নিউইয়র্ক ০৭:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রুপির বিপরীতে টাকার বড় উত্থান: ভারতগামী বাংলাদেশিদের জন্য স্বস্তির খবর

  • আপডেটের সময় : ০৩:০১:২৯ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় রুপির বিপরীতে গত দুই বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশি টাকা। এ সময়ে ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে ১১.৬ শতাংশ। এর মধ্যে গত এক বছরেই বেড়েছে ৭.৬ শতাংশ।

বিনিময় হারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর এক টাকা সমান দাঁড়ায় প্রায় ০.৭৮ ভারতীয় রুপি। এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক টাকা সমান ছিল প্রায় ০.৭২ রুপি। আর ২০২৪ সালের একই দিনে এক টাকা সমান ছিল প্রায় ০.৭০ রুপি। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে ৫.৫ পয়সা। এতে ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে ৭.৬ শতাংশ।

বিপরীত হিসাবেও টাকার শক্তিশালী হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট। চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর এক ভারতীয় রুপির মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১.২৮ টাকা। এক বছর আগে এর মূল্য ছিল প্রায় ১.৩৮ টাকা। অর্থাৎ, এক ভারতীয় রুপি কিনতে এখন এক বছর আগের তুলনায় ৯.৭২ পয়সা কম টাকা প্রয়োজন হচ্ছে। এ হিসাবে টাকার মূল্য বেড়েছে ৭.১ শতাংশ।

২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক ভারতীয় রুপির মূল্য ছিল ১.৪৩ টাকা। সেই সময়ের তুলনায় গত দুই বছরে রুপির বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে ১১.৬ শতাংশ।

বিশেষ করে গত এক বছরের পরিবর্তনটি তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর যেখানে এক টাকা দিয়ে ০.৭২ রুপি পাওয়া যেত, সেখানে ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পাওয়া যাচ্ছে ০.৭৮ রুপি। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে ৭.৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যেও ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার এই শক্তিশালী অবস্থান অব্যাহত থাকার চিত্র পাওয়া গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার ক্রস রেট ছিল ১.২৭৮৯ টাকা থেকে ১.২৭৯৬ টাকা। অর্থাৎ, এক টাকার বিপরীতে পাওয়া গেছে ০.৭৮১ থেকে ০.৭৮২ ভারতীয় রুপি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার শক্তিশালী অবস্থান বাংলাদেশ-ভারতের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভারত থেকে পণ্য আমদানিতে স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় কমতে পারে।

তিনি বলেন, টাকার মূল্য বাড়লে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম, পরিবহন ব্যয় ও বাণিজ্যসংক্রান্ত অন্যান্য খরচ অপরিবর্তিত থাকলে একই পরিমাণ ভারতীয় পণ্য ও সেবা কিনতে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের তুলনামূলক কম টাকা ব্যয় হবে। এর ফলে ভারতীয় পণ্য ও সেবা আমদানিতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন। একইসঙ্গে ভারতে ভ্রমণকারী বাংলাদেশিদেরও স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয়ের পরিমাণ কমতে পারে।

আরিফ হোসেন খান বলেন, বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিনিময় হারের এ পরিবর্তন ভারত থেকে আমদানির সামগ্রিক স্থানীয় মুদ্রার ব্যয়েও প্রভাব ফেলবে। ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকা তুলনামূলক শক্তিশালী থাকলে ভারতীয় মুদ্রায় পরিশোধযোগ্য আমদানি ব্যয় মেটাতে আমদানিকারকদের কম টাকা প্রয়োজন হবে।

তিনি আরও বলেন, ভারত থেকে কাঁচামাল, শিল্পের বিভিন্ন উপকরণ, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য পণ্য আমদানিকারক ব্যবসায়ীরাও এর সুফল পেতে পারেন। কারণ, এসব পণ্য আমদানিতে ব্যয়ের মুদ্রা-সংক্রান্ত অংশ তুলনামূলকভাবে কমে আসতে পারে।

তবে এর প্রকৃত প্রভাব বাজারদরে কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে আরও কয়েকটি বিষয়ের ওপর। এর মধ্যে রয়েছে আমদানি করা পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য, পণ্য পরিবহন ও লজিস্টিক ব্যয়, শুল্ক ও কর এবং আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের ব্যয় নির্ধারণে বিনিময় হার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাই টাকা-রুপির বিনিময় হারের পরিবর্তনকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতির আলোকে দেখতে হবে।

ভারতে ভ্রমণকারী বাংলাদেশিরাও টাকার শক্তিশালী অবস্থান থেকে সুবিধা পেতে পারেন বলে জানান তিনি। তার মতে, প্রচলিত বাজারদর অনুযায়ী টাকার বিপরীতে রুপির মূল্য কম থাকলে ভারতে বাংলাদেশিদের আবাসন, খাবার, যাতায়াত ও অন্যান্য স্থানীয় খরচের টাকায় হিসাব করা মূল্য কমবে।

তবে তিনি বলেন, শুধু বিনিময় হারের পরিবর্তনই আমদানি পণ্যের চূড়ান্ত মূল্য কিংবা বিদেশ ভ্রমণের মোট ব্যয় নির্ধারণ করে না। এ ক্ষেত্রে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের অন্যান্য বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরিফ হোসেন খান বলেন, বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ও বিনিময় হারের গতিবিধি বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং একটি সুশৃঙ্খল বাজার নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

