নিউইয়র্ক ০৫:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সন্দেহ থেকে মামলা, গাজী নজরুলের জামিনে ‘কোনো আপত্তি নেই’ মরিয়মের বাবার

  • আপডেটের সময় : ১২:৫০:৪৩ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় আপস করেছেন বাদী মরিয়ম খাতুনের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। আপসনামায় কারাগারে থাকা গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম জামিনে মুক্তি পেলে ‘কোনো আপত্তি নেই’ বলে জানিয়েছেন তিনি।

একই সঙ্গে দুই পক্ষের মধ্যে হৃদ্যতাপূর্ণ ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার এবং বিচারিক কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার কথাও বলা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালতে হাজির হয়ে আসামিদের পক্ষে হলফনামা দেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন।

ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী ও আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আপসনামায় এস এম মাসুম বিল্লাহ ও মো. আব্দুল হামিদ মোড়লকে যথাক্রমে প্রথমপক্ষ ও দ্বিতীয়পক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহর নাম স্মরণে অত্র আপসনামা লেখা শুরু করিলাম।’

আপসনামার প্রথম দফায় বলা হয়েছে, ‘যেহেতু আমি প্রথমপক্ষের কন্যা মরিয়মের সহিত অত্র মামলার ১ নম্বর আসামি জি এম নজরুল ইসলামের সহিত বিবাহ হয়। বিবাহ হওয়ার পরে জি এম নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের সহিত আমার মেয়ে ১ নম্বর আসামির দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে তাহারা একত্রে সংসার জীবন পরিচালনা করিয়া আসিতেছিলেন।’

দ্বিতীয় দফায় বলা হয়েছে, ‘যেহেতু গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুপুর অনুমান ৩ টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যবর্তী যেকোনো সময়ে ঢাকাস্থ নিজ বাসভবনে আমার কন্যা মরিয়ম আত্মহত্যা করিলে আমার মেয়ের জামাই জি এম নজরুল ইসলামের ফোন পাইয়া তাহার বাসভবনে আনুমানিক বিকেল সাড়ে ৬টার সময় উপস্থিত হইয়া আমার কন্যা আত্মহত্যার বিষয়ে জানিতে পারি।’

আপসনামায় আরও বলা হয়েছে, ‘যেহেতু আমার মেয়ের জামাই এর বাসায় আত্মহত্যার বিষয়টি সংঘটিত হইয়াছে ফলে তাৎক্ষণিকভাবে সন্দেহবশত আমার মেয়ের জামাই জি এম নজরুল ইসলাম, তাহার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও অন্য একজনকে আসামি করিয়া শেরে-বাংলা নগর থানার মামলা নম্বর ১৬ (০৯) ২০২৬, ধারা: ৩০৬ দণ্ডবিধি দায়ের করি।’

আপসনামায় বলা হয়েছে, ঘটনার পর সন্দেহের বশে মামলা করা হলেও পরবর্তীতে দুই পক্ষের মধ্যে আপস হয়েছে। এতে আসামিদের জামিনের বিষয়ে বাদীপক্ষের অবস্থানও উল্লেখ করা হয়েছে।

আপসনামার ওই অংশে বলা হয়েছে, ‘নজরুল ইসলাম জামিন পাইলে আমি কিংবা আমার পরিবারের কারো কোনো আপত্তি নাই।’

এরপর বলা হয়েছে, ‘আসামিদ্বয় জামিন পাইলে উভয়পক্ষ হৃদ্যতাপূর্ণ ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখিয়া চলিতে একান্তভাবে চেষ্টা করিব।’

এ ছাড়া বিচারাধীন মামলা সম্পর্কে আপসনামায় বলা হয়েছে, ‘বিচারাধীন বিষয়ে উভয়পক্ষ নির্লিপ্ত থাকিয়া বিচারকার্যে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করিব।’

আপসনামার শেষাংশে বলা হয়েছে, উভয়পক্ষ স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে এবং অন্য কারও দ্বারা প্ররোচিত না হয়ে আপসনামাটি পাঠ করে এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে সম্যক অবগত হয়ে তাতে স্বাক্ষর করেছেন।

নথিতে আপসনামাটি ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সত্যায়িত করা হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। এতে প্রথমপক্ষ ও দ্বিতীয়পক্ষের স্বাক্ষরের পাশাপাশি শনাক্তকারীর স্বাক্ষরও রয়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

