নিউইয়র্ক ০৫:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্ষণে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা, মায়ের স্বামীর প্রাণদণ্ড

  • আপডেটের সময় : ০১:৩৩:২৫ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

বছর তিনেক আগে ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকায় ধর্ষণের ফলে সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার মামলায় তারই সৎ বাবা জামাল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় ৫৬ বছর বয়সী জামাল হোসেনকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, জামাল হোসেন ১৩ বছর বয়সী কিশোরীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের অপরাধে উপযুক্ত শাস্তি না দিলে আদালত তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হবে।

বিচারক আরও বলেন, এ অপরাধ শুধু ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে নয়, সে যে সমাজের অংশ, সেই সমাজের বিরুদ্ধেও সংঘটিত হয়েছে। সমাজের আর্তনাদে সাড়া দেওয়া এবং এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধের জন্য যথাযথ শাস্তি নির্ধারণ করা আদালতের দায়িত্ব।

ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ কুমার গোমেজ জানান, পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার অর্থ পরিশোধ করা না হলে দণ্ডিত ব্যক্তির স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ ভুক্তভোগী বা তার আইনগত উত্তরাধিকারীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার জন্য জেলা কালেক্টরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, কিশোরীটি মা ও সৎ বাবার সঙ্গে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় থাকত এবং সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট মা বাড়িতে না থাকার সুযোগে জামাল হোসেন তাকে ধর্ষণ করেন। এর আগেও কয়েক দফা তাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে কিশোরীটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে সন্তান জন্ম দেয়।

এ ঘটনায় ওই বছরের ২৮ আগস্ট কিশোরীর মা কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ আলী হোসেন ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল আটজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। পরে আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য এবং রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত জামাল হোসেনকে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মেয়েকে শেখাচ্ছিলেন ড্রাইভিং, সেই গাড়ির ধাক্কাতেই প্রাণ গেল বাবার

বাংলাদেশকে নভেম্বর পর্যন্ত এলএনজি দিতে পারবে না কাতার এনার্জি

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ধর্ষণে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা, মায়ের স্বামীর প্রাণদণ্ড

আপডেটের সময় : ০১:৩৩:২৫ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বছর তিনেক আগে ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকায় ধর্ষণের ফলে সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার মামলায় তারই সৎ বাবা জামাল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় ৫৬ বছর বয়সী জামাল হোসেনকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, জামাল হোসেন ১৩ বছর বয়সী কিশোরীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের অপরাধে উপযুক্ত শাস্তি না দিলে আদালত তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হবে।

বিচারক আরও বলেন, এ অপরাধ শুধু ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে নয়, সে যে সমাজের অংশ, সেই সমাজের বিরুদ্ধেও সংঘটিত হয়েছে। সমাজের আর্তনাদে সাড়া দেওয়া এবং এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধের জন্য যথাযথ শাস্তি নির্ধারণ করা আদালতের দায়িত্ব।

ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ কুমার গোমেজ জানান, পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার অর্থ পরিশোধ করা না হলে দণ্ডিত ব্যক্তির স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ ভুক্তভোগী বা তার আইনগত উত্তরাধিকারীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার জন্য জেলা কালেক্টরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, কিশোরীটি মা ও সৎ বাবার সঙ্গে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় থাকত এবং সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট মা বাড়িতে না থাকার সুযোগে জামাল হোসেন তাকে ধর্ষণ করেন। এর আগেও কয়েক দফা তাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে কিশোরীটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে সন্তান জন্ম দেয়।

এ ঘটনায় ওই বছরের ২৮ আগস্ট কিশোরীর মা কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ আলী হোসেন ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল আটজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। পরে আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য এবং রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত জামাল হোসেনকে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেন।

Share this news as a Photo Card