নিউইয়র্ক ০৫:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তুরস্কে ১৭ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি, চাপে এরদোয়ান

  • আপডেটের সময় : ০২:০৫:৪১ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

তুরস্কে এক বিশাল শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি সামনে এসেছে। প্রায় পাঁচ লাখ সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে ১৭ বিলিয়ন ডলার (প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা) হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া ও নিয়মবহির্ভূত বিনিয়োগ ফান্ডের মাধ্যমে এই বিপুল অর্থ তোলা হয়। 

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর দেশটির পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা অন্তত ১৩০টি ফান্ড একসঙ্গে বন্ধ করে দিয়েছে। এর জেরে শেয়ারবাজারে মারাত্মক ধস নেমেছে। ঘটনাটি এখন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে।

তদন্তে জানা গেছে, এই ফান্ডগুলো বাজারে কম দামের কিছু শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে অস্বাভাবিক হারে বাড়িয়ে দিত। উদাহরণ হিসেবে বলা হচ্ছে, একটি ফান্ড গত এক বছরে দেড় হাজার শতাংশের বেশি লাভ দেখিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করেছিল। তবে এই প্রতারণার পেছনে সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগসাজশ ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউজ ও ফান্ডের পরিচালনা পর্ষদে এরদোগানের সাবেক ও বর্তমান উপদেষ্টা, সরকারি পদাধিকারী এবং মন্ত্রীদের স্বজনদের নামও পাওয়া গেছে।

বিতর্ক বাড়তেই ক্ষমতাসীন দলের গুরুত্বপূর্ণ নেত্রী ও সাবেক মন্ত্রী ফাতেমা বেতুল সায়ান কায়া রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। অভিযোগ, শেয়ারবাজারে ধস নামার ঠিক আগে তিনি নিজের সব শেয়ার অস্বাভাবিক দামে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন।

ইতোমধ্যে প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত একাধিক ফান্ডের চেয়ারম্যান ও দায়িত্বশীলদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে বর্তমান উপ-অর্থমন্ত্রীর জামাতাও রয়েছেন। তিনি একটি বিতর্কিত শেয়ার কারসাজিতে মূল ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে অভিযোগ।

পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠায় প্রেসিডেন্ট এরদোগান কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জনগণের কষ্টের টাকায় যারা হাত দিয়েছে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

প্রতারিত বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ দিতে কর্তৃপক্ষ ছয় মাসের সময়সীমা বেঁধে দিলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ মানুষ তাদের বিনিয়োগের খুব সামান্য অংশই ফেরত পেতে পারেন।

যারা টাকা হারিয়েছেন, তাদের অনেকেই এরদোগানের সমর্থক। ফলে আগামী নির্বাচন এবং রাজনৈতিক মাঠে এই ঘটনা সরকারের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

সোমালিয়ায় জিম্মি ট্যাংকারে ৫ নাবিককে হত্যা, ১৬ জন আটক

নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যেই রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

তুরস্কে ১৭ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি, চাপে এরদোয়ান

আপডেটের সময় : ০২:০৫:৪১ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তুরস্কে এক বিশাল শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি সামনে এসেছে। প্রায় পাঁচ লাখ সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে ১৭ বিলিয়ন ডলার (প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা) হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া ও নিয়মবহির্ভূত বিনিয়োগ ফান্ডের মাধ্যমে এই বিপুল অর্থ তোলা হয়। 

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর দেশটির পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা অন্তত ১৩০টি ফান্ড একসঙ্গে বন্ধ করে দিয়েছে। এর জেরে শেয়ারবাজারে মারাত্মক ধস নেমেছে। ঘটনাটি এখন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে।

তদন্তে জানা গেছে, এই ফান্ডগুলো বাজারে কম দামের কিছু শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে অস্বাভাবিক হারে বাড়িয়ে দিত। উদাহরণ হিসেবে বলা হচ্ছে, একটি ফান্ড গত এক বছরে দেড় হাজার শতাংশের বেশি লাভ দেখিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করেছিল। তবে এই প্রতারণার পেছনে সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগসাজশ ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউজ ও ফান্ডের পরিচালনা পর্ষদে এরদোগানের সাবেক ও বর্তমান উপদেষ্টা, সরকারি পদাধিকারী এবং মন্ত্রীদের স্বজনদের নামও পাওয়া গেছে।

বিতর্ক বাড়তেই ক্ষমতাসীন দলের গুরুত্বপূর্ণ নেত্রী ও সাবেক মন্ত্রী ফাতেমা বেতুল সায়ান কায়া রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। অভিযোগ, শেয়ারবাজারে ধস নামার ঠিক আগে তিনি নিজের সব শেয়ার অস্বাভাবিক দামে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন।

ইতোমধ্যে প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত একাধিক ফান্ডের চেয়ারম্যান ও দায়িত্বশীলদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে বর্তমান উপ-অর্থমন্ত্রীর জামাতাও রয়েছেন। তিনি একটি বিতর্কিত শেয়ার কারসাজিতে মূল ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে অভিযোগ।

পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠায় প্রেসিডেন্ট এরদোগান কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জনগণের কষ্টের টাকায় যারা হাত দিয়েছে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

প্রতারিত বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ দিতে কর্তৃপক্ষ ছয় মাসের সময়সীমা বেঁধে দিলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ মানুষ তাদের বিনিয়োগের খুব সামান্য অংশই ফেরত পেতে পারেন।

যারা টাকা হারিয়েছেন, তাদের অনেকেই এরদোগানের সমর্থক। ফলে আগামী নির্বাচন এবং রাজনৈতিক মাঠে এই ঘটনা সরকারের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

Share this news as a Photo Card