সোমালিয়ায় জিম্মি ট্যাংকারে ৫ নাবিককে হত্যা, ১৬ জন আটক

নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যেই রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

সন্দেহ থেকে মামলা, গাজী নজরুলের জামিনে ‘কোনো আপত্তি নেই’ মরিয়মের বাবার

আপডেটের সময় : ১২:৫০:৪৩ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় আপস করেছেন বাদী মরিয়ম খাতুনের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। আপসনামায় কারাগারে থাকা গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম জামিনে মুক্তি পেলে ‘কোনো আপত্তি নেই’ বলে জানিয়েছেন তিনি।

একই সঙ্গে দুই পক্ষের মধ্যে হৃদ্যতাপূর্ণ ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার এবং বিচারিক কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার কথাও বলা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালতে হাজির হয়ে আসামিদের পক্ষে হলফনামা দেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন।

ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী ও আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আপসনামায় এস এম মাসুম বিল্লাহ ও মো. আব্দুল হামিদ মোড়লকে যথাক্রমে প্রথমপক্ষ ও দ্বিতীয়পক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহর নাম স্মরণে অত্র আপসনামা লেখা শুরু করিলাম।’

আপসনামার প্রথম দফায় বলা হয়েছে, ‘যেহেতু আমি প্রথমপক্ষের কন্যা মরিয়মের সহিত অত্র মামলার ১ নম্বর আসামি জি এম নজরুল ইসলামের সহিত বিবাহ হয়। বিবাহ হওয়ার পরে জি এম নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের সহিত আমার মেয়ে ১ নম্বর আসামির দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে তাহারা একত্রে সংসার জীবন পরিচালনা করিয়া আসিতেছিলেন।’

দ্বিতীয় দফায় বলা হয়েছে, ‘যেহেতু গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুপুর অনুমান ৩ টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যবর্তী যেকোনো সময়ে ঢাকাস্থ নিজ বাসভবনে আমার কন্যা মরিয়ম আত্মহত্যা করিলে আমার মেয়ের জামাই জি এম নজরুল ইসলামের ফোন পাইয়া তাহার বাসভবনে আনুমানিক বিকেল সাড়ে ৬টার সময় উপস্থিত হইয়া আমার কন্যা আত্মহত্যার বিষয়ে জানিতে পারি।’

আপসনামায় আরও বলা হয়েছে, ‘যেহেতু আমার মেয়ের জামাই এর বাসায় আত্মহত্যার বিষয়টি সংঘটিত হইয়াছে ফলে তাৎক্ষণিকভাবে সন্দেহবশত আমার মেয়ের জামাই জি এম নজরুল ইসলাম, তাহার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও অন্য একজনকে আসামি করিয়া শেরে-বাংলা নগর থানার মামলা নম্বর ১৬ (০৯) ২০২৬, ধারা: ৩০৬ দণ্ডবিধি দায়ের করি।’

আপসনামায় বলা হয়েছে, ঘটনার পর সন্দেহের বশে মামলা করা হলেও পরবর্তীতে দুই পক্ষের মধ্যে আপস হয়েছে। এতে আসামিদের জামিনের বিষয়ে বাদীপক্ষের অবস্থানও উল্লেখ করা হয়েছে।

আপসনামার ওই অংশে বলা হয়েছে, ‘নজরুল ইসলাম জামিন পাইলে আমি কিংবা আমার পরিবারের কারো কোনো আপত্তি নাই।’

এরপর বলা হয়েছে, ‘আসামিদ্বয় জামিন পাইলে উভয়পক্ষ হৃদ্যতাপূর্ণ ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখিয়া চলিতে একান্তভাবে চেষ্টা করিব।’

এ ছাড়া বিচারাধীন মামলা সম্পর্কে আপসনামায় বলা হয়েছে, ‘বিচারাধীন বিষয়ে উভয়পক্ষ নির্লিপ্ত থাকিয়া বিচারকার্যে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করিব।’

আপসনামার শেষাংশে বলা হয়েছে, উভয়পক্ষ স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে এবং অন্য কারও দ্বারা প্ররোচিত না হয়ে আপসনামাটি পাঠ করে এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে সম্যক অবগত হয়ে তাতে স্বাক্ষর করেছেন।

নথিতে আপসনামাটি ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সত্যায়িত করা হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। এতে প্রথমপক্ষ ও দ্বিতীয়পক্ষের স্বাক্ষরের পাশাপাশি শনাক্তকারীর স্বাক্ষরও রয়েছে।

Share this news as a Photo Card