‘দাঁড়াও, এখানে কী করো তুমি?’—সিএনএন সাংবাদিককে ট্রাম্প

ধরা পড়া মার্কিন ডুবো ড্রোনের প্রযুক্তি নকল করবে ইরান

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

রুপির বিপরীতে টাকার বড় উত্থান: ভারতগামী বাংলাদেশিদের জন্য স্বস্তির খবর

আপডেটের সময় : ০৩:০১:২৯ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতীয় রুপির বিপরীতে গত দুই বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশি টাকা। এ সময়ে ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে ১১.৬ শতাংশ। এর মধ্যে গত এক বছরেই বেড়েছে ৭.৬ শতাংশ।

বিনিময় হারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর এক টাকা সমান দাঁড়ায় প্রায় ০.৭৮ ভারতীয় রুপি। এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক টাকা সমান ছিল প্রায় ০.৭২ রুপি। আর ২০২৪ সালের একই দিনে এক টাকা সমান ছিল প্রায় ০.৭০ রুপি। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে ৫.৫ পয়সা। এতে ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে ৭.৬ শতাংশ।

বিপরীত হিসাবেও টাকার শক্তিশালী হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট। চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর এক ভারতীয় রুপির মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১.২৮ টাকা। এক বছর আগে এর মূল্য ছিল প্রায় ১.৩৮ টাকা। অর্থাৎ, এক ভারতীয় রুপি কিনতে এখন এক বছর আগের তুলনায় ৯.৭২ পয়সা কম টাকা প্রয়োজন হচ্ছে। এ হিসাবে টাকার মূল্য বেড়েছে ৭.১ শতাংশ।

২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক ভারতীয় রুপির মূল্য ছিল ১.৪৩ টাকা। সেই সময়ের তুলনায় গত দুই বছরে রুপির বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে ১১.৬ শতাংশ।

বিশেষ করে গত এক বছরের পরিবর্তনটি তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর যেখানে এক টাকা দিয়ে ০.৭২ রুপি পাওয়া যেত, সেখানে ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পাওয়া যাচ্ছে ০.৭৮ রুপি। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে ৭.৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যেও ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার এই শক্তিশালী অবস্থান অব্যাহত থাকার চিত্র পাওয়া গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার ক্রস রেট ছিল ১.২৭৮৯ টাকা থেকে ১.২৭৯৬ টাকা। অর্থাৎ, এক টাকার বিপরীতে পাওয়া গেছে ০.৭৮১ থেকে ০.৭৮২ ভারতীয় রুপি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার শক্তিশালী অবস্থান বাংলাদেশ-ভারতের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভারত থেকে পণ্য আমদানিতে স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় কমতে পারে।

তিনি বলেন, টাকার মূল্য বাড়লে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম, পরিবহন ব্যয় ও বাণিজ্যসংক্রান্ত অন্যান্য খরচ অপরিবর্তিত থাকলে একই পরিমাণ ভারতীয় পণ্য ও সেবা কিনতে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের তুলনামূলক কম টাকা ব্যয় হবে। এর ফলে ভারতীয় পণ্য ও সেবা আমদানিতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন। একইসঙ্গে ভারতে ভ্রমণকারী বাংলাদেশিদেরও স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয়ের পরিমাণ কমতে পারে।

আরিফ হোসেন খান বলেন, বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিনিময় হারের এ পরিবর্তন ভারত থেকে আমদানির সামগ্রিক স্থানীয় মুদ্রার ব্যয়েও প্রভাব ফেলবে। ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকা তুলনামূলক শক্তিশালী থাকলে ভারতীয় মুদ্রায় পরিশোধযোগ্য আমদানি ব্যয় মেটাতে আমদানিকারকদের কম টাকা প্রয়োজন হবে।

তিনি আরও বলেন, ভারত থেকে কাঁচামাল, শিল্পের বিভিন্ন উপকরণ, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য পণ্য আমদানিকারক ব্যবসায়ীরাও এর সুফল পেতে পারেন। কারণ, এসব পণ্য আমদানিতে ব্যয়ের মুদ্রা-সংক্রান্ত অংশ তুলনামূলকভাবে কমে আসতে পারে।

তবে এর প্রকৃত প্রভাব বাজারদরে কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে আরও কয়েকটি বিষয়ের ওপর। এর মধ্যে রয়েছে আমদানি করা পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য, পণ্য পরিবহন ও লজিস্টিক ব্যয়, শুল্ক ও কর এবং আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের ব্যয় নির্ধারণে বিনিময় হার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাই টাকা-রুপির বিনিময় হারের পরিবর্তনকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতির আলোকে দেখতে হবে।

ভারতে ভ্রমণকারী বাংলাদেশিরাও টাকার শক্তিশালী অবস্থান থেকে সুবিধা পেতে পারেন বলে জানান তিনি। তার মতে, প্রচলিত বাজারদর অনুযায়ী টাকার বিপরীতে রুপির মূল্য কম থাকলে ভারতে বাংলাদেশিদের আবাসন, খাবার, যাতায়াত ও অন্যান্য স্থানীয় খরচের টাকায় হিসাব করা মূল্য কমবে।

তবে তিনি বলেন, শুধু বিনিময় হারের পরিবর্তনই আমদানি পণ্যের চূড়ান্ত মূল্য কিংবা বিদেশ ভ্রমণের মোট ব্যয় নির্ধারণ করে না। এ ক্ষেত্রে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের অন্যান্য বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরিফ হোসেন খান বলেন, বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ও বিনিময় হারের গতিবিধি বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং একটি সুশৃঙ্খল বাজার নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

Share this news as a Photo Card