নিউইয়র্ক ০৭:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনায় আরও দুজন গ্রেপ্তার

  • আপডেটের সময় : ০১:২১:৩৩ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি’ সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা, কার্যালয় ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি থেকে লুট হওয়া কিছু মালামালও উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে অভিযান চালিয়ে কেরানীগঞ্জের গুদারাঘাট থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে শাহ আলী থানার পুলিশ। 

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. মিন্টু (৩৫) ও মো. মিলন (৪০)। এ নিয়ে ভাঙচুরের ঘটনায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজন ঘটনার রাতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরে অংশ নিয়েছিলেন। পরে সেখান থেকে বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যান। মিন্টুর কাছ থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের টিনসহ কিছু মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। আর মিলনের কাছ থেকে একটি স্টিলের দরজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা সব মালামাল জব্দ করেছে পুলিশ।

এর আগে ভাঙচুরে জড়িত থাকার অভিযোগে শুক্রবার রাতে চার তরুণকে গ্রেপ্তার করে শাহ আলী থানা-পুলিশ। তারা হলেন মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), জিহাদ হাসান (২১) ও মো. রাব্বি (২০)। পুলিশ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জুয়েল শাহ আলী বাগের করলাপাড়ায় থাকতেন। অপর তিনজন শাহ আলী মাজার এলাকার ভাসমান তরুণ। তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য, টাকার বিনিময়ে তারা ওই ভাঙচুরে অংশ নিয়েছিলেন।

এরপর শনিবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার হয় ছয়জন। তারা হলেন মো. শাহাদাত হোসেন (৩৩), কাজী মকবুল হোসেন (৫৮), মো. শাহ আলম (৫৩), মো. আতিকুর রহমান (৩৩), মো. কামরুল ইসলাম (৫২) ও মো. শাকিল (২০)। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনকে শাহবাগ থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। অন্যজনকে শাহ আলী থেকে গ্রেপ্তার করে থানা-পুলিশ। গতকাল রোববার আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, দারুসসালাম থানার বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকা থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের লুট হওয়া আসবাব, টিকা, রেজিস্টার খাতা, ফ্রিজ, অফিসের কাগজপত্র, প্রিন্টার, জেনারেটরসহ ৪৬ ধরনের মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। মালামাল বহনকারী দুটি কাভার্ড ভ্যানও আটক করা হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে মিরপুর ১ নম্বর সেকশনে অবস্থিত রাড্ডা সেন্টারে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে তাণ্ডব চালানো হয়। রাতের আঁধারে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। একই সঙ্গে কার্যালয়ের মূল্যবান আসবাব, চিকিৎসা সামগ্রী ও নিয়মিত টিকাদানের জরুরি সরঞ্জাম লুটপাট করা হয় বলে অভিযোগ করে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনায় রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বাদী হয়ে রাজধানীর শাহ আলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, লুটপাট, প্রাণনাশের হুমকি এবং প্রায় দেড় কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রায় ১০ কাঠা জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। স্থানীয় সংসদীয় আসনের বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যও জমিটি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

দক্ষিণের সীমানা পেরিয়ে এবার বাংলায় পা রাখল থালাপতি বিজয়ের দল

দক্ষিণ আফ্রিকায় ১১ নারীর মরদেহ উদ্ধার, বাড়ছে ‘সিরিয়াল কিলার’ আতঙ্ক

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনায় আরও দুজন গ্রেপ্তার

আপডেটের সময় : ০১:২১:৩৩ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি’ সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা, কার্যালয় ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি থেকে লুট হওয়া কিছু মালামালও উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে অভিযান চালিয়ে কেরানীগঞ্জের গুদারাঘাট থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে শাহ আলী থানার পুলিশ। 

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. মিন্টু (৩৫) ও মো. মিলন (৪০)। এ নিয়ে ভাঙচুরের ঘটনায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজন ঘটনার রাতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরে অংশ নিয়েছিলেন। পরে সেখান থেকে বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যান। মিন্টুর কাছ থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের টিনসহ কিছু মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। আর মিলনের কাছ থেকে একটি স্টিলের দরজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা সব মালামাল জব্দ করেছে পুলিশ।

এর আগে ভাঙচুরে জড়িত থাকার অভিযোগে শুক্রবার রাতে চার তরুণকে গ্রেপ্তার করে শাহ আলী থানা-পুলিশ। তারা হলেন মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), জিহাদ হাসান (২১) ও মো. রাব্বি (২০)। পুলিশ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জুয়েল শাহ আলী বাগের করলাপাড়ায় থাকতেন। অপর তিনজন শাহ আলী মাজার এলাকার ভাসমান তরুণ। তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য, টাকার বিনিময়ে তারা ওই ভাঙচুরে অংশ নিয়েছিলেন।

এরপর শনিবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার হয় ছয়জন। তারা হলেন মো. শাহাদাত হোসেন (৩৩), কাজী মকবুল হোসেন (৫৮), মো. শাহ আলম (৫৩), মো. আতিকুর রহমান (৩৩), মো. কামরুল ইসলাম (৫২) ও মো. শাকিল (২০)। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনকে শাহবাগ থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। অন্যজনকে শাহ আলী থেকে গ্রেপ্তার করে থানা-পুলিশ। গতকাল রোববার আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, দারুসসালাম থানার বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকা থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের লুট হওয়া আসবাব, টিকা, রেজিস্টার খাতা, ফ্রিজ, অফিসের কাগজপত্র, প্রিন্টার, জেনারেটরসহ ৪৬ ধরনের মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। মালামাল বহনকারী দুটি কাভার্ড ভ্যানও আটক করা হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে মিরপুর ১ নম্বর সেকশনে অবস্থিত রাড্ডা সেন্টারে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে তাণ্ডব চালানো হয়। রাতের আঁধারে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। একই সঙ্গে কার্যালয়ের মূল্যবান আসবাব, চিকিৎসা সামগ্রী ও নিয়মিত টিকাদানের জরুরি সরঞ্জাম লুটপাট করা হয় বলে অভিযোগ করে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনায় রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বাদী হয়ে রাজধানীর শাহ আলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, লুটপাট, প্রাণনাশের হুমকি এবং প্রায় দেড় কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রায় ১০ কাঠা জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। স্থানীয় সংসদীয় আসনের বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যও জমিটি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

Share this news as a Photo Card