বিশ্বকাপের রেশ কাটতে না কাটতেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে নেমে আবারও নিজের অতিমানবীয় ফর্মের প্রমাণ দিলেন আর্লিং হালান্ড। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ঠাসা এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে তার অসাধারণ জোড়া গোলের ওপর ভর করে ডেনমার্ককে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছে নরওয়ে। ম্যাচে দুই গোলের অগ্রগামিতা হাতছাড়া হয়ে পয়েন্ট হারানোর শঙ্কা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত ম্যানচেস্টার সিটি তারকার নৈপুণ্যেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ‘ভাইকিং’রা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে ঘরের মাঠ উলেভাল স্তাদিওনে ডেনমার্ককে আতিথ্য দেয় নরওয়ে। ম্যাচের বলের দখল ছিল প্রায় সমানে সমান এবং দুই দলই প্রতিপক্ষের গোলমুখে সমান ৭টি করে অন-টার্গেট শট নেয়। শেষ মুহূর্তে একজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেও পূর্ণ ৩ পয়েন্ট তুলে নিতে কোনো বেগ পেতে হয়নি স্বাগতিকদের।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় নরওয়ে। ১৪তম মিনিটে অস্কার ববের চমৎকার কোনাকুনি শটে লিড নেয় তারা। এর মাত্র চার মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হালান্ড। ডি-বক্সে সতীর্থের বাড়ানো থ্রু পাস পেয়ে অত্যন্ত দুরূহ কোণ থেকে প্রথম স্পর্শেই জোরালো শটে বল জালে জড়ান এই স্ট্রাইকার।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে লড়াইয়ে ফেরার ইঙ্গিত দেয় ডেনমার্ক। ম্যাচের ২৫তম মিনিটে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিকে প্রতিপক্ষের মানবপ্রাচীর ফাঁকি দিয়ে গোল আদায় করে স্কোরলাইন ২-১ করেন মিকেল ড্যামসগার্ড।
প্রথমার্ধে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধের ৬০তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় নরওয়ে। কাছ থেকে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে ডেনমার্ককে ২-২ গোলের সমতায় ফেরান রাসমুস হয়লুন্ড। ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকে গড়াচ্ছিল, তখনই আবারও দৃশ্যপটে হাজির হন হালান্ড। ৭৪তম মিনিটে বক্সে বল পেয়ে প্রথম ছোঁয়াতেই বুলেটগতির শটে ডেনিশদের জাল কাঁপিয়ে নরওয়েকে ৩-২ গোলের গুরুত্বপূর্ণ জয় এনে দেন তিনি।
বিশ্বকাপে টানা চার ম্যাচে গোল পাওয়া এই সিটি তারকা জাতীয় দলের জার্সিতে গোলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন। নরওয়ের হয়ে ৫৬ ম্যাচে হালান্ডের গোলসংখ্যা এখন দাঁড়িয়েছে ৬৪-তে। ম্যাচের যোগ করা সময়ে ফাউল করে নরওয়ের ডেভিড মোলার ওল্ফ সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেও দলের ৩-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করতে কোনো সমস্যা হয়নি।


























