্ধন বা বিভিন্ন সনদ সংগ্রহের মতো কাজে নাগরিকদের সরকারি দফতরে যাওয়ার প্রয়োজন কমানো। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ইন্টারঅপারেবিলিটি মাধ্যমে এক দেশের নাগরিকরা অন্য দেশেও নিজেদের ডিজিটাল পরিচয় ব্যবহার করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে সরকারি সেবা প্রদানে ডিপিআই ও ডিজিটাল আইডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। মূল বিষয় হলো, এটি শুধু বাংলাদেশ বা এশিয়া-প্যাসিফিকের বিষয় নয়। ভবিষ্যতে ডিপিআই ও ডিজিটাল আইডি সরকারি সেবার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে। 

বিভিন্ন দেশের ডিজিটাল ব্যবস্থা যাতে পরস্পরের সঙ্গে কাজ করতে পারে, একই সঙ্গে আস্থা ও নিরাপত্তা বজায় থাকে—এ জন্য দেশ ও অঞ্চলগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

Share this news as a Photo Card