নিউইয়র্ক ০৭:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বোয়িং থেকে আরও ১১ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান বাংলাদেশ, কোন মডেলের কতটি

  • আপডেটের সময় : ১১:৫৩:২৪ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্স বিমান বাংলাদেশ নিজেদের বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে আমেরিকান উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউ ইয়র্কে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই নিয়ে গত পাঁচ মাসের ব্যবধানে বিমান বাংলাদেশ বোয়িংকে মোট ২৫টি উড়োজাহাজের দুটি পৃথক ক্রয়াদেশ প্রদান করল।

বোয়িং ইন্ডিয়া অ্যান্ড সাউথ এশিয়ার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন ক্রয়াদেশের ১১টি উড়োজাহাজের মধ্যে রয়েছে পাঁচটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স মডেলের বিমান। তৎকালীন তালিকামূল্য অনুযায়ী এই নতুন ১১টি উড়োজাহাজের আনুমানিক ক্রয়মূল্য প্রায় ২.৪ বিলিয়ন ডলার বা ২৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২.৭৩ টাকা হিসাবে)। তবে এগুলো কবে নাগাদ বহরে যুক্ত হবে, সে সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল প্রথম দফায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলার বা ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৪টি বোয়িং কেনার চুক্তি করেছিল বিমান। ওই চুক্তির অধীনে আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স কেনা হচ্ছে, যা ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে বাংলাদেশে পৌঁছাবে। ফলে দুই দফায় বিমানের বহরে যোগ হচ্ছে দুটি ভিন্ন মডেলের তিনটি সংস্করণের মোট ২৫টি অত্যাধুনিক বিমান।

উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বোয়িং জানিয়েছে, প্রশস্ত কাঠামোর ৭৮৭ ড্রিমলাইনার এবং সরু কাঠামোর ৭৩৭ ম্যাক্স জ্বালানিসাশ্রয়ী, যা আগের মডেলগুলোর তুলনায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কম জ্বালানি ব্যবহার করে। নতুন বিমানগুলো বহরে যুক্ত হলে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার লাভজনক দূরপাল্লা ও স্বল্পপাল্লার রুটগুলোতে চলাচল সহজতর হবে।

বর্তমানে বিমান বাংলাদেশের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে, যার মধ্যে ১৪টি বোয়িং ও পাঁচটি ড্যাশ-৮ মডেলের। নতুন ২৫টি নতুন বিমান যুক্ত হলে বহরের মোট আকার দাঁড়িয়ে ৪৪টিতে পৌঁছাবে, যার মধ্যে ৩৯টিই হবে বোয়িং প্রস্তুতকৃত।

গত ৩১ আগস্ট বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুনির্দিষ্ট অনুরোধের পর বাংলাদেশ বোয়িং থেকে বিমান কেনার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেছে। চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ায় সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি চিঠি পাঠান ডোনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তি স্বাক্ষরের পর নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় আমেরিকান উৎপাদন খাতের জন্য এটিকে একটি বড় সাফল্য উল্লেখ করে বোয়িং কর্মীদের অভিনন্দন জানান ট্রাম্প।

https://truthsocial.com/@realDonaldTrump/117323148147220269/embed

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব ইরানের

জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েই তড়িঘড়ি করে নিউইয়র্ক ছাড়লেন নেতানিয়াহু

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

বোয়িং থেকে আরও ১১ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান বাংলাদেশ, কোন মডেলের কতটি

আপডেটের সময় : ১১:৫৩:২৪ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্স বিমান বাংলাদেশ নিজেদের বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে আমেরিকান উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউ ইয়র্কে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই নিয়ে গত পাঁচ মাসের ব্যবধানে বিমান বাংলাদেশ বোয়িংকে মোট ২৫টি উড়োজাহাজের দুটি পৃথক ক্রয়াদেশ প্রদান করল।

বোয়িং ইন্ডিয়া অ্যান্ড সাউথ এশিয়ার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন ক্রয়াদেশের ১১টি উড়োজাহাজের মধ্যে রয়েছে পাঁচটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স মডেলের বিমান। তৎকালীন তালিকামূল্য অনুযায়ী এই নতুন ১১টি উড়োজাহাজের আনুমানিক ক্রয়মূল্য প্রায় ২.৪ বিলিয়ন ডলার বা ২৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২.৭৩ টাকা হিসাবে)। তবে এগুলো কবে নাগাদ বহরে যুক্ত হবে, সে সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল প্রথম দফায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলার বা ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৪টি বোয়িং কেনার চুক্তি করেছিল বিমান। ওই চুক্তির অধীনে আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স কেনা হচ্ছে, যা ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে বাংলাদেশে পৌঁছাবে। ফলে দুই দফায় বিমানের বহরে যোগ হচ্ছে দুটি ভিন্ন মডেলের তিনটি সংস্করণের মোট ২৫টি অত্যাধুনিক বিমান।

উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বোয়িং জানিয়েছে, প্রশস্ত কাঠামোর ৭৮৭ ড্রিমলাইনার এবং সরু কাঠামোর ৭৩৭ ম্যাক্স জ্বালানিসাশ্রয়ী, যা আগের মডেলগুলোর তুলনায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কম জ্বালানি ব্যবহার করে। নতুন বিমানগুলো বহরে যুক্ত হলে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার লাভজনক দূরপাল্লা ও স্বল্পপাল্লার রুটগুলোতে চলাচল সহজতর হবে।

বর্তমানে বিমান বাংলাদেশের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে, যার মধ্যে ১৪টি বোয়িং ও পাঁচটি ড্যাশ-৮ মডেলের। নতুন ২৫টি নতুন বিমান যুক্ত হলে বহরের মোট আকার দাঁড়িয়ে ৪৪টিতে পৌঁছাবে, যার মধ্যে ৩৯টিই হবে বোয়িং প্রস্তুতকৃত।

গত ৩১ আগস্ট বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুনির্দিষ্ট অনুরোধের পর বাংলাদেশ বোয়িং থেকে বিমান কেনার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেছে। চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ায় সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি চিঠি পাঠান ডোনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তি স্বাক্ষরের পর নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় আমেরিকান উৎপাদন খাতের জন্য এটিকে একটি বড় সাফল্য উল্লেখ করে বোয়িং কর্মীদের অভিনন্দন জানান ট্রাম্প।

https://truthsocial.com/@realDonaldTrump/117323148147220269/embed

Share this news as a Photo Card