নিউইয়র্ক ০৫:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াতকে হেফাজতের কাছ থেকে ইসলামের প্রচার শেখা উচিৎ: রাশেদ খাঁন

  • আপডেটের সময় : ০১:০১:০৪ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামি মূল্যবোধের প্রচার কীভাবে করতে হয়, তা হেফাজতে ইসলামের কাছ থেকে জামায়াতে ইসলামীর শেখা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে হেফাজতে ইসলামের আমির ইসলামি মূল্যবোধসম্পন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। বিশেষ করে ইসলামকে পুঁজি করে ও ইসলামি লেবাস ধারণ করে যারা প্রকৃতপক্ষে ইসলামের ক্ষতি করছেন, তাদের কর্মকাণ্ড তিনি উন্মোচন করেছেন। এতে বিভ্রান্ত হওয়া অনেক মানুষ সচেতন হয়েছেন।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর এলাকায় আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলূম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ খাঁন বলেন, নির্বাচনের আগে জান্নাতের টিকিট বিতরণের নামে মানুষকে যেভাবে বিভ্রান্ত করা হচ্ছিল, সেই বিভ্রান্তি দূর করে মানুষকে সচেতন করার জন্য হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমিরকে ধন্যবাদ জানাই। বিএনপির পক্ষ থেকেও তাকে ধন্যবাদ জানাই। ইসলামের প্রচার ও প্রসারে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, যারা ইসলামের কথা বলছেন, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীকে পরামর্শ দেব—ইসলামী মূল্যবোধের প্রচার কীভাবে করতে হয়, তা হেফাজতে ইসলামের কাছ থেকে শিখুন। আপনারা ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধ থেকে যোজন যোজন দূরে সরে গেছেন। দেশের জনগণ জামায়াতের কাছ থেকে এমনটা প্রত্যাশা করে না।

তিনি বলেন, একদিকে ইসলামের কথা বলছেন, অন্যদিকে জামায়াতের কর্মকাণ্ড ও কথাবার্তার সঙ্গে ইসলামের একধরনের বৈসাদৃশ্য রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী যেহেতু নিজেদের ইসলামি রাজনীতির অনুসারী বলে দাবি করে এবং শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠা করতে চায়, সেহেতু তাদের বলব, ইসলামি মূল্যবোধের কথা বলে ইসলামের বুকে ছুরি মারবেন না।

রাশেদ খাঁন বলেন, মাঠে-ময়দানে জামায়াত যেসব রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছে, তা নিয়ে জাতি বিভ্রান্ত হচ্ছে।

হেফাজতে ইসলামের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির বলেছেন, এই সরকারকে সবার সহযোগিতা করা উচিত। সাত মাসের এই সরকারের বিরুদ্ধে সহযোগিতা না করে কেন লংমার্চ করা হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তিনি আমাদের কাছে তুলেছেন।

তিনি বলেন, যারা একসঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রাম করে ফ্যাসিবাদকে হটিয়েছেন, তাদের সবার দায়িত্ব ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ রেখে রাষ্ট্র পুনর্গঠন করা।

জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন, এই মুহূর্তে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে জামায়াতে ইসলামীর কোনো মনোযোগ নেই। ইসলামকে পুঁজি করে, মানুষকে বিভ্রান্ত করে এবং মুনাফিকির আশ্রয় নিয়ে কীভাবে ক্ষমতায় যাওয়া যায়, জামায়াতে ইসলামী সেই চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, জামায়াতের এই মুনাফিকি আচরণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে এবং ইসলামের কাণ্ডারি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। এ জন্য হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির ও সংগঠনটির সব নেতাকে ধন্যবাদ জানাই।

সৌজন্য সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীমসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের চাপে বাজারে মজুত ডিজেল ছাড়তে যাচ্ছে ইউরোপ

ফের হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও আঘাতের পরিকল্পনা ইরানের

০২ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

জামায়াতকে হেফাজতের কাছ থেকে ইসলামের প্রচার শেখা উচিৎ: রাশেদ খাঁন

আপডেটের সময় : ০১:০১:০৪ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

ইসলামি মূল্যবোধের প্রচার কীভাবে করতে হয়, তা হেফাজতে ইসলামের কাছ থেকে জামায়াতে ইসলামীর শেখা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে হেফাজতে ইসলামের আমির ইসলামি মূল্যবোধসম্পন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। বিশেষ করে ইসলামকে পুঁজি করে ও ইসলামি লেবাস ধারণ করে যারা প্রকৃতপক্ষে ইসলামের ক্ষতি করছেন, তাদের কর্মকাণ্ড তিনি উন্মোচন করেছেন। এতে বিভ্রান্ত হওয়া অনেক মানুষ সচেতন হয়েছেন।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর এলাকায় আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলূম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ খাঁন বলেন, নির্বাচনের আগে জান্নাতের টিকিট বিতরণের নামে মানুষকে যেভাবে বিভ্রান্ত করা হচ্ছিল, সেই বিভ্রান্তি দূর করে মানুষকে সচেতন করার জন্য হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমিরকে ধন্যবাদ জানাই। বিএনপির পক্ষ থেকেও তাকে ধন্যবাদ জানাই। ইসলামের প্রচার ও প্রসারে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, যারা ইসলামের কথা বলছেন, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীকে পরামর্শ দেব—ইসলামী মূল্যবোধের প্রচার কীভাবে করতে হয়, তা হেফাজতে ইসলামের কাছ থেকে শিখুন। আপনারা ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধ থেকে যোজন যোজন দূরে সরে গেছেন। দেশের জনগণ জামায়াতের কাছ থেকে এমনটা প্রত্যাশা করে না।

তিনি বলেন, একদিকে ইসলামের কথা বলছেন, অন্যদিকে জামায়াতের কর্মকাণ্ড ও কথাবার্তার সঙ্গে ইসলামের একধরনের বৈসাদৃশ্য রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী যেহেতু নিজেদের ইসলামি রাজনীতির অনুসারী বলে দাবি করে এবং শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠা করতে চায়, সেহেতু তাদের বলব, ইসলামি মূল্যবোধের কথা বলে ইসলামের বুকে ছুরি মারবেন না।

রাশেদ খাঁন বলেন, মাঠে-ময়দানে জামায়াত যেসব রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছে, তা নিয়ে জাতি বিভ্রান্ত হচ্ছে।

হেফাজতে ইসলামের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির বলেছেন, এই সরকারকে সবার সহযোগিতা করা উচিত। সাত মাসের এই সরকারের বিরুদ্ধে সহযোগিতা না করে কেন লংমার্চ করা হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তিনি আমাদের কাছে তুলেছেন।

তিনি বলেন, যারা একসঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রাম করে ফ্যাসিবাদকে হটিয়েছেন, তাদের সবার দায়িত্ব ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ রেখে রাষ্ট্র পুনর্গঠন করা।

জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন, এই মুহূর্তে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে জামায়াতে ইসলামীর কোনো মনোযোগ নেই। ইসলামকে পুঁজি করে, মানুষকে বিভ্রান্ত করে এবং মুনাফিকির আশ্রয় নিয়ে কীভাবে ক্ষমতায় যাওয়া যায়, জামায়াতে ইসলামী সেই চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, জামায়াতের এই মুনাফিকি আচরণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে এবং ইসলামের কাণ্ডারি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। এ জন্য হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির ও সংগঠনটির সব নেতাকে ধন্যবাদ জানাই।

সৌজন্য সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীমসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা।

Share this news as a Photo Card